প্রকাশিত: ০১ নভেম্বর, ২০২৬ ১৮:০৮ (সোমবার)
চারদিনের রিমান্ডে সাবেক সেনা কর্মকর্তা হাফিজ 

ছবি: সংগৃহীত

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উসকানিমূলক অপপ্রচার, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অর্থায়ন এবং রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্রের অভিযোগে রাজধানীর পল্লবী থানার মামলায় গ্রেফতার অবসরপ্রাপ্ত মেজর ড. খন্দকার আব্দুল হাফিজকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

রোববার (১ নভেম্বর) বিকেলে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রাকিবুল হাসান এ রিমান্ড আদেশ দেন।

এর আগে, মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (দক্ষিণ)-এর পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) শেখ বশির আহমেদ আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৭ দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করেন। শুনানিকালে তাকে আদালতে হাজির করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে অ্যাডভোকেট হারুন অর রশীদ রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন। পরে আদালত তার রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

রিমান্ড আবেদনে তদন্ত কর্মকর্তা উল্লেখ করেন, আসামি খন্দকার আব্দুল হাফিজ তার সহযোগী লে. (অব.) কাজী গুলশান আরা ও লে. কর্নেল (অব.) দেবাশীষসহ (৪৭) অন্যান্য আসামিদের সহায়তায় সরকারবিরোধী হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে তহবিল সংগ্রহ এবং সহিংস উসকানিমূলক ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করছিলেন।

আবেদনে আরও বলা হয়, কতিপয় অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তার সমন্বয়ে গঠিত ‘Unity Care’ ও ‘Public Parliament’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদ, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠনের পুনর্বাসন এবং রাষ্ট্রবিরোধী সহিংস অপরাধের ষড়যন্ত্র চালিয়ে আসছিলেন। তার ‘Khondokar A Hafiz’ ফেসবুক আইডিসহ বিভিন্ন পেজের মাধ্যমে সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো কনটেন্ট পোস্ট করে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা এবং পুলিশ হত্যার পক্ষে অপপ্রচার চালানো হচ্ছিল। গত ৫ আগস্টের পর থেকে বর্তমান সরকার ও দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র, কুৎসামূলক প্রচারণা এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের সঙ্গে আসামির যোগাযোগের তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তের স্বার্থে আসামিকে হেফাজতে নিয়ে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আবেদনে যেসব কারণে তাকে রিমান্ডে চাওয়া হয়— অন্যান্য সহযোগী আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ ও বর্তমান অবস্থান শনাক্ত করা। রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কাজে নিয়োজিত দেশি ও বিদেশি গুপ্তচরদের শনাক্ত করা। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ডিজিটাল আলামত উদ্ধার ও জব্দ করা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচালিত অন্য কোনো গোপন পেজ বা ওয়েবসাইট আছে কি না তা বের করা। মামলার মূল রহস্য উদঘাটন এবং দেশবিরোধী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন প্রতিহত করা। আসামির কাছ থেকে জব্দ করা আলামত যাচাই-বাছাই করা।

এর আগে, শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাতে রাজধানীর বনানী এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।

গত ১২ অক্টোবর রাজধানীর পল্লবী থানায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিদর্শক মো. আলী আকবরের দায়ের করা এ মামলায় অভিযোগ করা হয়, আসামিরা ‘ইউনিটি কেয়ার’ ও ‘পাবলিক পার্লামেন্ট’ প্ল্যাটফর্ম এবং বিভিন্ন হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপের মাধ্যমে সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল (অব.) আজিজ আহমেদসহ পলাতক শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রক্ষা করে আসছিলেন। এর মাধ্যমে তারা নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের লক্ষ্যে অবৈধ তহবিল সংগ্রহ, ‘কালআজকাল.কম’ ফেসবুক পেজ ও টকশোর মাধ্যমে উসকানি ছড়ানো, ‘বঙ্গবন্ধু সেনা পরিষদ’ গঠন এবং দেশি-বিদেশি গুপ্তচরদের যোগসাজশে ৫ আগস্টের পর থেকে সরকারের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহমূলক ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন।