প্রকাশিত: ০৩ নভেম্বর, ২০২৬ ১৫:২৮ (বুধবার)
হবিগঞ্জে বসতবাড়ি থেকে ১৩৭ বিষধর সাপ উদ্ধার, বিপাকে বন বিভাগ

হবিগঞ্জের বিভিন্ন বসতবাড়ি ও আঙিনা থেকে ১৩৭টি বিষধর সাপ ও পাঁচটি সাপের ডিম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া সাপগুলোর মধ্যে রয়েছে ৭০টি পদ্ম গোখরা ও ৬০টি খৈয়া গোখরা। এছাড়া সাতটি দাঁড়াশ সাপও উদ্ধার করা হয়েছে।

১৩৭টি বিষধর সাপ নিয়ে বিপাকে পড়েছে বন বিভাগ। একসঙ্গে এত বিপুলসংখ্যক সাপ কোথায় অবমুক্ত করা হবে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। জননিরাপত্তা ও জীববৈচিত্র্যের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে সাপগুলো অবমুক্তির বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

সোমবার (২ নভেম্বর) উদ্ধার করা এসব সাপ বর্তমানে হবিগঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের হেফাজতে রয়েছে। উপযুক্ত প্রাকৃতিক পরিবেশ নির্ধারণ করে শিগগিরই সাপগুলো অবমুক্ত করা হবে বলে জানিয়েছে বন বিভাগ।

বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি জেলার বিভিন্ন এলাকার বসতবাড়ি, আঙিনা ও আশপাশের স্থান থেকে সাপগুলো উদ্ধার করা হয়। লোকালয়ে সাপের উপস্থিতি দেখে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন স্থানীয় বাসিন্দারা। পরে খবর পেয়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করা সংগঠন জীববৈচিত্র্য ফেডারেশনের সদস্যরা সাপগুলো উদ্ধার করেন।

উদ্ধারের পর জীববৈচিত্র্য ফেডারেশনের উদ্যোগে সাপগুলো হবিগঞ্জ বিভাগীয় বন কর্মকর্তার কার্যালয়ে হস্তান্তর করা হয়। উদ্ধার করা পাঁচটি ডিমের মধ্যে কয়েকটি থেকে ইতোমধ্যে বাচ্চাও ফুটেছে।

বন বিভাগ জানিয়েছে, সাপগুলো লোকালয়ের কাছাকাছি বা জনবসতিপূর্ণ এলাকায় অবমুক্ত করা হবে না। মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাপগুলোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ বিবেচনায় নিয়ে নিরাপদ প্রাকৃতিক স্থান নির্ধারণের কাজ চলছে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, হবিগঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, উপযুক্ত স্থান নির্ধারণের পর শিগগিরই সাপগুলো প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে। এতে মানুষের ঝুঁকি কমার পাশাপাশি প্রাকৃতিক পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।