ছবি সংগৃহীত :
অতিরিক্ত সময় মুঠোফোন ব্যবহারের কারণে গুরুতর ঘাড়ের সমস্যায় পড়ে অস্ত্রোপচার করাতে হয়েছে দক্ষিণ ভারতীয় অভিনেত্রী শাকিলাকে। দীর্ঘ সময় ভুল ভঙ্গিতে ফোন ব্যবহারের অভ্যাসের কারণে তার এই শারীরিক জটিলতা তৈরি হয়। অস্ত্রোপচারে খরচ হয়েছে প্রায় ৩ লাখ রুপি।
সম্প্রতি ইউটিউবে প্রকাশিত এক ভ্লগে নিজের অসুস্থতা, হাসপাতালে চিকিৎসা এবং অস্ত্রোপচারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেছেন শাকিলা। ভ্লগে দেখা যায়, চেন্নাইয়ের একটি হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। অস্ত্রোপচারের পর বাড়ি ফিরে ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ওঠার বিষয়টিও তিনি তুলে ধরেছেন।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে শাকিলা জানান, বিছানায় এক পাশে কাত হয়ে শুয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মুঠোফোনে গেম খেলার অভ্যাস ছিল তার। কখনো কখনো একটানা চার ঘণ্টা একই অবস্থায় থাকতেন। শুধু চা বা কফি খাওয়ার জন্য বিছানা থেকে উঠতেন। এরপর আবার ফোন হাতে নিয়ে গেম খেলায় বসে যেতেন।
নিজের অভ্যাস সম্পর্কে শাকিলা বলেন, আমি বিছানায় এক পাশ ফিরে শুয়ে মুঠোফোনে প্রায় চার ঘণ্টা টানা গেম খেলতাম। শুধু চা বা কফি খাওয়ার জন্য উঠতাম। চা খাওয়া শেষ করে আবার একই গেম খেলতে বসতাম।
গেম খেলার পাশাপাশি দীর্ঘ সময় ভিডিও ও রিলসও দেখতেন তিনি। এভাবে ভুল ভঙ্গিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ফোন ব্যবহারের ফলে ধীরে ধীরে ঘাড়ে গুরুতর সমস্যা তৈরি হয়। একপর্যায়ে ব্যথা এতটাই বেড়ে যায় যে অস্ত্রোপচার ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না বলে জানান অভিনেত্রী।
অস্ত্রোপচারের পরও সহজ ছিল না শাকিলার সুস্থ হয়ে ওঠার পথ। বিছানা থেকে ওঠা কিংবা খাবার খাওয়ার মতো সাধারণ কাজেও অন্যের সাহায্য নিতে হয়েছে তাকে। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সুস্থ হওয়ার সময় ঘাড়ে কলারও পরতে হয়েছে।
শাকিলা জানান, ঘাড়ের একটি অংশ থেকে তরল বেরিয়ে যাওয়ার কারণে তীব্র ব্যথা হচ্ছিল। অস্ত্রোপচারের সময় সেখানে টাইটানিয়ামের স্ক্রু ব্যবহার করতে হয়েছে বলেও জানান তিনি।
নিজের অভিজ্ঞতা থেকে ভক্তদের সতর্ক করে শাকিলা বলেন, মুঠোফোন প্রয়োজনীয় একটি যন্ত্র হলেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার করা উচিত নয়। অপ্রয়োজনীয় ভিডিও না দেখে শুধু প্রয়োজনীয় ও উপকারী কনটেন্ট দেখার পরামর্শ দেন তিনি।
রসিকতার সুরে শাকিলা বলেন, তা নাহলে একদিকে ৩ লাখ রুপি খরচ হবে, অন্যদিকে অসহনীয় ব্যথাও সহ্য করতে হবে।
চেন্নাইয়ে জন্ম নেওয়া শাকিলা নব্বইয়ের দশকে বিনোদনজগতে পা রাখেন। ১৯৯৫ সালের তামিল সিনেমা ‘প্লে গার্লস’-এর মাধ্যমে অভিনয়ে অভিষেক হয় তার। সিনেমাটিতে তার সঙ্গে অভিনয় করেছিলেন সিল্ক স্মিতা। তবে ২০০০ সালের মালয়ালম সিনেমা ‘কিন্নারা থুম্বিকাল’ তাকে ব্যাপক পরিচিতি এনে দেয়।
একসময় শাকিলার সিনেমা দক্ষিণ ভারতের পাশাপাশি ভারতের বিভিন্ন ভাষায় ডাব করে মুক্তি পেত। তার অভিনীত সিনেমা নেপালি, চীনা ও সিংহলি ভাষাতেও মুক্তি পেয়েছে। ২০০২ সালে এ ধরনের সিনেমায় অভিনয় থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়ে পরে মূলধারার সিনেমায় অভিনয় শুরু করেন তিনি। মোহনলাল, বিজয় ও মহেশ বাবুর মতো তারকার সঙ্গেও পর্দায় দেখা গেছে তাকে।
পরবর্তী সময়ে অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন বিনোদনমূলক কাজেও যুক্ত হন শাকিলা। ২০২৩ সালে নেটফ্লিক্সের ‘সেক্স এডুকেশন’ সিরিজের প্রচারণার অংশ হিসেবে তাকে নিয়ে তৈরি করা হয় ‘শাকিলাস ড্রাইভিং স্কুল’ নামের একটি প্রচারমূলক ভিডিও।
বিনোদন থেকে আরো পড়ুন