প্রকাশ: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১৬:৪০
ছবি সংগৃহীত :
উচ্চ রক্তচাপ এখন ঘরে ঘরে পরিচিত সমস্যা। বয়স ৪০ পেরোলেই অনেকের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে। দুশ্চিন্তা, কর্মক্ষেত্রের চাপ, অনিয়মিত জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসের কারণে যেকোনো সময় বেড়ে যেতে পারে রক্তচাপ। আর তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে বাড়তে পারে হৃদ্রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি।
উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার পাশাপাশি জীবনযাপন ও খাদ্যাভ্যাসেও পরিবর্তন আনা জরুরি। তবে অনেকেই মনে করেন, প্রতিদিন ওষুধ খেলেই রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। বাস্তবে ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু ভুলের কারণে চিকিৎসার কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না।
ভারতীয় চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্যের মতে, ওষুধ খাওয়ার নিয়মে ভুল, মাঝেমধ্যে ওষুধ বাদ দেওয়া কিংবা চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া—এসব কারণে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘প্রেশারের ওষুধ শুরুর পর মাথা ঘোরাচ্ছে বলে অনেকে নিজে থেকে বন্ধ করে দেন। এমনটা কখনওই করা উচিত নয়। প্রথম দু-এক সপ্তাহ কিছু সমস্যা হতে পারে, পরে শরীর ওষুধের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে।’
প্রেশারের ওষুধ খাওয়ার ক্ষেত্রে যে ৫ ভুল এড়িয়ে চলবেন
১. প্রতিদিন ভিন্ন সময়ে ওষুধ খাওয়া
চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রতিদিন একই সময়ে ওষুধ খাওয়ার অভ্যাস করতে হবে। সকালে নাকি রাতে ওষুধ খাবেন, সেটিও চিকিৎসকের নির্দেশ মেনে চলা উচিত।
২. রক্তচাপ মাপার আগে ওষুধ খেয়ে ফেলা
রক্তচাপের রিডিং নেওয়ার সময় ওষুধ খাওয়ার বিষয়টি চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী করতে হবে। নিজের ইচ্ছায় সময় পরিবর্তন করলে রক্তচাপের প্রকৃত অবস্থা বোঝা কঠিন হতে পারে।
৩. একাধিক ওষুধ নিজের মতো করে একসঙ্গে খাওয়া
একাধিক ধরনের ওষুধ চললে কোনটি কখন খেতে হবে, তা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মেনে চলতে হবে। নিজের মতো করে ওষুধের সময়সূচি পরিবর্তন করা ঠিক নয়।
৪. রক্তচাপ স্বাভাবিক হলেই ওষুধ বন্ধ করে দেওয়া
একদিন রক্তচাপ স্বাভাবিক দেখালেই ওষুধ বন্ধ করা যাবে না। বরং নিয়মিত ওষুধ খাওয়ার কারণেই অনেক সময় রক্তচাপ স্বাভাবিক থাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ওষুধ বন্ধ করলে আবার রক্তচাপ বেড়ে যেতে পারে।
৫. মাঝেমধ্যে ওষুধ বাদ দেওয়া
খরচ বাঁচাতে, ভুলে গিয়ে কিংবা শরীর ভালো লাগছে বলে অনেকেই মাঝেমধ্যে ওষুধ খাওয়া বন্ধ করে দেন। এতে রক্তচাপ ওঠানামা করতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও মস্তিষ্কের ক্ষতির ঝুঁকি বাড়তে পারে।
যেসব লক্ষণ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
প্রেশারের ওষুধ খাওয়ার পর কিছু অস্বাভাবিক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রয়োজন। যেমন—
দীর্ঘসময় শুকনো কাশি থাকা
পা ফুলে যাওয়া
প্রস্রাবের পরিমাণ বেড়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া
অতিরিক্ত দুর্বলতা
বারবার মাথা ঘোরা
কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হিসেবে এসব সমস্যা দেখা দিতে পারে। সে ক্ষেত্রে চিকিৎসক প্রয়োজন অনুযায়ী ওষুধের ধরন বা মাত্রা পরিবর্তন করতে পারেন।
উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ অনেকের ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদে, এমনকি সারা জীবনও চালিয়ে যেতে হতে পারে। এটি অস্বাভাবিক কিছু নয়। নিয়মিত ওষুধ সেবন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলার মাধ্যমে হৃদ্যন্ত্র, কিডনি ও মস্তিষ্ককে উচ্চ রক্তচাপের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব।
লাইফস্টাইল থেকে আরো পড়ুন