সিলেট

হবিগঞ্জে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনওকে লাঞ্ছিত

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ১৩ আগস্ট ২০২৬ ১৯:৪০

হবিগঞ্জে অনিয়মের অভিযোগে ইউএনওকে লাঞ্ছিত

হবিগঞ্জ জেলার বানিয়াচং উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড তথ্য সংগ্রহকারী এবং সুপারভাইজার নিয়োগ বাতিলের দাবিতে উপজেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোবাশ্বির আহমেদ মজনু ও যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ রাসেল মিয়ার নেতৃত্বে বিক্ষোভ মিছিল করা হয়। এসময় বিক্ষোভকারীরা ও ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুরে পূর্বে ঘোষণা দিয়ে স্থানীয় শহিদ মিনারে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে ইউএনও অফিস ঘেরাও করেন প্রায় অর্ধশতাধিক ছাত্রদলের নেতাকর্মীসহ নিয়োগ বঞ্চিতরা। এসময় অফিস ভাঙচুরের পাশাপাশি ইউএনওকে অকথ্য ভাষায় তিরস্কার করেন তারা।

এর আগে ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোবাশ্বির আহমেদ মজনু সকাল সাড়ে ১০টায় শহিদ মিনারে জড়ো হওয়ার জন্য (ফেসবুকে) ছাত্রদল নেতা কর্মীদের আহ্বান জানান। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে উল্লেখ যোগ্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, ৪ নং ইউনিয়ন বিএনপির সেক্রেটারি শাহজাহান মিয়া, জনাব আলী কলেজ ছাত্রদল আহ্বায়ক এমদাদুল ইসলাম বাবু। 

জানা যায়, কয়েকদিন অগে ফ্যামিলি কার্ড শুমারিতে নিয়োগ প্রত্যাশীদের মৌখিক ও ব্যবহারিক পরীক্ষার পর বুধবার (১২ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম ফলাফল প্রকাশ করেন। এরপর থেকেই নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তুমুল সমালোচনা করেন ছাত্রদল নেতৃবৃন্দ।

অনেকে লেখেন বৈষম্যবিরোধী মালার আসামি ছাত্রলীগ নেতা সালমান জামান লস্কর, ৭ নং বড়ইউড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সহসভাপতি শাহ শোয়েবকে সুপারভাইজার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এদের বাইরেও যারা মনোনীত হয়েছে তারা অনেকেই ফ্যাসিবাদের দোসর। অবিলম্বে নিয়োগ বাতিল করে পুনরায় নিয়োগের দাবি জানান। 

এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে সহকারী কমিশনার (ভূমি) মেহরাব হোসাইন-এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ফ্যামিলি কার্ড শুমারি নিয়োগ স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে। এটাকে কেন্দ্র করে হামলা ভাঙচুর কাম্য নয়, যে বা যারা এটা করেছে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

নিয়োগ কমিটির সদস্য সচিব ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম জানান, প্রধানমন্ত্রীর কড়া নির্দেশ দিয়েছেন, মেধার বাইরে জনবল নিলে ব্যবস্থা নেবেন, সেই দিক বিবেচনায় স্বচ্ছতার নিরিখে আমরা প্রায় ১৬ শত জন আবেদনকারীর ৯ জন দক্ষ কর্মকর্তাকে প্রধান করে ৯টি বোর্ডের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়েছি। মেধাক্রমানুসারে ১০০ জন চূড়ান্ত এবং ৬০ পার্সেন্ট অপেক্ষমাণ রাখা হয়েছে। বাকি ১৪ শত আবেদনকারী বাদ পড়েছেন। 

তিনি আরও বলেন, চূড়ান্ত তালিকা খসড়া করে বিএনপির স্থানীয় নীতিনির্ধারকদের ওয়াকিবহাল করা হয়েছে, তালিকাতে যদি মামলার আসামি কিংবা অপরাধীদের তারা চিহ্নিত করলে আমরা বাদ দিতে পারতাম। এছাড়াও নিয়োগ নীতিমালায় স্পষ্ট লেখা রয়েছে যে, কোনো আসামি কিং অপরাধী তালিকায় ঢুকলে সরাসরি বাতিল করা হবে।

এ তথ্য নিশ্চিত করেন সহকারী পুলিশ সুপার প্রবাস রঞ্জন বিশ্বাস বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। ইউএনও অফিস থেকে একটি অভিযোগ দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। এছাড়া ভিডিও ফুটেজ দেখে অপরাধীদের শনাক্তকরণ চলছে।

এব্যাপারে ইউএনও মাহমুদা বেগম সাথীর সঙ্গে যোগাযোগ চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সিলেট থেকে আরো পড়ুন