আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের ‘এইচ-১বি’ ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৯:৩৫

যুক্তরাষ্ট্রের ‘এইচ-১বি’ ভিসাপ্রত্যাশীদের জন্য বড় দুঃসংবাদ!

ছবি সংগৃহীত :

যুক্তরাষ্ট্রে বিদেশি দক্ষ কর্মীদের মধ্যে সবচেয়ে জনপ্রিয় ভিসা ‘এইচ-১ বি’ বন্ধ করার উদ্যোগ নিয়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। এই ভিসা কর্মসূচি অন্তত তিন বছরের জন্য স্থগিত এবং নিয়ম আরও কঠোর করার প্রস্তাব দিয়ে সিনেটে বিল উত্থাপন করেছেন রিপাবলিকান সিনেটর টিম শিহি।

 

 

 

এই বিল পাস হলে বিদেশি কর্মী নিয়োগ, গ্রিন কার্ডের সুযোগ এবং পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে নেওয়ার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে। খবর দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়ার। 

বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, আগামী তিন বছরের জন্য নতুন কোনো এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হবে না। এ সময়ে পুরো কর্মসূচি পুনর্মূল্যায়ন করে ভবিষ্যতে আরও কঠোর শর্তে ভিসা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে ট্রাম্প প্রশাসনের।

বিলটির সমর্থকদের দাবি, এইচ-১বি কর্মসূচি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ কর্মীর ঘাটতি পূরণের জন্য চালু হলেও অনেক প্রতিষ্ঠান কম খরচে বিদেশি কর্মী নিয়োগ করে মার্কিন নাগরিকদের চাকরির সুযোগ কমিয়ে দিচ্ছে। সিনেটর টিম শিহির ভাষায়, এই কর্মসূচির অপব্যবহার বন্ধ করে মার্কিন কর্মীদের স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়াই নতুন আইনের উদ্দেশ্য।
 
প্রস্তাবিত বিলে ট্রাম্প প্রশাসনের পূর্বঘোষিত প্রতিটি এইচ-১বি আবেদনের জন্য এক লাখ ডলার ফি আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক করার কথাও বলা হয়েছে। পাশাপাশি বর্তমান লটারি পদ্ধতি বাতিল করে বেতনভিত্তিক নির্বাচন ব্যবস্থা চালুর প্রস্তাব রয়েছে নতুন বিলে।

তৃতীয় পক্ষের স্টাফিং এজেন্সির মাধ্যমে নিয়োগ, একাধিক প্রতিষ্ঠানে একসঙ্গে কাজের সুযোগ এবং এইচ-১বি ভিসাধারীদের গ্রিন কার্ডের জন্য আবেদন করার বর্তমান সুবিধাও সীমিত বা বাতিল করার কথা বলা হয়েছে এতে। এছাড়া পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনার সুযোগও বন্ধ হতে পারে।

শুধু কর্মী ভিসা নয়, বিদেশি শিক্ষার্থীদের জন্যও কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে এই বিলে। অপশনাল প্র্যাকটিক্যাল ট্রেনিং বা ওপিটি কর্মসূচি বাতিল এবং নির্দিষ্ট এক্সচেঞ্জ ভিসাধারীদের কাজের অনুমতি প্রত্যাহারের প্রস্তাব রাখা হয়েছে এতে। একই সঙ্গে ফেডারেল সরকারি সংস্থাগুলোতে অ-অভিবাসী ভিসাধারীদের নিয়োগে নিষেধাজ্ঞার কথাও বলা হয়েছে। 

অবশ্য, এসব পরিবর্তন কার্যকর হতে হলে বিলটি প্রথমে সিনেট, এরপর প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়ে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষর পেতে হবে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি বছর প্রতি বছর প্রায় ৬৫ হাজার এইচ-১বি ভিসা ইস্যু করা হয়। এর পাশাপাশি দেশটিতে উচ্চতর ডিগ্রিধারী আবেদনকারীদের জন্য অতিরিক্ত ২০ হাজার ভিসা সংরক্ষিত থাকে। ভারত, বাংলাদেশ ও চীনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে দক্ষ কর্মীদের নিয়োগের জন্য প্রযুক্তি সংস্থাগুলো এই কর্মসূচিটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার করে।

আন্তর্জাতিক থেকে আরো পড়ুন