বাংলাদেশ

একই পরিবারের ৩ নারীকে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

নতুন সিলেট প্রতিবেদক:

প্রকাশ: ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ১৭:০২

একই পরিবারের ৩ নারীকে জুতার মালা পরিয়ে নির্যাতন

ছবি: সংগৃহীত

নাটোরের গুরুদাসপুরে একই পরিবারের তিন নারীকে গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানোর একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। ঘটনার পর থেকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারীরা।

লোকলজ্জা ও প্রতিপক্ষের প্রভাবের কারণে তারা থানায় অভিযোগ দিতেও ভয় পাচ্ছেন বলে দাবি তাদের।

সোমবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে গুরুদাসপুর পৌরসভার চাঁচকৈড় গাড়িষাপাড়া মহল্লায় এ ঘটনা ঘটে। এর আগে ওই তিন নারীকে একটি বাড়িতে আটকে রেখে মারধর এবং সাদা নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়া হয় বলেও অভিযোগ ভুক্তভোগীদের।
 
ভুক্তভোগী তিন নারীর বাড়ি পাশের চাঁচকৈড় মধ্যমপাড়া এলাকায়।

পরিবারের পুরুষ সদস্যরা প্রবাসে থাকায় তারা নিরাপত্তহীনতায় ভুগছেন। ওই এলাকার আকবর আলীর ছেলে জিয়ারুল হক ও তার বড়ভাইয়ের জামাই রাতুলের পরিবারের বিরুদ্ধে বর্বরোচিত এ ঘটনার অভিযোগ উঠেছে।
 
স্থানীয়রা জানায়, পৌর সদরের তাড়াশিয়াপাড়া মহল্লায় প্রবাসী পিন্টু মিয়ার বাড়ি। তার মেয়ে তৃষা খাতুনের সঙ্গে প্রতিবেশী মজনু মিয়ার ছেলে রাতুল ইসলাম বিয়ের প্রস্তাব দেন।

কিন্তু পিন্টু তার মেয়ে তৃষাকে শিকারপুর গ্রামে বিয়ে দেন। এতে রাতুলের সঙ্গে তাদের দ্বন্দ্ব লেগে থাকে। কিছুদিন পর রাতুল গারিষাপাড়া মহল্লার ইয়ারুলের মেয়ে ঐশির সঙ্গে সম্পর্ক করে বিয়ে করেন। বিয়ের পর থেকে ঐশি অসুস্থ হয়ে পড়ে। ঐশির পরিবারের ধারণা তাকে বারবার জাদুটোনা করে বান মারা হচ্ছে।

এমন ধারণা থেকে তারা প্রবাসী পিন্টুর মেয়ে তৃষা খাতুন, স্ত্রী বুলবুলি খাতুন ও শাশুড়ি জুলেখা খাতুনকে ঘটনার দিন বাড়ি থেকে মারধর করতে করতে ইয়ারুল ও তার ভাই জিয়ারুল ধরে আনেন তাদের বাড়িতে। এরপর তাদের গলায় জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরানো হয়। ১০ লাখ টাকা দিলে তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকবে না মর্মে সাদা স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরও নেন দুই ভাই ইয়ারুল-জিয়ারুল। এ সময় গায়ের গহনাও ছিনিয়ে নেন এবং থানা পুলিশে যাওয়া যাবে না বলে হুমকি দেন তারা। 

প্রবাসী পিন্টুর স্ত্রী বুলবুলি এসব ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে বারবার কান্নায় মূর্ছা যান। জিয়ারুল-ইয়ারুলের সঙ্গে রাতুল ও তার পরিবারের লোকজন মিথ্যা নাটক সাজিয়ে তাদের বেদম প্রহার করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনার কিছুদিন আগে স্থানীয় কবিরাজ আমিরুল ইসলামকেও মারধর করার অভিযোগ রয়েছে জিয়ারুল-ইয়ারুলের বিরুদ্ধে।
 
স্থানীয় প্রতিবেশী মোবারক আলী ও হাবিল উদ্দিন জানান, প্রবাসী পিন্টুর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে বর্বরোচিত ঘটনা ঘটানো হয়েছে। এর কঠোর বিচার না হলে অপরাধ প্রবণতা আরো বৃদ্ধি পাবে। ভীতসন্ত্রস্ত্র ভুক্তভোগীরা গণমাধ্যমকর্মীদের মাধ্যমে থানা পুলিশের সহযোগিতা চেয়েছেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত ইয়ারুল হক দাবি করেন, তার মেয়েকে বান মারা হয়েছে। এ জন্য তাদের গ্রামের মানুষ ডেকে আনে এবং জুতার মালা পরিয়ে ঘোরায়। কিন্তু স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি।
 
গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নান বলেন, ‘ভুক্তভোগীরা অভিযোগ দিলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিরাপত্তার স্বার্থে তাদের বাড়িতে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।’

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন