প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৮:৩৮
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট থানার সহকারী এএসআই অতনু বণিকের ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) বিকালে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন চুনারুঘাট থানার ওসি মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম।
জানা গেছে, মঙ্গলবার সকালে চুনারুঘাট থানার এএসআই অতনু বণিকের বিরুদ্ধে মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে এক ব্যক্তির কাছ থেকে ঘুষ গ্রহণের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। মুহূর্তের মধ্যেই ভিডিওটি ভাইরাল হয়ে যায়।
ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে দেখা গেছে, মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলছেন এএসআই অতনু বণিক। একপর্যায়ে ওই ব্যক্তির কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা নেওয়ার দৃশ্য ভিডিওতে ধারণ করা হয়। টাকা চাওয়া ও হস্তান্তরের পুরো ঘটনাটি গোপনে ধারণ করে পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে। পরে এএসআই অতনু বণিককে চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চুনারুঘাট থানার এএসআই অতনু বণিকের মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, আমি পুলিশ লাইন্সে মিটিং থেকে বের হয়ে ভিডিওটি দেখি। ভিডিওটি ৬ মাস আগের। পরে ভিডিওটি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে পাঠাই। ভিডিওটি দেখার পর তাকে ক্লোজড করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে।
এর আগে গতকাল সোমবার একই থানার এএসআই মোহাম্মদ ইলিয়াস হোসেনের ঘুষ গ্রহণ সংক্রান্ত একটি বক্তব্যের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়। ওই ভিডিওতে তাকে ‘ঘুষের টাকা দিয়ে পোশাক লাগিয়েছি, ঘুষ খাওয়া লাগবে’—এমন কথা বলতে শোনা যায়। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর তাকেও চুনারুঘাট থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়েছে। একই সঙ্গে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
একই থানার দুই এএসআইকে ঘিরে পরপর এমন অভিযোগ ও ভিডিও ভাইরাল হওয়ায় পুলিশের ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন