র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)-৯-এর অভিযানে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার বিশ্বরোড এলাকায় ৬০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়েছে। এ সময় মাদক পরিবহনে ব্যবহৃত একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করা হয়। তবে অভিযানের সময় একজন সহযোগী পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
র্যাব-৯ জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সিপিসি-১, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার একটি আভিযানিক দল সরাইল থানাধীন কুট্টা মোড় সংলগ্ন সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে চেকপোস্ট স্থাপন করে। এ সময় হবিগঞ্জের মাধবপুর থেকে প্রাইভেটকারযোগে বিপুল পরিমাণ গাঁজা ঢাকার দিকে পাচার করা হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করা হয়।
চেকপোস্টে একটি প্রাইভেটকারকে থামানোর সংকেত দিলে চালক তা অমান্য করে দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। পরে র্যাব সদস্যরা ধাওয়া করে সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে গাড়িটি আটকাতে সক্ষম হন।
এ সময় গাড়ি থেকে তিনজন নেমে পালানোর চেষ্টা করলে দুইজনকে আটক করা হয় এবং একজন পালিয়ে যায়। পরে আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী প্রাইভেটকারের পেছনের ডালার ভেতর থেকে বিশেষভাবে লুকিয়ে রাখা ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।
আটককৃতরা হলেন—আরিফ (৩৫), পিতা: বজলুর রহমান, গ্রাম: নামাটোলা এবং মো. বারিকুল ইসলাম (২৭), পিতা: মো. আকালু, গ্রাম: মনোহরপুর। উভয়ের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলায়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা জানান, তারা পলাতক সহযোগীসহ সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে গাঁজা সংগ্রহ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্রির উদ্দেশ্যে পরিবহন করছিলেন।
এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, এ ঘটনায় পলাতক আসামিসহ আটককৃতদের বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। উদ্ধারকৃত গাঁজা, জব্দকৃত প্রাইভেটকার এবং আটককৃতদের ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, মাদকের বিরুদ্ধে তাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও বিশেষ অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন