প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৭:১৬ (বুধবার)
মাঠে আঘাতের পর হাসপাতালে ফুটবলারের মৃত্যু

ছবি: সংগৃহীত

স্পেনের ফুটবলে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ম্যাচ চলাকালে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষকের সঙ্গে সংঘর্ষে গুরুতর আহত হওয়ার পর হাসপাতালে মারা গেছেন দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব সিডি টেনেরিফের স্ট্রাইকার হেসুস দে মিগেল। ৩০ বছর বয়সী এই ফুটবলার 

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

সোমবার (২ নভেম্বর) এফসি আন্দোরার বিপক্ষে ম্যাচে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। টেনেরিফের মাঠ এস্তাদিও হেলিওদোরো রদ্রিগেজ লোপেজে ম্যাচের শেষ দিকে বলের দখল নিতে গিয়ে প্রতিপক্ষ গোলরক্ষক হেসুস ওনোর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান দে মিগেল। এ সময় গোলরক্ষকের হাঁটু বা শরীরের আঘাত তার বুকে লাগে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

সংঘর্ষের পরপরই মাঠে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন এই স্ট্রাইকার। দ্রুত মাঠে প্রবেশ করে চিকিৎসক দল তাকে জরুরি চিকিৎসা দেয়। শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক রাখতে ইনটিউবেশন করা হয়। পরে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নেওয়ার সময় তার হৃদ্‌যন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে সিপিআর দেওয়ার পর অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।

ঘটনার সময় ম্যাচটি ২-২ গোলে সমতায় ছিল। দুর্ঘটনার পর খেলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। শেষ পর্যন্ত ১০৮ মিনিটে ম্যাচটি পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন কর্মকর্তারা।

দে মিগেলকে ক্যানারি দ্বীপপুঞ্জের সান্তা ক্রুজ শহরের ইউনিভার্সিতারিও নুয়েস্ত্রা সেনোরা দে কান্দেলারিয়া হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। শুরুতে তার অবস্থা গুরুতর হলেও স্থিতিশীল ছিল বলে জানায় টেনেরিফ কর্তৃপক্ষ। তবে পরবর্তী সময়ে তার স্নায়বিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

মঙ্গলবার সকালে এক বিবৃতিতে দে মিগেলের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে সিডি টেনেরিফ। ক্লাবটি জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় মারা যান এই ফুটবলার। তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে ক্লাব কর্তৃপক্ষ।

২০১৫ সালে লেগানেস বি দলের হয়ে সিনিয়র ক্যারিয়ার শুরু করেন দে মিগেল। এরপর স্পেনের আরও আটটি ক্লাবে খেলেছেন তিনি। গত বছর যোগ দেন সিডি টেনেরিফে।

শোকবার্তায় ক্লাবটি জানায়, এই কঠিন সময়ে শোকাহত পরিবার, স্বজন এবং টেনেরিফের সমর্থকদের পাশে রয়েছে তারা। তার আকস্মিক মৃত্যুতে স্পেনের বিভিন্ন ক্লাব, খেলোয়াড় ও ফুটবলসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাও শোক প্রকাশ করছেন।

মাত্র ৩০ বছর বয়সে মাঠের এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় দে মিগেলের মৃত্যু স্প্যানিশ ফুটবলে গভীর শোকের আবহ তৈরি করেছে।