সিলেট

"পরিবহন শ্রমিক নেতা ময়নুল ও রাজনের নির্দেশে দুই শ্রমিককে হত্যা"

সংবাদ সম্মেলনে দেলওয়ারের বাবার দাবি

নতুন সিলেট ডেস্ক:

নতুন সিলেট ডেস্ক:

প্রকাশ: ২৯ জুলাই ২০২৬ ২৩:০৬

ছবি সংগৃহিত

সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে দুই শ্রমিককে হত্যা করা হয় জেলা সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি ময়নুল ইসলাম ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আলী আকবর রাজনের নির্দেশে। তাদের অনুসারী আন্তঃজেলা মিতালি পরিবহণ ও হবিগঞ্জ এক্সপ্রেসের শ্রমিক ও কতিপয় শ্রমিকরা ওই হামলায় জড়িত। তারা ময়নুল ও রাজনের নির্দেশে হামলা চালিয়ে বাসের কাউন্টার ও বেশ কয়েকটি বাস ভাঙচুর করে লাখ লাখ টাকার ক্ষতিসাধন করেছেন।

বুধবার (২৯ জুলাই) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ  দাবি জানান বিয়ানীবাজার উপজেলার চারখাই ইউনিয়নের বাঘবাড়ি এলাকার বাসিন্দা নিহত বাস চালক দেলওয়ার হোসেনের বাবা  মো. আজির উদ্দিন।

তিনি ছেলে হত্যা মামলার প্রকৃত আসামিদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি জানিয়ে বলেন, তার মামলায় আসামি করা নিরপরাধ লোকজনকে বাদ দিতে এবং তাদের হয়রানী না করার জন্যও পুলিশ প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

বক্তব্যে তিনি বলেন, ২৭ এপ্রিল বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কদমতলী কেন্দ্রিয় বাস টার্মিনালে তার ছেলেসহ দুইজনকে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে এবং পিটিয়ে হত্যা করা হয়।

তিনি বলেন, হামলায় আহত হয়ে তার ছেলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার সময় পরিবহণ শ্রমিক নেতা সেলিম আহমদ ফলিকহ কয়েকজন হাসপাতালে গিয়ে ছেলেকে উন্নত চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলে থানায় নিয়ে যান। বিভিন্ন কাগজে তার স্বাক্ষর ও টিপসই এবং জাতীয় পরিচয়পত্র নেন। ৭ মে সকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার ছেলে মারা যায়।

আজির উদ্দিন বলেন, আমি পড়ালেখা জানিনা, ছেলেকে দাফনের পর আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে জানতে পারি ৬ মে দক্ষিণ সুরমা থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং ওই মামলার তিনি নিজেই বাদী। মামলায় আসামি কারা, তাও তিনি জানতেন না।

তিনি দাবি করেন, ওই মামলায় নিরীহ মানুষকে আসামি করা হয়েছে। মূলত যারা মামলা করিয়েছে, সেই ময়নুল ও রাজনরাই তার ছেলে হত্যার জন্য দায়ী। আত্মীয়-স্বজনের মাধ্যমে বিভিন্ন অনলাইন মিডিয়ার স্থিরচিত্র ও ভিডিও দেখে প্রকৃত আসামিদের তিনি শনাক্ত করেছেন। শ্রমিক নেতা ময়নুল ও রাজন নিজেদের রক্ষায় তাকে বাদী বানিয়ে মামলাটি সাজিয়েছেন। এখন দেখি ময়নুল গংদের সঙ্গে সেলিম আহমদ ফলিকের গলায় গলায় মিল। তারা এক জায়গায় বসে মিষ্টি খায়। আসল অপরাধীদের বাদ দিতে সেলিম আহমদ ফলিককে ব্যবহার করে কৌশলে তাকে বাদি বানিয়ে মামলা দায়ের করিছেন, দাবি আজির উদ্দিনের।

ওই মামলায় হামলার ঘটনার সময় দেখানো হয়েছে সকাল ১১টা। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে হামলার ঘটনা ঘটে বেলা ২টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। মামলায় ঘটনাটিকে সংঘর্ষ দেখানো হলেও এটি ছিল এক তরফা হামলা।

মো. আজির উদ্দিন বলেন, তাকে বাদী বানিয়ে দায়েরকৃত মামলাটি ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে জগন্নাথপুর রুটে বাস মালিক সমিতির নেতা শাহজাহান ও শ্রমিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মুহিম, রিয়াজুল ইসলাম রাজন, আবুল হোসেন আবুল, হোসাইন মোহাম্মদ সুন্দর আলীসহ নিরীহ লোকজনকে আসামি করা হয়েছে। যাদের অভিযুক্ত করা হয়েছে, তারা ময়নুলের বিরোধী বলয়ের। পরে এ ঘটনায় তার পুত্রবধূ (নিহত দেলওয়ারের স্ত্রী) রাজিয়া আক্তার বাদী হয়ে ২৬ জনের নামোল্লেখ করে ও অজ্ঞাত ৩০/৪০ জনকে আসামি করে আদালতে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি তার ছেলে হত্যার ঘটনার প্রকৃত আসামিদের বিচার চান।

তিনি বলেন, মূলত আসল হত্যাকারীদের আড়াল করতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছে। তাই প্রকৃত হত্যাকারীদের আইনের আওতায় আনতে তিনি প্রশাসন তথা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সর্বোচ্চ মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

সিলেট থেকে আরো পড়ুন