বাংলাদেশ

১১ ঘণ্টার ব্যবধানে সড়কে ঝরে গেল ৮ প্রাণ

নতুন সিলেট ডেস্ক:

নতুন সিলেট ডেস্ক:

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ২০:২৯

১১ ঘণ্টার ব্যবধানে সড়কে ঝরে গেল ৮ প্রাণ

মাত্র ১১ ঘণ্টার ব্যবধানে বড় ধরনের দুই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে গেছে দেশের দুই জেলায়। সকালে কক্সবাজারে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় চারজন নিহতের পর বিকেলে নেত্রকোণায় পিকআপ ভ্যান ও ট্রাকের সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছেন নারীসহ আরও চারজন। 

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের নারান্দিয়া এলাকায় সবশেষ দুর্ঘটনাটি ঘটে। তাৎক্ষণিকভাবে নিহতদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে একজন নারী ও তিনজন পুরুষ। দুর্ঘটনার পর সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

নেত্রকোণার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হাফিজুল ইসলাম দুর্ঘটনার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু করেছে।

পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পিকআপ ভ্যানটিতে চালকসহ আটজন ছিলেন। ময়মনসিংহ থেকে নেত্রকোনার দিকে আসার পথে নারান্দিয়া এলাকায় বিপরীত দিক থেকে আসা সারবোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে পিকআপটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে পিকআপ ভ্যানটি দুমড়েমুচড়ে যায়। ট্রাকটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে সড়কের পাশে পড়ে।

সংঘর্ষে পিকআপে থাকা দুজন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তাঁদের মধ্যে একজন নারী। স্থানীয় লোকজন আহত ছয়জনকে উদ্ধার করে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন মারা যান। পরে গুরুতর আহত চাজনকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

নেত্রকোনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সজল কুমার সরকার মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ঘটনাস্থলে দুজন এবং হাসপাতালে নেওয়ার পথে আরও দুজন—মোট চারজন মারা গেছেন। গুরুতর আহত চারজনকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। নিহত ও আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় এখনো জানা যায়নি।

এর আগে, সকাল সাড়ে ৬টার দিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের চকরিয়ায় যাত্রীবাহী বাস ও বিপরীত দিক থেকে আসা লেগুনার সংঘর্ষে চারজন প্রাণ হারিয়েছে; সেইসঙ্গে আহত হয়েছেন ৫ জন। হতাহতরা সবাই লেগুনার যাত্রী ছিলেন।

নিহতরা হলেন, চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সেগুন বাগিচা গ্রামের মৃত মতিউর রহমানের ছেলে মো. জসীম উদ্দিন (২৫), খুটাখালীর ফুলছড়িস্থ শিয়া পাড়ার মৃত মনজুর আলমের ছেলে মোহাম্মদ শাহেদ (২৭), খুটাখালীর নতুন অফিস এলাকার আমিনুল হকের ছেলে মো. জিয়াবুল হক (২৫) ও পার্শ্ববর্তী ঈদগাঁও উপজেলার পশ্চিম গজারিয়া এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে মোহাম্মদ রফিক (২৮)।

আর আহতরা হলেন, খুটাখালী নতুন অফিস মাদরাসা পাড়ার আবদুল সামাদের ছেলে জিয়াবুল হক (৪০), খুটাখালীর মেদাকচ্ছপিয়া গ্রামের বদরুদ্দোজার ছেলে দেলোয়ার হোসেন (৩৫), ঈদগাঁও উপজেলার নাপিতখালী এলাকার আলী মিয়ার ছেলে সৈয়দ আলম (৫০) ও তার ছেলে মোহাম্মদ সরোয়ার (১৯) ও কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার কিরনতলী গ্রামের রহমত করিমের ছেলে সৈয়দ করিম (৩০)।

ডুলাহাজারার মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বৃহস্পতিবার ভোর থেকে এলাকায় মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছিল। এসময় ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা ‘লাল সবুজ পরিবহন’-এর একটি যাত্রীবাহী এসি বাস চকরিয়ার খুটাখালী ইউনিয়নের নয়াপাড়া বায়তুল মামুর জামে মসজিদের সামনে পৌঁছায়। একই সময়ে বিপরীত দিক ঈদগাঁও থেকে চকরিয়ামুখী একটি যাত্রীবাহী লেগুনার (স্থানীয় ভাষায় জিটু গাড়ি) সঙ্গে বাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।

সংঘর্ষের তীব্রতায় লেগুনাটির ছাদ পর্যন্ত উপড়ে যায় এবং গাড়িতে থাকা নয়জন যাত্রীর সবাই গুরুতর আহত হন। খবর পেয়ে স্থানীয় জনতার সহায়তায় মালুমঘাট হাইওয়ে থানা পুলিশ দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে।

আহতদের প্রথমে কাছের মালুমঘাট মেমোরিয়াল খ্রিষ্টান হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন মারা যান। বাকিদের প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর একটার দিকে একে একে আরও তিনজনের মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনায় আহত বাকি ৫ জন বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

মালুমঘাট হাইওয়ে থানার এসআই মো. শামছুজ্জামান জানান, দুর্ঘটনায় লেগুনার ৯ যাত্রীর মধ্যে একে একে চারজন মারা যান। আহত হন আরও পাঁচজন যাত্রী। তারা বর্তমানে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে।

তিনি আরও জানান, ভোরে মুষলধারে বৃষ্টিপাত হওয়ার সময় সংঘটিত এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার খবর পেয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হয়। ক্রেন দিয়ে মহাসড়ক থেকে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সরিয়ে নেয়ার প্রায় এক ঘণ্টা পর যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়। আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ শেষে নিহতদের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন