হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে অপহরণপূর্বক ধর্ষণের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল হককে (৩২) গ্রেফতার করেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব-৯)।
রোববার (১৬ আগস্ট) দুপুর ২টা ৫০ মিনিটের দিকে র্যাব-৯-এর সিপিসি-৩, শায়েস্তাগঞ্জ ক্যাম্পের একটি অভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চুনারুঘাট উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের ইকরতলী সাকিন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করে।
গ্রেফতার আব্দুল হক চুনারুঘাট উপজেলার ডুলনা এলাকার সামছুল হকের ছেলে।
র্যাব জানায়, ভুক্তভোগী হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানাধীন উসমানপুর এলাকার বাসিন্দা। গ্রেফতার আব্দুল হক ভুক্তভোগীর খালাতো ভাই। এ সম্পর্কের সুবাদে তিনি প্রায়ই ভুক্তভোগীর বাড়িতে যাতায়াত করতেন এবং বিভিন্ন সময় তার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন।
বিষয়টি ভুক্তভোগী তার বাবাকে জানালে তিনি আব্দুল হকের পরিবারের সদস্যদের বিষয়টি অবহিত করেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে আব্দুল হক ভুক্তভোগীর ক্ষতি করার সুযোগ খুঁজতে থাকেন বলে র্যাবের তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে।
র্যাব জানায়, গত ২৫ মে ২০২৫ রাত আনুমানিক ২টার দিকে ভুক্তভোগী প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে ঘর থেকে বের হলে আগে থেকে ওত পেতে থাকা অপর দুই আসামি রমজান আলী ও মিলন মিয়া তার মুখ চেপে ধরেন এবং গলায় ছুরি ঠেকিয়ে প্রাণনাশের ভয় দেখান। পরে তারা ভুক্তভোগীকে পরস্পর যোগসাজশে আসামি রমজান আলীর বসতঘরে নিয়ে যান।
সেখানে অন্য আসামিদের সহযোগিতায় আব্দুল হক ভুক্তভোগীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক একাধিকবার ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগীর বাবা বাদী হয়ে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলার পর র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং আসামিকে গ্রেফতারে গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় র্যাব-৯-এর অভিযানিক দল চুনারুঘাট থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলায় এজাহারনামীয় ১ নম্বর পলাতক আসামি আব্দুল হককে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
এ তথ্য নিশ্চিত করেন র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তাকে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব-৯-এর চলমান গোয়েন্দা তৎপরতা ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন