বাংলাদেশ

যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ডে ২৫ লাখ টাকায় ভাড়া করা পেশাদার ৮ খুনি গ্রেফতার

নতুন সিলেট ডেস্ক:

নতুন সিলেট ডেস্ক:

প্রকাশ: ২৭ জুলাই ২০২৬ ১৮:৩০

যুবদল কর্মী হত্যাকাণ্ডে ২৫ লাখ টাকায় ভাড়া করা পেশাদার ৮ খুনি গ্রেফতার

ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ আলী ওরফে পারভেজ হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে পরিকল্পিত টার্গেট ছিলেন কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবু। তাকে হত্যার জন্য ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়েছিল।

তবে হামলার সময় গুলিতে নিহত হন ইউসুফ। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত আটজনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

সোমবার (২৭ জুলাই) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ডিবি) শফিকুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, কাফরুল থানার ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশের লিংক রোডে সশস্ত্র দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন।

এসময় সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মো. মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। হামলার পর পালানোর সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ চঞ্চল নামে এক অস্ত্রধারীকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেয়।
 
এ ঘটনায়  গ্রেফতারকৃতরা হলেন– চঞ্চল মোল্লা (৩৪), জিহাদ মোল্লা (৩০), জিয়ারুল মোল্লা (৩৯), মাসুম বিল্লাহ (২৮), নাহিদ হাসান (২১), আবির হাওলাদার (২৫), আলী হোসেন (৪৫) ও শাফিন আহমেদ (২২)।

ডিবি জানায়, নিহত ইউসুফের বড় ভাই মো. মাসুদ রানা বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। এরপর থানা পুলিশের পাশাপাশি ডিবির মিরপুর বিভাগ ছায়া তদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রথমে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জিয়ারুল, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা ও মাসুম বিল্লাহকে বিভিন্ন জেলা থেকে  গ্রেফতার করা হয়। এছাড়া আবির হাওলাদারকে স্থানীয় জনতা আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে।

তদন্তে উঠে এসেছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ এবং কাফরুল থানা যুবদলের সদস্যসচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। স্থানীয় ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত নিয়ন্ত্রণ, ব্যবসা ও একটি টিনশেড বাড়ির দখল নিয়ে এই বিরোধের সূত্রপাত হয়।

ডিবির দাবি, সেই বিরোধের জেরেই হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য প্রায় ২৫ লাখ টাকার বিনিময়ে মাগুরা ও ঝিনাইদহ থেকে চার পেশাদার খুনি ভাড়া করা হয়। গত ২৯ জুন প্রথমবার হত্যাচেষ্টার প্রস্তুতি নেওয়া হলেও অস্ত্রে মিসফায়ারের কারণে পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়। পরে ২২ জুলাই অভিযুক্তরা আবার ঢাকায় এসে মিরপুর-২ এলাকার একটি হোটেলে ওঠে এবং ২৩ জুলাই রাতে হামলার প্রস্তুতি নেয়।

ডিবি জানায়, ঘটনার রাতে হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের সামনে অবস্থান নেওয়া সন্দেহভাজনদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা নিজেদের মিরপুর-১০ এলাকার বাসিন্দা বলে পরিচয় দেয়। পরে তল্লাশির চেষ্টা করলে একজন অস্ত্র বের করে ইউসুফকে গুলি করে। এসময় দুর্বৃত্তদের ছোড়া এলোপাতাড়ি গুলিতে নালাম সরদার ও মনির হোসেন আহত হন।

সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, তদন্তে আরও কয়েকজনের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যেতে পারে। রাজনৈতিক পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতরা জানিয়েছেন, হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজ তাদের ভাড়া করে ঢাকায় নিয়ে আসেন।

তিনি আরও বলেন, আসন্ন কাউন্সিলর নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও এই হামলার পরিকল্পনা হয়ে থাকতে পারে। চুক্তির ২৫ লাখ টাকার একটি অংশ অগ্রিম দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া হোটেলে থাকা ও অন্যান্য খরচও বহন করা হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে। অন্য অস্ত্রগুলোর উৎস শনাক্তে তদন্ত চলছে।

ডিবি জানায়, এ ঘটনায় কাফরুল থানায় হত্যা ও অস্ত্র আইনে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। হত্যা মামলার তদন্ত বর্তমানে ডিবি করছে। গ্রেফতারকৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং পলাতক অন্য আসামিদের  গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত আছে

বাংলাদেশ থেকে আরো পড়ুন