প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ২২:৩৯ (শনিবার)
সুনামগঞ্জে দুই পক্ষের সংঘর্ষ, নারী-পুরুষসহ আহত ৩০

সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জে আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারী-পুরুষসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার পশ্চিম বীরগাঁও ইউনিয়নের দূর্বাকান্দা গ্রামে ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল সহিদের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২ নভেম্বর বিকেলে ইউপি সদস্য কামাল মিয়া তাঁর অসুস্থ এক স্বজনকে দেখতে আব্দুল সহিদকে বাড়িতে আসতে বলেন। আব্দুল সহিদ সেখানে গেলে তাঁকে মারধর করে আহত করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধের সূত্রপাত হয়।

এরই ধারাবাহিকতায় বৃহস্পতিবার সকালে আব্দুল সহিদের নেতৃত্বে খোকন মিয়া, সুহেল মিয়া, জাহিদ হাসান, মতিন মিয়া, আলকাছ মিয়া, রাজু মিয়া, নাদির মিয়া, কামাল মিয়া, ছামির মিয়া, আব্দুল কাদির, মোহাম্মদ আলী, শাহজাদা, জিয়াউর রহমান ও মহিবুর রহমানসহ প্রায় ৩০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের বাড়িঘরে হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে।

এ সময় উভয় পক্ষের লোকজনের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে রামদা, সুলফি, জাটা ও কিরিচসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। এতে ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম, আজমান আলী, সুয়েব মিয়া, ফাজিল মিয়া, রিয়াজ উদ্দিন, সুজাত মিয়া ও নার্গিস বেগমসহ অন্তত ১৮ জন আহত হন। অপর পক্ষের আব্দুল সহিদসহ সাতজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে।

গুরুতর আহত সাহাজ উদ্দিন ও আজমান আলীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ইউপি সদস্য সাইদুল ইসলাম জানান, গ্রামবাসী সামাজিক সালিশের মাধ্যমে হামলায় জড়িত আব্দুল সহিদসহ কয়েকজনকে একঘরে করে রাখার সিদ্ধান্ত নেন। ওই সিদ্ধান্ত ঘোষণাকারীদের ওপর হামলার ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিপক্ষের লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে বলে তিনি দাবি করেন।

তবে হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে আব্দুল সহিদ বলেন, “আগে সাইদুল মেম্বারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা করে। আমরা প্রতিরোধ করলে সংঘর্ষ হয়। এতে আমিসহ আমাদের পক্ষের সাতজন আহত হয়েছেন।”

সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর ও শান্তিগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রফিকুল ইসলাম জানান, আধিপত্য বিস্তার ও পূর্বশত্রুতার জেরে ইউপি সদস্য মো. সাইদুল ইসলাম ও আব্দুল সহিদের লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৩০ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে দুজন গুরুতর আহত।

তিনি আরও জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।