পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছেন। চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার দাঁড়িয়েছে ৫০ দশমিক ৯০ শতাংশ। এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছেন ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী। গত ২১ বছরের মধ্যে এটিই সিলেট শিক্ষা বোর্ডের সর্বনিম্ন পাসের হার। এর আগে ২০০৫ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ডটিতে সর্বনিম্ন ৪৪ দশমিক ৪০ শতাংশ পরীক্ষার্থী পাস করেছিলেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সিলেট শিক্ষা বোর্ডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পরীক্ষার ফলাফল ও বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরেন বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক বিলকিস সুমী।
বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর এইচএসসি পরীক্ষায় মোট পরীক্ষার্থী ছিলেন ৭২ হাজার ৭৪৫ জন। এর মধ্যে ছাত্র ২৯ হাজার ২১৭ জন এবং ছাত্রী ৪৩ হাজার ৫২৮ জন। অর্থাৎ পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় ছেলেদের তুলনায় মেয়েরা ১৪ হাজার ৩১১ জন বেশি ছিলেন। মোট পরীক্ষার্থীর মধ্যে নিয়মিত পরীক্ষার্থী ছিলেন ৫২ হাজার ৫৪০ জন। বাকিরা অনিয়মিত, মানোন্নয়ন ও প্রাইভেট পরীক্ষার্থী।
ফলাফলে পাসের হারে মেয়েরা এগিয়ে থাকলেও সর্বোচ্চ ফল জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেরা এগিয়ে রয়েছেন। সব মিলিয়ে এবার ১ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে সামগ্রিক পাসের হার গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
জেলাভিত্তিক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, সিলেট জেলা থেকে সবচেয়ে বেশি শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিয়েছেন। জেলার ১৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে পরীক্ষায় অংশ নেন ৩১ হাজার ২১৫ জন। সুনামগঞ্জ জেলার ৭৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৩ হাজার ৮৭০ জন, মৌলভীবাজার জেলার ৫৩টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১৪ হাজার ৭৩৯ জন এবং হবিগঞ্জ জেলার ৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে ১২ হাজার ৯২১ জন পরীক্ষার্থী অংশ নেন।
গত বছরের তুলনায় এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। ২০২৫ সালে সিলেট শিক্ষা বোর্ডে পরীক্ষার্থী ছিলেন ৬৯ হাজার ১৭২ জন। সে হিসাবে এবার পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়েছে ৩ হাজার ৫৭৩ জন।
তবে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা বাড়লেও পাসের হারে আশানুরূপ উন্নতি হয়নি। এর আগে ২০২৪ সালের তুলনায় ২০২৫ সালে সিলেট বোর্ডে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৩ হাজার ৪৮২ জন কমে গিয়েছিল। পরীক্ষার্থীর সংখ্যায় এমন বড় পতনের পর এবার সংখ্যা বাড়লেও ফলাফলে প্রত্যাশিত উন্নতি না হওয়ায় সিলেট অঞ্চলের শিক্ষার মান, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান এবং শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে গত ২১ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পাসের হার সিলেট শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলে বড় ধরনের অবনতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। পাসের হারে মেয়েদের এগিয়ে থাকা এবং জিপিএ-৫ অর্জনে ছেলেদের সাফল্য এবারের ফলাফলে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.