ছবি সংগৃহীত :
বর্তমানের এই কঠিন প্রতিযোগিতার যুগে ব্যবসা-বাণিজ্যে টিকে থাকা এবং তাতে কাঙ্ক্ষিত লাভ করা বেশ চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক সময় দেখা যায়, পুঁজি আর মেধা খাটিয়েও ব্যবসায় বরকত মিলছে না, বরং দুশ্চিন্তা আর পেরেশানি কেবল বাড়ছেই। ইসলাম আমাদের শেখায় যে, কেবল বাহ্যিক প্রচেষ্টা নয়, বরং রিজিকের মালিক মহান আল্লাহর সাথে সুসম্পর্ক স্থাপনই হলো সফলতার মূল চাবিকাঠি।
বিশ্ববিখ্যাত ইসলামি বিদ্যাপীঠ দারুল উলুম দেওবন্দের ‘দারুল ইফতা’ থেকে এক ব্যক্তির সমস্যার প্রেক্ষিতে ব্যবসায় বরকত লাভের জন্য অত্যন্ত কার্যকরী কিছু পরামর্শ প্রদান করা হয়েছে। ফতোয়াটিতে ব্যবসার স্থবিরতা কাটাতে এবং জীবনে অবিশ্বাস্য পরিবর্তন আনতে নিচের তিনটি আমল নিয়মিত করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিজ্ঞ আলেমরা:
১. সততা ও শরিয়াহসম্মত পদ্ধতি অবলম্বন
ব্যবসায় বরকতের প্রথম ও প্রধান শর্ত হলো এর মাধ্যমটি হালাল হওয়া।
ফতোয়ায় উল্লেখ করা হয়েছে, ব্যবসায়িক লেনদেনে কোনো প্রকার মিথ্যা বলা, ভুল তথ্য দিয়ে ক্রেতাকে বিভ্রান্ত করা কিংবা ধোঁকা দেওয়া থেকে পুরোপুরি বিরত থাকতে হবে। বিশেষ করে ওজনে কম দেওয়া বা মাপে কারচুপি করা ব্যবসার বরকত নষ্ট করে দেয়। তাই আপনার ব্যবসাকে শতভাগ সততার ওপর দাঁড় করান, ইনশাআল্লাহ অদৃশ্যভাবে আল্লাহ তাআলা আপনার কাজে সাহায্য করবেন।
২. সকালের বিশেষ কোরআনি আমল
প্রতিদিন সকালে দিনের কাজ বা ব্যবসা শুরু করার আগে পবিত্র কোরআনের একটি বিশেষ আয়াত পাঠ করার চমৎকার ফজিলত রয়েছে। দারুল উলুম দেওবন্দের দারুল ইফতার পরামর্শ অনুযায়ী, প্রতিদিন সকালে কাজ শুরুর আগে সুরা শুরার ১৯ নম্বর আয়াতটি সাতবার পাঠ করুন।
আয়াতটি হলো (আরবি উচ্চারণ): ‘আল্লাহু লাতিফুম বি-ইবাদিহি ইয়ারযুকু মাই ইয়াশাউ ওয়া হুয়াল কাভিয়্যুল আজিজ।’
অর্থ: আল্লাহ তাঁর বান্দাদের প্রতি অতি দয়ালু। তিনি যাকে ইচ্ছা রিজিক দান করেন। আর তিনি মহাশক্তিধর, মহাপরাক্রমশালী।
নিয়মিত এই আমলটি করলে ব্যবসায়িক অচলাবস্থা দূর হয় এবং রিজিকের প্রশস্ততা তৈরি হয়।
৩. নামাজের পর আয়াতুল কুরসি ও বিশেষ দোয়া পাঠ
প্রতিটি ফরজ নামাজের পর গুরুত্বের সাথে ‘আয়াতুল কুরসি’ পাঠ করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। এটি ব্যবসার নিরাপত্তা ও উন্নতির জন্য অত্যন্ত কার্যকর। এ ছাড়া ব্যবসার পেরেশানি দূর করতে এবং অন্যের মুখাপেক্ষী না হতে নিচের দোয়াটি নিয়মিত পাঠ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে:
উচ্চারণ: ‘আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াক।’ (তিরমিজি: ৩৫৬৩)
বাংলা অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার দেওয়া হালাল দ্বারা আমাকে হারাম থেকে যথেষ্ট করে দিন এবং আপনার অনুগ্রহে আমাকে আপনি ছাড়া অন্য সবার মুখাপেক্ষী হওয়া থেকে মুক্ত করে দিন।
নামাজের পরের সময়টি দোয়া কবুলের অন্যতম সময়। তাই এই দুটি তাসবিহ পাঠের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে আপনার ব্যবসার উন্নতির জন্য সাহায্য
ব্যবসায়িক উন্নতির সাথে জীবনের সংশোধন-
অনেক সময় নিজের কৃত গোনাহের কারণেও রিজিকের পথে বাধা সৃষ্টি হয়। তাই কেবল দোয়া করাই যথেষ্ট নয়, বরং গোনাহ ত্যাগের সংকল্পও জরুরি। দেওবন্দের ফতোয়ায় বলা হয়েছে, গোনাহ ছাড়তে হলে মনের দৃঢ় ইচ্ছাশক্তি প্রয়োজন। এজন্য পেছনের ভুলের জন্য তওবা করতে হবে এবং ভবিষ্যতে গোনাহ না করার পাক্কা সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে একাকিত্ব বর্জন করা, নফল রোজা রাখা এবং সম্ভব হলে বিয়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। জীবনকে সঠিক পথে পরিচালিত করতে কোনো হক্কানি বুজুর্গের দিকনির্দেশনা মেনে চলা অত্যন্ত কার্যকর বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
তথ্যসূত্র: দারুল ইফতা (দারুল উলুম দেওবন্দ)
ধর্ম থেকে আরো পড়ুন