প্রতিকী ছবি
ব্যবসা শুধু জীবিকা উপার্জনের একটি বৈধ মাধ্যম নয়, ইসলামে সৎ ও ন্যায়নিষ্ঠ ব্যবসায়ীর জন্য রয়েছে বিশেষ মর্যাদার ঘোষণাও। লাভের আশায় ব্যবসায়ীকে পণ্যের গুণমান, ক্রেতার অধিকার কিংবা সত্যবাদিতা বিসর্জন দিতে নিষেধ করা হয়েছে। বরং লেনদেনে সততা, আমানতদারি ও উত্তম আচরণকে ইসলাম বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে।
ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রতারণা, মিথ্যা, ধোঁকা, পণ্যের দোষ গোপন করা, মিথ্যা শপথ করা কিংবা কৃত্রিম সংকট তৈরি করে মানুষের দুর্ভোগ বাড়ানো ইসলামের আদর্শ নয়। বিপরীতে যে ব্যবসায়ী আল্লাহর বিধান মেনে সত্য ও ন্যায়ের সঙ্গে লেনদেন করেন, তার জন্য দুনিয়ার কল্যাণের পাশাপাশি আখিরাতেও রয়েছে মর্যাদাপূর্ণ প্রতিদান।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য যেসব পুরস্কার ও মর্যাদার কথা এসেছে, তার মধ্যে বিষেষ ৪টি হলো:
১. আরশের ছায়ায় আশ্রয়
কেয়ামতের কঠিন ময়দানেও সৎ ব্যবসায়ীর জন্য বিশেষ মর্যাদার কথা বর্ণিত হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ব্যবসায়ী কেয়ামত দিবসে আরশের ছায়ায় থাকবে।’ (আত তারগিব ওয়াত তারহিব, হাদিস: ৭৯৪)
২. নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গ লাভ
মানুষ ব্যবসা করে ভালো কিছু করার জন্য। ভালো অর্থ পাওয়ার জন্য। তাই ব্যবসায় লাভের আকাঙ্ক্ষা থাকবে, এটা স্বাভাবিক; কিন্তু সেই লাভের পথে যদি সত্য বিসর্জন দিতে হয়, তবে তা আর কল্যাণের পথ থাকে না। সততা ও বিশ্বস্ততা একজন ব্যবসায়ীকে পরকালের মর্যাদার উচ্চ আসনে পৌঁছে দিতে পারে। মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সত্যবাদী ও বিশ্বস্ত ব্যবসায়ী (পরকালে) নবী, সিদ্দিক ও শহীদদের সঙ্গে থাকবে।’ (তিরমিজি: ১২০৯)
৩. বেহেশতের পথ হবে প্রতিবন্ধকতাহীন
সত্যবাদিতা একজন ব্যবসায়ীর জন্য বেহেশতের পথে এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। রাসুল (সা.) বলেন, ‘সত্যবাদী ব্যবসায়ীর জন্য জান্নাতের দরজায় কোনো প্রতিবন্ধকতা থাকবে না।’ (কানজুল উম্মাল, হাদিস: ৯২১৯)
৪. প্রথম বেহেশতে প্রবেশের সৌভাগ্য
সৎ ব্যবসায়ীর জন্য আরও বিস্ময়কর পুরস্কারের কথাও বর্ণিত হয়েছে। নবীজি (সা.) ঘোষণা করেন, ‘সৎ ব্যবসায়ী প্রথম বেহেশতে প্রবেশ করবে।’ (মুসান্নাফ ইবনি আবি শায়বা, হাদিস: ৫৩৬৫)
ধর্ম থেকে আরো পড়ুন