ছবি: সংগৃহীত
পিরোজপুরের চিতলিয়া গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর জানাজা ও দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে বরিশালে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধারা। এ সময় জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনকে সামাজিকভাবে বয়কটের ঘোষণা দেন এক মুক্তিযোদ্ধা নেতা।
সোমবার (২ নভেম্বর) বেলা ১১টার দিকে বরিশাল নগরের বগুড়া রোডে জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবনের সামনে এ কর্মসূচি পালিত হয়। বাংলাদেশ মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বরিশাল জেলা ও মহানগর কমান্ড যৌথভাবে এ কর্মসূচির আয়োজন করে।
এতে বীর মুক্তিযোদ্ধা, তাদের পরিবারের সদস্য এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
প্রতিবাদ সভায় বক্তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর দাফনে বাধা দেওয়ার অভিযোগের তীব্র নিন্দা জানান।
তারা এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দেন মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল আলম ফরিদ।
তিনি অভিযোগ করেন, দেশের স্বাধীনতার জন্য লড়াই করা বীর মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর গার্ড অব অনার ও দাফনে জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা প্রকাশ্যে বাধা দিয়েছেন। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে কোনো পুরুষ সদস্যকে কবরের ভেতরে নামতে দেওয়া হয়নি। পরে বাধ্য হয়ে মানিক পশারীর বোন ও মেয়ে নিজেরাই কবর খুঁড়ে তাকে দাফন করেন।
নুরুল আলম ফরিদ আরও অভিযোগ করেন, এ ঘটনার পর নিরাপত্তাহীনতার কারণে মানিক পশারীর মেয়ে পিরোজপুর ছেড়ে গেছেন।
ঘটনাটিকে ঘৃণ্য ও নজিরবিহীন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা আইন নিজের হাতে তুলে নেবেন না। বরং জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনকে সামাজিকভাবে বয়কট করবেন। একই সঙ্গে দেশের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন রাখতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা নিয়ে কেউ ষড়যন্ত্র করতে পারবে না। মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী নতুন প্রজন্মকে এ বিষয়ে সজাগ থাকতে হবে। জামায়াতে ইসলামী ও এর অঙ্গসংগঠনকে সামাজিকভাবে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করার বিষয়ে নিয়মতান্ত্রিক আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষে নুরুল আলম ফরিদ বলেন, “রাজাকার-আলবদরদের এ দেশে স্থান নেই, কোনো দিন হবেও না।” এ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
নিহত মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর থেকে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় মেয়ের জামাইয়ের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। দীর্ঘ দুই মাস অসুস্থ থাকার পর গত ২৪ অক্টোবর শনিবার সকালে সেখানে তার মৃত্যু হয়।
পরিবারের সদস্যরা জানান, মৃত্যুর পর মরদেহ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে নিয়ে গেলে সেখানে প্রথমে গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। পরে মরদেহ পিরোজপুর পুলিশ লাইনসে নেওয়া হলে সেখানে গার্ড অব অনার সম্পন্ন করা হয়।
এরপর দিনভর নানা বাধা-বিপত্তির মুখে শনিবার গভীর রাতে, রাত দেড়টার দিকে মানিক পশারীর মেয়ে ও বোনের খোঁড়া কবরে তার দাফন সম্পন্ন হয় বলে পরিবারের সদস্যরা জানান।
এ ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বরিশালের প্রতিবাদ কর্মসূচি থেকে বক্তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং প্রকৃত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.