প্রকাশিত: ০৫ নভেম্বর, ২০২৬ ১৬:০৯ (বৃহস্পতিবার)
কমলগঞ্জে তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনায় ধর্ষণ মামলা,পরিবারের দাবি ষড়যন্ত্র

মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে একটি টমেটো বাগান থেকে অচেতন ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় এক তরুণীকে উদ্ধারের ঘটনায় দায়ের করা ধর্ষণ মামলায় শিপু মিয়া (২৫) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে শিপুর পরিবারের দাবি, স্থানীয় ইউপি সদস্যের সঙ্গে পূর্ববিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) দুপুরে কমলগঞ্জ প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন গ্রেফতার শিপু মিয়ার স্ত্রী আম্বিয়া বেগম। এ সময় তাঁর শ্বশুর কুতুব আলী উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আম্বিয়া বেগম জানান, গত ২ নভেম্বর দিবাগত রাত দেড়টার দিকে তাঁর স্বামীকে পুলিশ আটক করে নিয়ে যায়। ওই রাতে শিপু হেরেঙ্গাবাজারের সোহেল মিয়ার টমেটোর দোকানে কাজ শেষে রাত সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরেন। খাওয়াদাওয়া শেষে তিনি ঘরে অবস্থান করলেও আম্বিয়া নিজেদের টমেটো বাগান দেখতে যান।

তিনি বলেন, রাত সাড়ে ১২টার দিকে আবার বাগানে গিয়ে মুঠোফোনের আলো দেখতে পান। কাছে গিয়ে একজনকে শুয়ে থাকতে দেখে বিষয়টি স্বামী ও ভাশুর শিমুল মিয়াকে জানান। পরে তাঁরা বাগানে গিয়ে পাশের বাড়ির এক তরুণীকে অর্ধনগ্ন অবস্থায় দেখতে পান। বিষয়টি স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির আলী ও সাবেক নারী ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগমকে জানানো হয়।

আম্বিয়ার ভাষ্য অনুযায়ী, পরে রাবেয়া বেগমকে সঙ্গে নিয়ে বাগানের দক্ষিণ পাশের একটি নালা থেকে ওই তরুণীকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। তাঁকে শিপুদের বাড়ির উঠানে নিয়ে হাত-মুখে পানি দেওয়া হয়। এ সময় ইউপি সদস্য মনির আলীসহ পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। তবে এর আগেই শ্বশুরের দোকানে যাওয়ার পথে পুলিশ তাঁর স্বামীকে আটক করে বলে দাবি করেন আম্বিয়া।

সংবাদ সম্মেলনে আম্বিয়া বেগম অভিযোগ করেন, স্থানীয় ইউপি সদস্য মনির আলীর সঙ্গে তাঁদের পরিবারের দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সেই বিরোধের জের ধরেই তাঁর স্বামীকে এ মামলায় জড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া এর আগেও তাঁর বড় ছেলেকে মিথ্যা চুরির মামলায় ফাঁসানো হয়েছিল বলে দাবি করেন তিনি।

শিপুর বাবা কুতুব আলীও সংবাদ সম্মেলনে ছেলেকে পরিকল্পিতভাবে ফাঁসানোর অভিযোগ করেন।

এদিকে সাবেক নারী ইউপি সদস্য রাবেয়া বেগম বলেন, রাতে ফোন পেয়ে তিনি শিপু মিয়ার টমেটো বাগানে যান। সেখানে ওই তরুণীকে অচেতন ও অর্ধনগ্ন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। পরে তাঁকে উদ্ধার করে শিপুর বাড়িতে নেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার আগেই সড়ক থেকে শিপুকে আটক করেছিল বলেও জানান তিনি।

তবে শিপুর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইউপি সদস্য মনির আলী। তিনি বলেন, পূর্ববিরোধের জেরে শিপুকে ফাঁসানোর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। পুলিশ ফোন করে সহযোগিতা চাইলে তিনি ঘটনাস্থলে যান। পরে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে সেখানে গেলে ঘর্ষণের আলামত পাওয়া যায় বলেও দাবি করেন তিনি।

এ বিষয়ে শ্রীমঙ্গল-কমলগঞ্জ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ওয়াহিদুজ্জামান রাজু বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। প্রাথমিকভাবে টমেটো বাগানের মালিক শিপু মিয়াকে আটক করা হয়। পরে ভুক্তভোগী তরুণীর বক্তব্য ও বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে দুজনকে আসামি করে থানায় মামলা করা হয়েছে। ওই মামলায় শিপু মিয়াকে গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।