প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬ ১১:০৫
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলা সদরে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদ ও ইসলামিক সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের কাজ ছয় বছরেও শেষ হয়নি। অথচ মাত্র ১৮ মাসের মধ্যে নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার কথা ছিল।
দীর্ঘ সময় ধরে ধীরগতিতে কাজ চলার পর গত ছয় মাস ধরে পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে নির্মাণকাজ। এতে মসজিদটি চালু হওয়ার অপেক্ষায় থাকা স্থানীয় মুসল্লিদের মধ্যে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে।
উপজেলা পরিষদ চত্বরে ১১ কোটি ৭৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন মডেল মসজিদটির কাজ পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান বিশ্বাস বিল্ডার্স। ১৮ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্তে ২০১৯ সালের ৩ এপ্রিল নির্মাণকাজ শুরুর কথা ছিল। তবে জায়গা নির্ধারণ, পুরোনো মসজিদ ভাঙা, পুকুর ভরাট, করোনা মহামারি, বন্যা ও অর্থায়নসংক্রান্ত জটিলতাসহ নানা কারণে নির্ধারিত সময়ে কাজ শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে ২০২০ সালে নির্মাণকাজ শুরু হয়।
সুনামগঞ্জ জেলা গণপূর্ত বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সারা দেশে ৫৬০টি মডেল মসজিদ নির্মাণ প্রকল্পের আওতায় সুনামগঞ্জের ১২টি উপজেলায় ১২টি এবং জেলা সদরে একটি, মোট ১৩টি মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এসব মসজিদ নির্মাণে ব্যয় ধরা হয় প্রায় ১৮৫ কোটি টাকা। তবে প্রকল্পের অংশ হিসেবে তাহিরপুরে নির্মাণাধীন মসজিদটির কাজ দীর্ঘ সময়েও শেষ হয়নি।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, মডেল মসজিদগুলোতে ইসলামিক প্রশিক্ষণ ও অটিজম সেন্টার, নারী ও পুরুষের জন্য পৃথক নামাজের স্থান, সম্মেলনকক্ষ, অতিথিকক্ষ এবং ফুলের বাগানসহ বিভিন্ন সুবিধা থাকার কথা রয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা পরিষদ চত্বরে নির্মাণাধীন মসজিদটির কাজ দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে। নির্মাণসামগ্রী পড়ে থাকলেও সেখানে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কাউকে পাওয়া যায়নি। স্থানীয় এক বৃদ্ধকে নির্মাণসামগ্রী দেখাশোনা করতে দেখা গেছে। ৬ বছর ধরে টিনশেড একটি অস্থায়ী বিল্ডিংয়ে নামাজ আদায় করছেন মুসল্লিরা। কবে নাগাদ আবার কাজ শুরু হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় মুসল্লিরা জানান, উপজেলা সদরে একটি আধুনিক মডেল মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় তাঁরা আশাবাদী ছিলেন। কিন্তু বছরের পর বছর পেরিয়ে গেলেও কাজ শেষ না হওয়ায় তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণ হচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণকাজ বন্ধ থাকায় প্রকল্পটির ভবিষ্যৎ নিয়েও তারা উদ্বিগ্ন।
স্থানীয় মুসল্লি আব্দুস সালাম বলেন, মডেল মসজিদটি নির্মাণ হলে আমরা সুন্দর ও পরিবেশবান্ধব জায়গায় নামাজ আদায়ের সুযোগ পেতাম। কিন্তু ছয় বছরেও কাজ শেষ হলো না। আমরা স্থানীয়রা গত বছর কাজের ধীরগতির কারণে মানববন্ধন করেছি। পরে কিছুদিন কাজ করতে দেখা যায়। এখন আবার ছয় মাস ধরে কাজ বন্ধ। আমরা চাই, দ্রুত জটিলতা নিরসন করে নির্মাণকাজ শেষ করা হোক।
আরেক মুসল্লি শিপন মিয়া বলেন, সরকার এত টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, অথচ মসজিদটি এখনো চালু করা যাচ্ছে না। সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর ও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে মূলত এত দিনেও নির্মাণকাজ শেষ হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ব্যবস্থা নিয়ে মসজিদটি চালু করা।
স্থানীয় যুবক জুবায়ের আহমদ লিংকন বলেন, আমরা দেখেছি বিভিন্ন জায়গায় মডেল মসজিদের কাজ শেষ এবং কার্যক্রমও শুরু হয়ে গেছে। আমাদের উপজেলা মডেল মসজিদের কাজ কবে যে শেষ হবে আল্লাহই ভালো জানেন। আমরা চাই ভালো কোনো ঠিকাদার দিয়ে নির্মাণ কাজ শেষ করে হস্তান্তর করা হোক।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন সুনামগঞ্জের উপপরিচালক কৃষিবিদ মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতির কারণে তাহিরপুর উপজেলা মডেল মসজিদের নির্মাণকাজ অর্ধযুগেও শেষ হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আমি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত নতুন ঠিকাদারের মাধ্যমে আবার কাজ শুরু হবে।
সুনামগঞ্জ গণপূর্ত অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী রবিউল ইসলাম বলেন, তাহিরপুর উপজেলা মডেল মসজিদ নিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মামলা চলছে। মামলায় আমরা জয়ী হলে পুনরায় দরপত্র আহ্বান করে অন্য কোনো ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ দেওয়া হবে। আশা করছি খুব দ্রুত আবার কাজ শুরু হবে।
তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিপামনি দেবী বলেন, আমি এ উপজেলায় নতুন যোগদান করেছি। আমার বাসভবনের সামনেই মসজিদটির নির্মাণকাজ হচ্ছে। কাজ বন্ধ দেখে আমি সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাকে জানিয়েছেন, দ্রুত কাজ শুরু হবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন