বাংলাদেশ

হঠাৎ বন্ধ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট, বাড়ছে লোডশেডিং

নতুন সিলেট ডেস্ক :

নতুন সিলেট ডেস্ক :

প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৪৬

হঠাৎ বন্ধ আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট, বাড়ছে লোডশেডিং

ছবি সংগৃহীত :

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের উৎপাদনে গত এক মাস ধরেই ঘাটতি চলছিল কয়লা স্বল্পতার কারণে। তবে, কয়লা সরবরাহ বাড়ার পর বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর পুরোদমে উৎপাদনের দিকে যাচ্ছিল বিদ্যুৎকেন্দ্রটি।

 

 

এর ফলে, বাংলাদেশে তাদের বিদ্যুৎ সরবরাহও বাড়ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে। কিন্তু, দিবাগত রাত ১২টার দিকে হঠাৎই দেখা দেয় কারিগরি ত্রুটি। এতে বন্ধ হয়ে গেছে বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিট; আর সেজন্য দেশেও বাড়ছে লোডশেডিং। ।

বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি সূত্র বলছে, ঝড়ের কারণে কয়লা সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় ৭ আগস্ট থেকে উৎপাদন কমায় আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্র। গত মাসের শেষ দিকে উৎপাদন বাড়িয়ে দিনের বেলায় ৯০০ মেগাওয়াট করে তারা। আর সন্ধ্যা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত তারা সরবরাহ করছিল। গতকাল রাতে ১ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট ছাড়িয়ে যায় উৎপাদন। তবে, একটি ইউনিট বন্ধের পর উৎপাদন হচ্ছে ৭৫০ মেগাওয়াটেরও কম।

ভারতের ঝাড়খন্ড রাজ্যে নির্মিত আদানির কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রটি ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার। ২০১৭ সালে আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ক্রয়চুক্তি করে পিডিবি। ৮০০ মেগাওয়াট ক্ষমতার দুটি ইউনিট আছে সেখানে। চাহিদা বুঝে দেড় হাজার মেগাওয়াটের বেশি সরবরাহ করার রেকর্ড আছে এই কেন্দ্রের।

আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের সঙ্গে যুক্ত দুজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, বয়লারে সমস্যা হয়েছে। এটি শীতল হতে ৪৮ ঘণ্টা লাগতে পারে। এরপর ত্রুটি মেরামতের কাজ শুরু হবে। তাই উৎপাদন বাড়তে কয়েক দিন সময় লাগতে পারে।

দুই মাসের বেশি সময় ধরে গ্যাসের তীব্র সংকট চলছে দেশে। গ্যাস থেকে দেড় হাজার মেগাওয়াট পর্যন্ত উৎপাদন কমেছে। কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালানো যাচ্ছে না। কয়লাস্বল্পতা ও কারিগরি কারণে ব্যাহত হচ্ছে উৎপাদন। কিছুদিন ধরে পটুয়াখালীর পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের একটি ইউনিটও কারিগরি কারণে বন্ধ। পটুয়াখালীর আরেকটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে কয়লার স্বল্পতা আছে। বাগেরহাটের রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রও কয়লার সংকটে উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে।

এ অবস্থায় আবার আদানির বিদ্যুৎকেন্দ্রের এক ইউনিট বন্ধ হয়ে সংকটে বাড়তি মাত্রা যোগ করেছে।

পিডিবি সূত্র বলছে, জ্বালানি তেল থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়ে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া যাচ্ছে না। গরম বাড়লেই লোডশেডিং বাড়ছে। বৃহস্পতিবার সর্বোচ্চ লোডশেডিং ছিল বেলা তিনটায়— ৩ হাজার ৫৫৭ মেগাওয়াট। এমনকি শুক্রবার ছুটির দিন সকালেও আড়াই হাজার মেগাওয়াটের বেশি লোডশেডিং হয়েছে সারা দেশে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন