ছবি সংগৃহীত :
এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়নের (আকু) আমদানি বিল পরিশোধের পর বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৪৮৫ কোটি ৫৮ লাখ ১০ হাজার ডলার বা ৩৪ দশমিক ৮৫ বিলিয়ন ডলারে।
একই সময়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) হিসাবায়ন পদ্ধতি অনুযায়ী, দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ দাঁড়িয়েছে ২ হাজার ৯৯৮ কোটি ৫৭ লাখ ৫০ হাজার ডলার বা ২৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাংলাদেশ ব্যাংকের সংশ্লিষ্ট দপ্তর থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
আকুর মাধ্যমে সদস্য দেশগুলোর মধ্যে আমদানি-রপ্তানি সংক্রান্ত লেনদেনের দায় বা দেনা সাধারণত প্রতি দুই মাস পরপর পরিশোধ ও নিষ্পত্তি করা হয়।
অর্থাৎ, দুই মাস অন্তর সদস্য দেশগুলোর কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মধ্যে আমদানির বিপরীতে পাওনা ও দেনার হিসাব সমন্বয় করা হয়।
বর্তমানে আকুর সদস্য দেশ ৯টি।
দেশগুলো হলো—বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মিয়ানমার, ইরান ও মালদ্বীপ।
বাংলাদেশ ব্যাংক প্রধানত তিন ধরনের পদ্ধতিতে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের হিসাব করে।
এগুলো হলো—গ্রস বা স্থূল রিজার্ভ, আইএমএফের বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী রিজার্ভ এবং প্রকৃত নিট রিজার্ভ বা নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর)।
গ্রস বা স্থূল রিজার্ভ হলো বাংলাদেশ ব্যাংকের অধীনে থাকা মোট বৈদেশিক মুদ্রার সম্পদ। এর মধ্যে রপ্তানি উন্নয়ন তহবিল (ইডিএফ), বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ এবং আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের বিশেষ অঙ্কন অধিকারসহ (এসডিআর) বিভিন্ন ধরনের সম্পদ অন্তর্ভুক্ত থাকে।
অন্যদিকে, আইএমএফের ব্যালান্স অব পেমেন্টস ম্যানুয়াল (ষষ্ঠ সংস্করণ) বা বিপিএম৬ পদ্ধতি অনুযায়ী হিসাব করা রিজার্ভের পরিমাণ তুলনামূলকভাবে কম। এ পদ্ধতিতে ইডিএফসহ বিভিন্ন ধরনের স্বল্প-তরল ও দায়বদ্ধ তহবিল বাদ দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবহারযোগ্য প্রকৃত বৈদেশিক মুদ্রার হিসাব করা হয়।
এ ছাড়া প্রকৃত নিট রিজার্ভ বা নেট ইন্টারন্যাশনাল রিজার্ভ (এনআইআর) হলো বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভ থেকে স্বল্পমেয়াদি বৈদেশিক দেনা, বিভিন্ন বৈদেশিক দায় এবং আইএমএফের বকেয়া ঋণ পরিশোধের দায় বাদ দেওয়ার পর অবশিষ্ট অর্থের পরিমাণ।
বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়মিত গ্রস রিজার্ভ ও বিপিএম৬ পদ্ধতিতে হিসাব করা রিজার্ভের তথ্য প্রকাশ করলেও প্রকৃত নিট রিজার্ভের তথ্য সাধারণত প্রকাশ করে না।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.