শিক্ষা

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা: এক কেন্দ্রের ২৩৮ পরীক্ষার্থীর ফল ‘গায়েব’

নতুন সিলেট ডেস্ক:

নতুন সিলেট ডেস্ক:

প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ ১৭:৪৫

প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা: এক কেন্দ্রের ২৩৮ পরীক্ষার্থীর ফল ‘গায়েব’

ছবি: সংগৃহীত

রাজশাহী শহরের একটি কেন্দ্র থেকে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষায় অংশ নেওয়া ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় উদ্বেগ ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে।

রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রের অধীনে পরীক্ষা দেওয়া ১১টি বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষার্থীরও বৃত্তি পরীক্ষার ফল প্রকাশ হয়নি।

ফলাফল প্রস্তুতে কারিগরি ত্রুটি নাকি উত্তরপত্র হারিয়ে গেছে, এমন প্রশ্ন তুলেছেন অনেকেই। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দ্রুত ফলাফল প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ও শিক্ষকরা।

জানা গেছে, গত ১৫ থেকে ১৮ এপ্রিল রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে বাংলা, ইংরেজি, গণিত, বিশ্বপরিচয় ও বিজ্ঞান বিষয়ে প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত ১২ জুলাই সারাদেশে ফল প্রকাশ করা হলেও ওই কেন্দ্রের ২৩৮ পরীক্ষার্থীর কারও ফলাফল প্রকাশিত হয়নি।

যেসব বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ফল প্রকাশ হয়নি সেগুলো হচ্ছে, রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, তেরোখাদিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, অন্নদা সুন্দরী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, বড়বনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, ছোটবনগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আটকোষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, শিরোইল কলোনি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রেলওয়ে স্টেশন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গৌরহাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, কৃষ্ণকান্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং রাজশাহী বোর্ড মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রাথমিক শাখা।

রাজশাহী উপশহর মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান বলেন, তার বিদ্যালয়সহ মোট ১১টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই কেন্দ্রে পরীক্ষা দেয়।

পরীক্ষা চলাকালে বোয়ালিয়া থানার সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা রোজি খন্দকার প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন এবং পরীক্ষা শেষে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে নিয়ে যান। কিন্তু ফল প্রকাশের দিন দেখা যায়, এই কেন্দ্রের একজন শিক্ষার্থীরও ফল প্রকাশ হয়নি।
তিনি বলেন, কেন এমন হয়েছে, তা আমরা জানি না। ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবক সবাই হতাশ।

একই বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক ফারহানা খাতুন বলেন, আমরাই পরীক্ষা নিলাম, অথচ আমাদের শিক্ষার্থীদেরই ফল নেই। এবার অত্যন্ত ভালো একটি ব্যাচ ছিল। একজনও বৃত্তি না পাওয়া বিশ্বাস করা কঠিন। নিশ্চয়ই কোথাও বড় ধরনের ত্রুটি হয়েছে।

ফলাফল প্রকাশ না হওয়ায় উদ্বিগ্ন অভিভাবকেরা বিদ্যালয়, থানা শিক্ষা অফিস ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসে ভিড় করছেন। বোর্ড মডেল স্কুলের এক শিক্ষার্থীর অভিভাবক সৈয়দ আবদুল মুনিম কাজল বলেন, সন্তানদের কঠোর পরিশ্রমের পর এমন ফল মেনে নেওয়া যায় না। এক কেন্দ্রের ২৩৮ জনের একজনও বৃত্তি পাবে না, এটা অস্বাভাবিক। আমরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত ফলাফল প্রকাশের দাবি জানাই।

আটকোষি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নীলুফা আখতার খানম বলেন, আমাদের ১৭ জন পরীক্ষার্থী ছিল। কয়েকজনের বৃত্তি পাওয়ার ব্যাপারে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু কারও ফল আসেনি। বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করা হবে।

বোয়ালিয়া থানা শিক্ষা কর্মকর্তা রবিউল ইসলাম জানান, কেন্দ্র থেকে উত্তরপত্র সংগ্রহ করে জেলা প্রশাসকের ট্রেজারিতে জমা দেওয়া হয়। সেখান থেকে মূল্যায়নের জন্য অন্য জেলায় পাঠানো হয় এবং পরে ফলাফল প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে পাঠানো হয়। বিষয়টি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও জেলা বৃত্তি পরীক্ষা কমিটির সদস্য সচিব এ কে এম আনোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিভাবকেরা লিখিত আবেদন দিচ্ছেন। আমরা সেগুলো অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দেব। এতগুলো উত্তরপত্র হারিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা কম। ফলাফল প্রস্তুতের সময় কোনো কারিগরি ত্রুটি হয়ে থাকতে পারে। অধিদপ্তর বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।

ঘটনার পর থেকে শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে চরম উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত কারণ উদ্‌ঘাটন করে ২৩৮ শিক্ষার্থীর ফলাফল প্রকাশ করা হবে।

শিক্ষা থেকে আরো পড়ুন