প্রকাশিত: ৩১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪৭ (রবিবার)
ওসমানী হাসপাতালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ সমাবেশ

সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে দুই সাংবাদিকের ওপর ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সমাবেশে সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেছেন, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের অধিকারকে শৃঙ্খলিত করতেই সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনক হামলা চালানো হয়েছে। এ হামলা শুধু সাংবাদিকদের ওপর নয়, বরং গোটা সিলেটবাসীর ওপর আঘাত। ওসমানী হাসপাতাল সিলেটবাসীর সম্পদ, এখানে কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে সর্বস্তরের সাংবাদিকদের উদ্যোগে এ প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে সিলেটের বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, রাজনীতিবিদ, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ সংহতি প্রকাশ করে অংশ নেন।

সিলেট প্রেসক্লাবের সভাপতি মুকতাবিস-উন-নূরের সভাপতিত্বে এবং জেলা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিনের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, এই প্রতিবাদ সমাবেশ শুধু সাংবাদিকদের নয়, পুরো সিলেটবাসীকে জাগ্রত করার সমাবেশ। অতীতে ওসমানী হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসকদের বিভিন্ন আন্দোলনের সময় সাংবাদিকরাই তাদের পক্ষে সংবাদ প্রচার করেছেন। অথচ আজ সেই সাংবাদিকদেরই রক্তাক্ত হতে হয়েছে।

বক্তারা আরও বলেন, হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা ব্যাহত করে রোগীদের জিম্মি করার সংস্কৃতি কোনোভাবেই চলতে পারে না। পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের অবিলম্বে আইনের আওতায় আনতে হবে।

সমাবেশে সাংবাদিক নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ঘটনার তিন দিন অতিবাহিত হলেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। অতীতে হাসপাতালের অচলাবস্থা নিরসনে প্রশাসন তাৎক্ষণিক ভূমিকা পালন করলেও সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় বিচার ও নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনে বিলম্ব হচ্ছে। এতে সাধারণ মানুষের আস্থার জায়গা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

তারা বলেন, এ হামলা পুরো চিকিৎসক সমাজের ভাবমূর্তিকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ওসমানী হাসপাতালে যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা, সন্ত্রাস ও মাস্তানি বন্ধে দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে হবে এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনতে হবে।

বক্তারা অভিযোগ করেন, ইন্টার্ন চিকিৎসকদের একটি অংশের বিরুদ্ধে রোগীর স্বজন ও সাধারণ মানুষকে হেনস্তা এবং লাঠিসোটা দিয়ে মারধরের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। গত বুধবার দুই সাংবাদিকের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় ওসমানী মেডিকেল কলেজ কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে।

নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট করে বলেন, এ ঘটনায় কোনো আপসকামী সমাধান মেনে নেওয়া হবে না। সাংবাদিকদের সম্মান রক্ষা এবং সাধারণ মানুষের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করতে শিগগিরই বৈঠকে বসে পরবর্তী কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মঈন উদ্দিন, সিলেট প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম, সাবেক সভাপতি ইকরামুল কবির ইকু, সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সিনিয়র সদস্য অধ্যক্ষ লিয়াকত শাহ ফরিদী, ইলেকট্রনিক মিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (ইমজা) সিলেটের সভাপতি মো. মাহবুবুর রহমান রিপন, বাংলাদেশ রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটি সিলেট ইউনিটের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল হক চৌধুরী (ভিপি মাহবুব), সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের সভাপতি গুলজার আহমদ হেলাল, বাংলাদেশ ফটো জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন সিলেট বিভাগীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হুমায়ূন কবীর লিটন এবং সিলেট অনলাইন প্রেসক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মাসুদ আহমদ রনি প্রমুখ।

এ সময় শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব, দক্ষিণ সুরমা ও বিশ্বনাথসহ বিভিন্ন উপজেলা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ সংহতি প্রকাশ করেন। এছাড়া সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাব, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সিলেট বিভাগীয় কমিটি এবং সিলেট কল্যাণ সংস্থাসহ বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ সমাবেশে উপস্থিত থেকে বক্তব্য দেন।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আল আজাদ, দৈনিক উত্তর পূর্বের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ফখরুল ইসলাম, দৈনিক সমকালের সিলেট ব্যুরো প্রধান মুকিত রহমানী, অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ তাজ উদ্দিন, সিনিয়র সাংবাদিক মোহাম্মদ মহসিন ও শফিকুর রহমান, জেলা প্রেসক্লাবের সহসভাপতি সজল ঘোষ, কোষাধ্যক্ষ আনন্দ সরকার, সহসাধারণ সম্পাদক রবি কিরণ সিংহ (মাইস্লাম রাজেশ), দপ্তর সম্পাদক আব্দুল আহাদ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক মো. রেজাউল হক ডালিম, তথ্যপ্রযুক্তি সম্পাদক আহমেদ জামিল, বাংলাদেশ নারী সাংবাদিক কেন্দ্রের সিলেট বিভাগীয় কমিটির সভাপতি বিলকিস আক্তার সুমি, সিলেট উইমেনস জার্নালিস্ট ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক শাকিলা ববি, সিনিয়র সাংবাদিক কাউছার চৌধুরীসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক ও সামাজিক ব্যক্তিবর্গ।

উল্লেখ্য, গত বুধবার (২৮ অক্টোবর) রাত আনুমানিক ১০টার দিকে এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনদের মারধরের খবর পেয়ে তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে যান দৈনিক শ্যামল সিলেটের ফটোসাংবাদিক রেজা রুবেল এবং নিবন্ধিত অনলাইন নিউজ পোর্টাল সিলেটভিউ২৪-এর নিজস্ব প্রতিবেদক নিবেন্দু তালুকদার। এ সময় তারা ইন্টার্ন চিকিৎসকদের হামলার শিকার হন।

অভিযোগ অনুযায়ী, ইন্টার্ন চিকিৎসকরা স্যালাইনের স্ট্যান্ড দিয়ে তাদের মাথায় আঘাতসহ বেধড়ক মারধর করেন। এতে দুই সাংবাদিক রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত হন। বারবার নিজেদের সাংবাদিক পরিচয়পত্র প্রদর্শন করেও হামলাকারীদের হাত থেকে রেহাই পাননি তারা। আহত দুই সাংবাদিকই সিলেট জেলা প্রেসক্লাবের সদস্য।