ছবি সংগৃহীত :
বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্ষমতা খর্ব করার অভিযোগে ইউরোপীয় ইউনিয়ন বৃহস্পতিবার অ্যালফাবেটের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গুগলকে ৮৯ কোটি ইউরো (১ বিলিয়ন ডলার) জরিমানা করেছে। এ কথা জানিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন।
তবে এই প্রযুক্তি জায়ান্ট নতুন কোনো জরিমানা থেকে রক্ষা পেতে পারে, কারণ ইউরোপীয় ইউনিয়নের নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলো আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে গুগলের অগ্রগতির প্রশংসা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা ও পাল্টা শুল্কের হুমকির তোয়াক্কা না করে বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের প্রতিদ্বন্দ্বীদের দমিয়ে রাখা থেকে বিরত রাখতে ইউরোপের দৃঢ়প্রতিজ্ঞ মনোভাবের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এই জরিমানায়।
সার্চ রেজাল্টে নিজেদের শপিং, হোটেল, পরিবহন ও খেলাধুলার খবরের সেবাকে বাড়তি সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের অধীনে ৪৬ কোটি ইউরোর প্রথম জরিমানাটি করা হয়।
দ্বিতীয় আরেকটি ৪৩ কোটি ইউরোর জরিমানা করা হয়েছে গুগলের অ্যাপ স্টোর ‘গুগল প্লে’-এর কিছু বিধিনিষেধের কারণে, যা অ্যাপ ডেভেলপারদের ব্যবহারকারীদের কোনো খরচ ছাড়াই প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যাপ স্টোর বা ওয়েবসাইটের সস্তা অফারগুলোর কথা জানাতে বাধা দিত।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের অধীনে গুগলের বিরুদ্ধে এটিই প্রথম জরিমানা। তবে বাজার প্রতিযোগিতাবিরোধী আচরণের জন্য এটি সামগ্রিকভাবে তাদের পঞ্চম ও ষষ্ঠ জরিমানা, যার ফলে গত প্রায় দুই দশকে মোট জরিমানার পরিমাণ দাঁড়াল ১ হাজার ৩৮ কোটি ইউরো।
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ইইউ’র অ্যান্টিট্রাস্ট প্রধান তেরেসা রিভেরা বলেন, আমাদের দায়িত্ব ও কর্তব্য হলো আইন মেনে চলা এবং আমাদের আইনগুলোর সম্পূর্ণরূপে সম্মান করা নিশ্চিত করা।
ইইউ’র প্রযুক্তি প্রধান হেন্না ভিরকুনেন সাংবাদিকদের জানান, ডিজিটাল মার্কেটস অ্যাক্টের লক্ষ্য হলো একটি ন্যায্য ও সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র নিশ্চিত করা। এই সিদ্ধান্তগুলোর মাধ্যমে আমরা বাজারে প্রকৃত প্রতিযোগিতা নিশ্চিত করতে চাই।
প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে ন্যায্য ও বৈষম্যহীন আচরণ করা এবং অ্যাপ ডেভেলপারদের গুগল প্লে স্টোর থেকে ব্যবহারকারীদের অন্য কোথাও যাওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার কমিশনীয় আদেশ মানতে গুগলকে ৬০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। তবে গুগল ইউরোপীয় ইউনিয়নের এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেছে এবং কমিশনকে আদালতে নিয়ে যাওয়ার কথা বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছে।
গুগলের বৈশ্বিক বিষয়ক প্রেসিডেন্ট কেন্ট ওয়াকার এক বিবৃতিতে বলেছেন, আইন মেনে চলতে গিয়ে আমাদের ইউরোপীয়রা পছন্দ করে এমন রিয়েল-টাইম সার্চ ফিচারগুলো– যেমন হোটেল, ফ্লাইট এবং রেস্তোরাঁর তাৎক্ষণিক মূল্য ও সরাসরি প্রাপ্যতা– বাদ দিতে হচ্ছে এবং গুগল প্লে’র নিরাপত্তা সুরক্ষাও ভেঙে ফেলতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এটি কোনো ন্যায্য প্রতিযোগিতা নয়, এটি গুটিকয়েক স্বার্থপর অভিযোগকারীর চাপে পড়ে পণ্যের মান কমিয়ে দেওয়া, যার খেসারত দিচ্ছে ইউরোপীয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সাধারণ ভোক্তারা।
তথ্য প্রযুক্তি থেকে আরো পড়ুন