ছবি: সংগৃহীত
দেশে বর্তমানে ৪৬ লাখের বেশি মামলা বিচারাধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, মাত্র ২ হাজার ৩০০ বিচারকের পক্ষে বিপুলসংখ্যক মামলা নিষ্পত্তি করা পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। এই চাপ অনেক সময় বিচারকদের জন্য অমানবিক পরিস্থিতি তৈরি করে।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতের কনফারেন্স রুমে দুটি ই-পারিবারিক আপিল আদালতের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, বিশেষ করে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও মহানগরগুলোতে মামলার চাপ বেশি। যেসব জেলায় বেশি মামলা রয়েছে, সেখানে দ্রুত নিষ্পত্তিতে উদ্যোগী বিচারকদের বাছাই করে পদায়নের পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
কিছু আদালতে স্বল্প সময় বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, কোথাও কোথাও বিচারক বেলা ১১টায় আদালতে আসেন এবং দেড়টা থেকে দুইটার মধ্যে কাজ শেষ করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যারা আয়েশ করে চাকরি করতে চান, তাদের সে অনুযায়ী অন্যত্র পদায়নের ইঙ্গিত দেন তিনি।
মামলাজট কমাতে মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে আইনমন্ত্রী জানান, ইতোমধ্যে ৩০টি জেলায় এ কার্যক্রম চালু হয়েছে। সেখানে সাফল্যের হার ৬২ শতাংশের বেশি। বর্তমানে ১১টি আইনের অধীনে মামলা দায়েরের আগে মধ্যস্থতা করা হচ্ছে। এ উদ্যোগে জাইকা, জিআইজেড ও ইউএনডিপি সহযোগিতা করছে।
তিনি বলেন, মধ্যস্থতার মাধ্যমে নতুন মামলার প্রবাহ কমানো এবং বিদ্যমান মামলা নিষ্পত্তিতে বিচারকদের আরও সময় ও নিষ্ঠা দেওয়ার মাধ্যমে এক বছরের মধ্যে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন সম্ভব।
বিচারিক কার্যক্রমে প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনাও তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, কারাগার থেকে আসামিদের আদালতে আনা-নেওয়ায় যানবাহন, নিরাপত্তা ও বিপুল জনবল প্রয়োজন হয়। এ চাপ কমাতে ডিজিটাল হাজিরা সম্প্রসারণের চিন্তা করা হচ্ছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে কিছু আসামির ক্ষেত্রে পরীক্ষামূলকভাবে এ ব্যবস্থা চালু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ই-বেইলবন্ডের সুফল মানুষ পেতে শুরু করেছে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, পূর্ণাঙ্গ ই-জুডিশিয়ারি চালু করতে বিচারিক প্রক্রিয়ার সব ক্ষেত্রে ডিজিটাল ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। এতে অর্থ সাশ্রয়ের সুযোগও তৈরি হবে।
তবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) ব্যবহার নিয়ে বিচারকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি। মানুষের চেহারা ও কণ্ঠ নকল করার প্রযুক্তি ন্যায়বিচারের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে উল্লেখ করে তিনি বিচারকদের ডিজিটাল দক্ষতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, আদালতে গিয়ে দিনের পর দিন, বছরের পর বছর ঘুরতে হয় মানুষের এমন অভিজ্ঞতা বদলাতে চায় সরকার। মানুষ যেন আদালতে দ্রুত নিষ্পত্তি ও ন্যায়বিচার পাওয়ার বিশ্বাস রাখতে পারে, সেই পরিবেশ তৈরিতে কাজ করা হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আইন সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা, সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেল হাবিবুর রহমান সিদ্দিকী, ঢাকা জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম এবং ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়াসহ অন্যরা বক্তব্য দেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.