সিলেট

সুনামগঞ্জে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অভিযোগে যুবক আটক

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:১৪

সুনামগঞ্জে মহানবী (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অভিযোগে যুবক আটক

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করার অভিযোগে কৃপেশ রায় (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগ অস্বীকার করে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন কৃপেশ রায়।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) দুপুরে তাকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। কৃপেশ রায় তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়নের রাজারগাঁও গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য হলেও বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় এলাকাবাসী ও মুসল্লিদের সূত্রে জানা যায়, গত ২৫ অক্টোবর ‘Kripash Ray’ নামের একটি ফেসবুক আইডি থেকে মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.)-কে নিয়ে অবমাননাকর ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্যসংবলিত একটি পোস্ট দেওয়া হয়। বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। একপর্যায়ে স্থানীয় মুসল্লি ও এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।

স্থানীয়দের আশঙ্কা, এ ধরনের ঘটনা ধর্মীয় সম্প্রীতি বিনষ্ট করে এলাকায় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে পারে। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন।

এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে কৃপেশ রায় দাবি করেছেন, একই গ্রামের বাসিন্দা তার আপন চাচাতো ভাই পন্টি রায়ের সঙ্গে পারিবারিক জমিজমা নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধের জেরে তাকে ফাঁসানোর উদ্দেশ্যে তার ফেসবুক আইডি ব্যবহার করে অথবা ভুয়া পোস্টের মাধ্যমে এ ধরনের মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি সুরক্ষা চেয়ে সোমবার সকালে তিনি নিজেই তাহিরপুর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলে দাবি করেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে রাজারগাঁও গ্রামের কৃপেশ রায়ের এক প্রতিবেশী জানান, কৃপেশ বাংলাদেশ পুলিশে চাকরি করতেন। প্রায় ছয় মাস ধরে তাকে বাড়িতে থাকতে দেখছেন তিনি। তবে কৃপেশ চাকরি ছেড়েছেন কি না, তা জানেন না। প্রতিবেশীদের সঙ্গে তার তেমন যোগাযোগও নেই। ওই প্রতিবেশী আরও জানান, মাসখানেক আগে কৃপেশ রায়ের নামে একটি নতুন ফেসবুক আইডি থেকে তাদের কয়েকজন বন্ধুকে ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পাঠানো হয়েছিল। আইডিটি সন্দেহজনক মনে হওয়ায় তিনি সেই অনুরোধ গ্রহণ করেননি।

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কৃপেশ রায় বাংলাদেশ পুলিশের একজন সদস্য এবং বর্তমানে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। তাকে ফাঁসানোর জন্য একটি চক্র এ ধরনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এ বিষয়ে সোমবার সকালে তিনি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

ওসি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কৃপেশ রায়কে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় এলাকায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি বা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি না হয়, সে জন্য রাজারগাঁও গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অভিযোগের বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন