অর্থনীতি

জুলাইয়ে বাংলা কিউআরে পেমেন্ট ছাড়ালো ১২৫০ কোটি টাকা

নতুন সিলেট ডেস্ক:

নতুন সিলেট ডেস্ক:

প্রকাশ: ০৫ আগস্ট ২০২৬ ১২:৪৩

জুলাইয়ে বাংলা কিউআরে পেমেন্ট ছাড়ালো ১২৫০ কোটি টাকা

ছবি: সংগৃহীত

দেশে ক্যাশলেস লেনদেন সম্প্রসারণে চালু হওয়া বাংলা কিউআর ব্যবস্থার ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। ব্যাংক ও মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের (এমএফএস) জন্য অভিন্ন কিউআর কোড বাধ্যতামূলক করার পর এর মাধ্যমে লেনদেনে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা গেছে।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে যেখানে বাংলা কিউআরে লেনদেন হয়েছিল ২১২ কোটি টাকা, সেখানে জুলাই মাসে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় এক হাজার ২৫০ কোটি টাকায়। অর্থাৎ সাত মাসের ব্যবধানে এই প্ল্যাটফর্মে লেনদেন প্রায় ছয়গুণ বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে ৪০ কোটি ৩২ লাখ টাকার লেনদেন হয়েছে। জুনে মোট লেনদেন ছিল ৮৪৫ কোটি টাকা, মে মাসে ৪৭৯ কোটি, এপ্রিলে ১৯৯ কোটি, মার্চে ২২৯ কোটি এবং ফেব্রুয়ারিতে ২১৮ কোটি টাকা। জানুয়ারিতে এ পরিমাণ ছিল ২১২ কোটি টাকা।

ডিজিটাল পেমেন্ট ব্যবস্থাকে আরও সহজ ও অভিন্ন করতে বাংলাদেশ ব্যাংক ২০২৩ সালে বাংলা কিউআর চালু করে। পরে গত ১ জুলাই থেকে সব ব্যাংক ও এমএফএসের কিউআরভিত্তিক মার্চেন্ট পেমেন্ট বাংলা কিউআরের আওতায় আনা বাধ্যতামূলক করা হয়। এর ফলে একজন গ্রাহক একটি মাত্র কিউআর স্ক্যান করেই যে কোনো অংশগ্রহণকারী ব্যাংক বা এমএফএস ব্যবহার করে মূল্য পরিশোধ করতে পারছেন।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য বলছে, বর্তমানে ব্যাংক ও এমএফএসসহ মোট ৩৭টি প্রতিষ্ঠান বাংলা কিউআর নেটওয়ার্কে যুক্ত হয়েছে। গত ১ আগস্ট পর্যন্ত নিবন্ধিত মার্চেন্টের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৪ লাখ ২৫ হাজার ১৩৩টি। মাত্র এক সপ্তাহ আগে, ২৫ জুলাই এ সংখ্যা ছিল ২২ লাখ ৫৫ হাজার ৫৪১। অর্থাৎ এক সপ্তাহেই নতুন করে যুক্ত হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৯২টি মার্চেন্ট।

মার্চেন্ট সংখ্যার দিক থেকে এখনো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে এমএফএস প্রতিষ্ঠান বিকাশ। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন কিউআর স্থাপনে ব্যাংকগুলোর কার্যক্রমও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

গত এক সপ্তাহে নতুন কিউআর স্থাপনের তালিকায় শীর্ষে ছিল ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ। ব্যাংকটি ৫০ হাজার ৩০৩টি নতুন মার্চেন্টে বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে। ফলে তাদের মোট কিউআরের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৪ হাজার ৪৫৭টি। একই সময়ে পূবালী ব্যাংক ৪৫ হাজার ৬৭৩টি নতুন কিউআর স্থাপন করে মোট সংখ্যা ৩ লাখ ৫৩ হাজার ৬৬১টিতে উন্নীত করেছে।

এছাড়া জনতা ব্যাংক ১৭ হাজার ১৪৪টি, রূপালী ব্যাংক ১৪ হাজার ৮৬টি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক ১১ হাজার ৫৮৩টি, অগ্রণী ব্যাংক ৮ হাজার ২২৮টি, সোনালী ব্যাংক ৬ হাজার ৮২২টি, ডাচ্-বাংলা ব্যাংক ৫ হাজার ২৬৩টি, ব্র্যাক ব্যাংক ৪ হাজার ১৪০টি এবং টাপ পে (টিএপি) ৯৪৫টি নতুন বাংলা কিউআর স্থাপন করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটি কিউআর কোডের মাধ্যমে সব ব্যাংক ও এমএফএস থেকে মূল্য পরিশোধের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ী ও গ্রাহক উভয়ের জন্য লেনদেন সহজ হয়েছে। আগে একটি দোকানে একাধিক প্রতিষ্ঠানের কিউআর রাখতে হলেও এখন একটি কিউআরেই সব ধরনের পেমেন্ট গ্রহণ করা যাচ্ছে। এতে ডিজিটাল লেনদেনের গ্রহণযোগ্যতা দ্রুত বাড়ছে।

বর্তমানে বাংলা কিউআরের মাধ্যমে প্রতিটি লেনদেনে মার্চেন্টের কাছ থেকে ১ শতাংশ হারে চার্জ কাটা হয়। তবে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীদের এই ব্যয় কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সম্প্রতি ১০০ কোটি টাকার একটি সহায়তা তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে বাংলা কিউআরের ব্যবহার আরও দ্রুত বাড়বে।

অর্থনীতি থেকে আরো পড়ুন