সিলেট

রায়হান হত্যা মামলার রায়, আসামিরা পলাতক থাকায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২৯ অক্টোবর ২০২৬ ১৫:২৬

রায়হান হত্যা মামলার রায়, আসামিরা পলাতক থাকায় ক্ষুব্ধ স্বজনরা

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে নির্যাতনে নিহত রায়হান আহমদ হত্যা মামলার রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে আদালতপাড়ায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘ ছয় বছরের অপেক্ষার পর রায় ঘোষণার দিনেও প্রধান আসামিসহ পাঁচ আসামি পলাতক থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন নিহত রায়হানের মা সালমা বেগম।

বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে কারাগারে থাকা মামলার একমাত্র আসামি পুলিশের বহিষ্কৃত এএসআই আশেক এলাহীকে আদালতে আনা হয়। বেলা দুইটার পর সিলেট মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক আব্দুল মজিদ মুন্সী রায় পড়া শুরু করেন।

রায় ঘোষণার আগে আদালতে উপস্থিত হন নিহত রায়হান আহমদের মা সালমা বেগম। আসামিদের জামিন পাওয়া এবং পরবর্তী সময়ে পলাতক হয়ে যাওয়ার ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, “দীর্ঘ ছয় বছর পর আজ রায় ঘোষণা হবে। কিন্তু এই রায় শুনে আমি কী করব? আমার রায়হানকে যারা নির্যাতন করে মেরেছে, তারা তো পালিয়ে গেছে।”

তিনি আরও বলেন, “আওয়ামী লীগ সরকার থাকতে একজনেরও জামিন হয়নি। কিন্তু ২০২৫ সালে এসে মামলার আর্গুমেন্ট শেষ হওয়ার পর কীভাবে প্রথম তিনজন আসামি জামিন পেলেন? জামিন পেয়ে কীভাবে তাঁরা পালিয়ে গেলেন? আজ শুধু কাগজে-কলমে রায় হবে। আসামিরা শাস্তি পাচ্ছেন না। তাঁরা শাস্তি না পেলে আমার ছয় বছরের অপেক্ষা আর কষ্ট বিফলে যাবে।”

যেভাবে নির্যাতনে মৃত্যু হয় রায়হানের
২০২০ সালের ১০ অক্টোবর রাতে সিলেট মহানগর পুলিশের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে তুলে নিয়ে রায়হান আহমদকে নির্যাতন করা হয়। পরদিন ১১ অক্টোবর তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় রায়হানের স্ত্রী পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু (নিবারণ) আইনে মামলা করেন। তদন্তে নির্যাতনের সত্যতা উঠে আসে।

ঘটনার পর বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির তৎকালীন ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। পরে মামলার তদন্তের দায়িত্ব পায় পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

২০২০ সালের ৯ নভেম্বর কানাইঘাট সীমান্ত এলাকা থেকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে এ মামলায় কনস্টেবল হারুন অর রশিদসহ আরও কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

অভিযোগপত্রে ছয় আসামি
২০২১ সালের ৫ মে পিবিআই আদালতে ছয়জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেয়। অভিযুক্তরা হলেন—বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির সাবেক ইনচার্জ এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া, এএসআই আশেক এলাহী, কনস্টেবল মো. হারুন অর রশিদ, কনস্টেবল টিটু চন্দ্র দাস, এসআই মো. হাসান উদ্দিন এবং আবদুল্লাহ আল নোমান। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

প্রধান আসামিসহ পাঁচজন পলাতক
আদালত সূত্রের বরাতে জানা যায়, মামলার প্রধান আসামি সাবেক এসআই আকবর হোসেন ভূঁইয়া হাইকোর্ট থেকে জামিন পাওয়ার পর কারাগার থেকে মুক্তি পান। পরবর্তী সময়ে তাঁর জামিন স্থগিত হলেও তিনি নিম্ন আদালতে আত্মসমর্পণ না করে পলাতক রয়েছেন।

মামলার বাকি আসামিদের মধ্যে একমাত্র কারাগারে থাকা আশেক এলাহীকে রায় ঘোষণার দিন আদালতে হাজির করা হয়। অন্য পাঁচ আসামি পলাতক থাকায় তাঁদের অনুপস্থিতিতেই রায় ঘোষণার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

রায়হান হত্যা মামলার রায়কে ঘিরে নিহতের পরিবারের প্রত্যাশা, দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। তবে প্রধান আসামিসহ অন্য অভিযুক্তদের পলাতক থাকা এবং জামিনের বিষয়টি তাঁদের উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।

সম্পাদনা-সংক্রান্ত নোট: প্রকাশের আগে রায়ের তারিখ ও বছর, আসামিদের জামিনের সুনির্দিষ্ট তথ্য এবং রায় ঘোষণার বর্তমান অবস্থা যাচাই করে নেবেন। আপনার দেওয়া তথ্যে বৃহস্পতিবার ১৯ অক্টোবরের উল্লেখ রয়েছে, তবে বছর ও ঘটনাকালের মধ্যে অসংগতি থাকতে পারে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন