মৌলভীবাজারে পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে বিরোধের জেরে আব্দুল মতিন (৫৮) হত্যা মামলায় অভিযুক্ত এক ব্যক্তিকে সুনামগঞ্জ থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৯।
মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে সুনামগঞ্জ জেলার জগন্নাথপুর থানাধীন আশারকান্দি ইউনিয়নের অলিতলী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়
গ্রেফতারকৃত ব্যক্তি হলেন—জুয়েল মিয়া (৩০)। তিনি সিলেটের বালাগঞ্জ থানার কিত্তেজালালপুর এলাকার সুরুজ মিয়ার ছেলে।
র্যাব-৯ জানায়, নিহত আব্দুল মতিন মৌলভীবাজার সদর মডেল থানাধীন শমসেরনগর রোডের লতপুর এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। মামলার আসামিরা নিহতের আপন ভাই-বোন। পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে তাদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে আদালতে একাধিক মামলাও চলমান ছিল।
র্যাবের তথ্যমতে, গত ২৮ জুন সকাল আনুমানিক সাড়ে ৯টার দিকে আদালতে চলমান একটি মামলায় সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে মৌলভীবাজার আদালতের দিকে রওনা হন আব্দুল মতিন। আদালতে সাক্ষ্য দেওয়ার পর তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।
পরে তার স্ত্রী মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ফোনটি বন্ধ পান। পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।
একই দিন রাত আনুমানিক ১০টা ৪৫ মিনিটে নিহতের এক প্রতিবেশী মো. সালিকের মাধ্যমে তার স্ত্রী জানতে পারেন, সুন্দর মিয়ার পুকুরের পাশে পাকা রাস্তার ওপর আব্দুল মতিনের রক্তাক্ত মরদেহ পড়ে রয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তার স্ত্রী মরদেহ শনাক্ত করেন।
নিহতের স্ত্রীর ধারণা, পৈতৃক সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে আসামিরা পরস্পর যোগসাজশে আব্দুল মতিনকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার পাশে ফেলে রেখে যায়। এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে মৌলভীবাজার সদর মডেল থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।
মামলার পর আসামিদের আইনের আওতায় আনতে র্যাব-৯ ছায়া তদন্ত শুরু করে এবং গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করে।
এরই ধারাবাহিকতায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র্যাব-৯-এর সিপিসি-২, শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার এবং সিপিসি-৩, সুনামগঞ্জের যৌথ অভিযানিক দল মঙ্গলবার রাতে জগন্নাথপুর থানাধীন আশারকান্দি ইউনিয়নের অলিতলী এলাকায় অভিযান চালায়। এ সময় মৌলভীবাজার সদর থানার মামলা নম্বর-৩৭, তারিখ ৩০ জুন ২০২৬; দণ্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় করা মামলার তদন্তে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে জুয়েল মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়।
র্যাব আরও জানায়, একই মামলায় গত ৬ আগস্ট আরও একজন অভিযুক্তকে র্যাব-৯ গ্রেফতার করেছিল।
এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন র্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কে এম শহিদুল ইসলাম সোহাগ জানান, গ্রেফতার আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের লক্ষ্যে তাকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।
র্যাব-৯ জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে তাদের গোয়েন্দা তৎপরতা ও চলমান অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সিলেট থেকে আরো পড়ুন