সিলেট

সিলেটে প্রভাষক সেজে ৪ বছর ধরে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, তদন্তে শিক্ষা বোর্ড

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৬ আগস্ট ২০২৬ ১১:৫৩

সিলেটে প্রভাষক সেজে ৪ বছর ধরে এইচএসসির খাতা মূল্যায়ন, তদন্তে শিক্ষা বোর্ড

ছবি: সংগৃহীত

সিলেট নগরীর শিবগঞ্জ এলাকার গ্রিনহিল স্টেট কলেজের এক অফিস সহকারী নিজেকে প্রভাষক পরিচয় দিয়ে চার বছর ধরে উচ্চমাধ্যমিক (এইচএসসি) পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নের দায়িত্ব পালন করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি ধরা পড়ার পর সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে উদ্যোগ নিয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড।

জানা গেছে, কলেজটির অফিস সহকারী জয়ন্ত দত্ত চলতি বছরও বাংলা প্রথম পত্রের পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ৫৫৪ জন পরীক্ষার্থীর উত্তরপত্র মূল্যায়ন করে বোর্ডে জমা দিয়েছেন। এ ঘটনায় তাকে পরীক্ষক হিসেবে সুপারিশ করায় মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছে সিলেট শিক্ষা বোর্ড।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, পরীক্ষক হতে নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতাসহ বোর্ডের সব শর্ত পূরণ করতে হয়। যোগ্যতা ছাড়া কেউ পরীক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করলে তা গুরুতর অনিয়ম এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১০ সালে প্রতিষ্ঠিত গ্রিনহিল স্টেট কলেজে ২০১১ সাল থেকে অফিস সহকারী হিসেবে কর্মরত রয়েছেন জয়ন্ত দত্ত। তিনি সিলেটের মুরারিচাঁদ (এমসি) কলেজ থেকে পাস কোর্সে স্নাতক সম্পন্ন করেন এবং ২০১৯ সালে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন।

সিলেট শিক্ষা বোর্ডের নীতিমালা অনুযায়ী, যে শিক্ষক যে বিষয়ে পাঠদান করেন, কেবল সেই বিষয়েই পরীক্ষক হওয়ার জন্য আবেদন করতে পারেন। এছাড়া কলেজ পর্যায়ে পরীক্ষক হতে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি থাকা বাধ্যতামূলক।

কলেজের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জয়ন্ত দত্ত এখনও অফিস সহকারী পদেই কর্মরত। তিনি পাস কোর্সে স্নাতক সম্পন্ন করায় নিয়ম অনুযায়ী প্রভাষক পদে নিয়োগ পাওয়ারও সুযোগ ছিল না।

অভিযোগের বিষয়ে জয়ন্ত দত্ত বলেন, কলেজ প্রতিষ্ঠার পর থেকেই তিনি কর্মরত। ২০১৯ সালে বাংলা বিষয়ে স্নাতকোত্তর শেষ করার পর শিক্ষক সংকট থাকায় বাংলা বিষয়ে পাঠদান শুরু করেন। প্রভাষক হিসেবে নিয়োগপত্র সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি দাবি করেন, প্রয়াত অধ্যক্ষ প্রশান্ত কুমার সাহার কাছে নিয়োগপত্রটি ছিল। তার মৃত্যুর পর সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায়নি এবং নিজের কাছেও কোনো অনুলিপি নেই।

এদিকে কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সীতেশ রঞ্জন বর্মন জানান, শিক্ষক হিসেবে জয়ন্ত দত্তের নিয়োগপত্র তার কাছে নেই, সেটি কলেজ পরিচালনা পর্ষদের কাছে রয়েছে। তবে পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক দিগ্বিজয় চক্রবর্তী দাবি করেন, নিয়োগপত্র ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের কাছেই সংরক্ষিত আছে।

যোগ্যতা না থাকা সত্ত্বেও জয়ন্ত দত্ত কীভাবে পরীক্ষক হিসেবে অনুমোদন পেলেন-এ বিষয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে দেখা দিয়েছে পরস্পরবিরোধিতা। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ দাবি করেন, পরীক্ষকের আবেদন তিনি অনুমোদন দেননি, এটি পরিচালনা পর্ষদের সমন্বয়ক করেছেন। অন্যদিকে সমন্বয়ক দিগ্বিজয় চক্রবর্তী বলেন, আবেদনটি অনুমোদন দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষই।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন