ধর্ম

জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে যেসব দোয়া পড়বেন

ধর্ম ডেস্ক :

ধর্ম ডেস্ক :

প্রকাশ: ০৯ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪৫

জুমার দিন দুই খুতবার মাঝে যেসব দোয়া পড়বেন

ছবি সংগৃহীত :

জুমার দিনটি সপ্তাহের শ্রেষ্ঠ ও বরকতময় একটি দিন। এই দিনে এমন একটি বিশেষ মুহূর্ত রয়েছে, যে সময়ে বান্দা আল্লাহর কাছে যা প্রার্থনা করে, মহান রব তা-ই কবুল করেন। হাদিসের পরিভাষায় একে ‘সাআতুল ইজাবাহ’ বা কবুলিয়াতের মুহূর্ত বলা হয়। দুই খুতবার মধ্যবর্তী এই সংক্ষিপ্ত সময় আল্লাহর রহমতের ভাণ্ডার উন্মুক্ত থাকে, যা মুমিনের জন্য এক অনন্য প্রাপ্তি।

 

 

খুতবার মাঝের সময় ও দোয়া কবুলের মুহূর্ত

সহিহ মুসলিমে বর্ণিত হয়েছে, প্রিয়নবী (সা.) জুমার দিনের এই মূল্যবান মুহূর্তটি সম্পর্কে ইরশাদ করেছেন—

هِيَ مَا بَيْنَ أَنْ يَجْلِسَ الإِمَامُ إِلَى أَنْ تُقْضَى الصَّلَاةُ

‘এই (দোয়া কবুলের) সময়টি হলো, ইমাম মিম্বরে বসা থেকে শুরু করে নামাজ শেষ হওয়া পর্যন্ত।’ (মুসলিম ৮৫৩)

এই হাদিসের আলোকে ফকিহগণ উল্লেখ করেছেন যে, ইমাম যখন দুই খুতবার মাঝে সামান্য সময়ের জন্য বসেন, তখন ইমাম ও মুক্তাদি উভয়ের জন্যই মনে মনে দোয়া করা মোস্তাহাব।

তবে জুমার নামাজের দুই খুতবার মাঝখানে ইমাম সাহেবের বসার সময়টিতে পড়ার জন্য শরিয়ত কর্তৃক নির্দিষ্ট বা বাধ্যতামূলক কোনো খাস দোয়া নেই। যেহেতু নির্দিষ্ট কোনো দোয়া নির্ধারিত নেই, তাই এই বরকতময় সময়ে নিচের যেকোনো একটি বা একাধিক দোয়া একাগ্রচিত্তে পড়া যেতে পারে—

১. ইস্তেগফার পাঠ করা

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الْعَظِيمَ الَّذِي لَا إِلَهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহাল আজিম। আল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুমু ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

অথবা সংক্ষেপে শুধু পড়া যেতে পারে—

أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَأَتُوبُ إِلَيْهِ

উচ্চারণ: ‘আসতাগফিরুল্লাহা ওয়া আতুবু ইলাইহি।’

২. কুরআনের দোয়া

رَبَّنَا آتِنَا فِي الدُّنْيَا حَسَنَةً وَفِي الْآخِرَةِ حَسَنَةً وَقِنَا عَذَابَ النَّارِ

উচ্চারণ: ‘রব্বানা আতিনা ফিদ দুনইয়া হাসানাতাও ওয়া ফিল আখিরাতি হাসানাতাও ওয়া ক্বিনা আজাবান নার।’

অর্থ: ‘হে আমাদের রব! আমাদের দুনিয়াতে কল্যাণ দান করুন এবং আখেরাতেও কল্যাণ দান করুন এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আজাব থেকে রক্ষা করুন।’ (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ২০১)

৩. রহমত ও ক্ষমার দো‘আ

رَبِّ اغْفِرْ وَارْحَمْ وَأَنْتَ خَيْرُ الرَّاحِمِينَ

উচ্চারণ: ‘রব্বিগফির ওয়ারহাম ওয়া আংতা খায়রুর রাহিমিন।’

অর্থ: ‘হে আমার রব! ক্ষমা করুন ও দয়া করুন, আর আপনিই তো সর্বশ্রেষ্ঠ দয়ালু।’ (সুরা আল-মুমিনুন: আয়াত ১১৮)

৪. দরুদ শরিফ পাঠ

যেহেতু জুমার দিনে প্রিয়নবীর ওপর বেশি বেশি দরুদ শরিফ পড়ার বিশেষ তাগিদ রয়েছে, তাই এই সংক্ষিপ্ত সময়ে নবীজি (সা.)-এর ওপর ছোট দরুদ যেমন—صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ

উচ্চারণ: ‘সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।’ অথবা দরুদে ইবরাহিম পাঠ করা যায়।

জুমার দিনের দুই খুতবার মাঝের এই সংক্ষিপ্ত সময়টি মুমিনের জন্য অত্যন্ত সৌভাগ্যের ও ক্ষমার পরশ বুলিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত। নির্দিষ্ট কোনো দোয়া বাঁধার পরিবর্তে কোরআন ও হাদিসে বর্ণিত সুন্দর সুন্দর ইস্তেগফার ও মুনাজাতের মাধ্যমে এই সময়টিকে কাজে লাগালে মহান আল্লাহর অশেষ কৃপা ও মঞ্জুরি লাভ করা সম্ভব। আল্লাহ তাআলা আমাদের প্রত্যেককে জুমার আদব রক্ষা করে এই বরকতময় মুহূর্তের সঠিক সদ্ব্যবহার করার তৌফিক দান করুন। আমিন।

ধর্ম থেকে আরো পড়ুন