সিলেট

সুনামগঞ্জে প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেফতার

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৭:৫৫

সুনামগঞ্জে প্রেমিক-প্রেমিকা গ্রেফতার

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে এক নারীর ছবি সংগ্রহ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির মাধ্যমে বিকৃত ও অশ্লীলভাবে সম্পাদনা করে ছড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগে পিকলু সরকার (৩০) ও তুষ্টি তালুকদার (২৮) নামে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)।

গ্রেফতার দুজন সম্পর্কে প্রেমিক-প্রেমিকা বলে জানা গেছে। 

সোমবার(২১সেপ্টেম্বর) সিলেটে দায়ের করা একটি সাইবার মামলায় তাদের গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃত পিকলু সরকার সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার রফিনগর ইউনিয়নের সজনপুর গ্রামের নগেন্দ্র সরকারের ছেলে। অপর আসামি তুষ্টি তালুকদার একই ইউনিয়নের খাঘাউড়া গ্রামের রমা তালুকদারের মেয়ে এবং ধামাইল শিল্পী হিসেবে পরিচিত।

মামলার নথি সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬-এর ১৮, ২৫ ও ২৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামিদের নামে থাকা ফেসবুক আইডি থেকে ভুক্তভোগীর ছবি সংগ্রহ করা হয়। পরে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি ব্যবহার করে ছবিটি বিকৃত ও কুরুচিপূর্ণভাবে সম্পাদনা করা হয়। এরপর ওই ছবি পিকলু সরকারের সঙ্গে যুক্ত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়।

অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, সম্পাদিত অশ্লীল ছবি ও ভিডিও ভুক্তভোগীর স্বামী এবং পরিবারের সদস্যদের মোবাইল ফোনে পাঠানো হয়।

মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় পিবিআই সিলেট। তদন্তে পাওয়া তথ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে পিকলু সরকার ও তুষ্টি তালুকদারকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের আদালতে হাজির করা হলে পিকলু সরকার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।

আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে পিকলু সরকার তুষ্টি তালুকদারকে তার প্রেমিকা হিসেবে উল্লেখ করেন। তবে ভুক্তভোগী নারীর ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশের ঘটনায় তুষ্টির কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে মামলার তদন্ত অব্যাহত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলা সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, পিকলু সরকারের বিরুদ্ধে এর আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নারীদের টার্গেট করে অশ্লীল ছবি প্রকাশের ভয় দেখিয়ে প্রতারণার অভিযোগ ছিল। এসব ঘটনায় মুচলেকা দিয়ে মুক্তি পেলেও তিনি একই ধরনের কর্মকাণ্ড চালিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

তদন্ত সংশ্লিষ্টরা জানান, মামলার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক ও ডিজিটাল ডিভাইসের ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে। পাশাপাশি ঘটনায় কার কী ধরনের সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা যাচাইয়ে অন্যান্য তথ্য-প্রমাণও পরীক্ষা করা হচ্ছে।

তদন্ত শেষে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করা হবে বলে জানিয়েছে পিবিআই।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন