ছবি: সংগৃহীত
দুই বছর পর ব্যালন ডি’অরের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ফিরেছিলেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসি। সর্বশেষ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনা রানার্সআপ হয়ে দৌড় শেষ করলেও, তিনি ছিলেন নিজের আলোয় দীপ্তিময়। অক্টোবরের শুরুতে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নেওয়া এই তারকা ব্যালনের তালিকায় হয়েছেন পঞ্চম। মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কিলিয়ান এমবাপে ও লামিনে ইয়ামালকে ছাড়িয়ে প্রথমবার মর্যাদাপূর্ণ এই পুরস্কার হ্যারি কেইনের হাতে উঠেছে।
তবে ব্যালন ডি’অর কাউকে দেওয়ার সুযোগ থাকলে তা মেসিকেই দিতেন বলে মন্তব্য করেছেন আর্জেন্টিনার নতুন অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান রোমেরো। একইসঙ্গে বায়ার্ন মিউনিখের ইংলিশ স্ট্রাইকার কেইনের ব্যালন জয় নিয়েও তিনি চাঞ্চল্যকর প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন। রোমেরোর মতে, ব্যালন ডি’অর এখন কিছুটা বিপণনের কৌশল হয়ে গেছে। পরে ইনস্টাগ্রামে ফলোয়ার বেশি থাকলে দেওয়া হয় বলেও মজা করেন এই আর্জেন্টাইন ডিফেন্ডার।
আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের অধিনায়ক হওয়ার পর ‘লস এদুল’কে দেওয়া প্রথম সাক্ষাৎকারে বিভিন্ন বিষয়ে কথা বলেছেন রোমেরো। এ সময় ব্যালন ডি’অরের প্রসঙ্গ উঠলে তিনি বলেন, ‘বর্তমান সময়ে এটি কিছুটা বিপণনের কৌশল হয়ে গেছে। সম্ভবত যার ইনস্টাগ্রামে অনুসারী বেশি, তাকেই দেওয়া হবে (হাসি)। আগে গ্যালারিতে বসে একটা ম্যাচ দেখলেই বোঝা যেত, লিও (মেসি) কী করছে। তার সঙ্গে কারও তুলনাই হতো না। এ কারণেই সে সর্বকালের সেরা।’
ব্যালনজয়ী নির্বাচনে অনুসৃত প্রক্রিয়া নিয়েও প্রশ্ন তোলেন রোমেরো, ‘সম্প্রতি এমন একটা ধারণা তৈরি হয়েছে যে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা বিশ্বকাপ যে জিতবে, পুরস্কারটাও তারই পাওয়া উচিত। কিন্তু মেসি মাঠে যা করে এবং যে প্রভাব তৈরি করে, তা আমি আর কারও মধ্যে দেখিনি।’ মেসির বাইরে কাকে এই পুরস্কার দিতেন– এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘মেসিকেই দিতাম। যদিও সেটা সম্ভব নয়, তবু আমি তাকেই দিতাম।’
যদিও এবার ব্যালনজয়ী কেইন চ্যাম্পিয়ন্স লিগ কিংবা বিশ্বকাপ কিছুই জেতেননি। তবে জাতীয় দল ও ক্লাবের জার্সিতে ৭৩ গোল করে বেশ উপভোগ্য একটি মৌসুম ছিল তার। বিশ্বকাপে ইংল্যান্ড তৃতীয় এবং বায়ার্নকে বুন্দেস লিগাসহ একাধিক শিরোপা জেতানোয় ভূমিকা ছিল ৩৩ বছর বয়সী এই ফরোয়ার্ডের। ব্যালন ডি’অরের নাম ঘোষণা হওয়ার আগে বুকমেকারদের বাজি এবং নানা সমীকরণেও কেইন এগিয়ে ছিলেন।
এদিকে, মেসির পর আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের ১০ নম্বর জার্সি হুলিয়ান আলভারেজকে দিতে চান রোমেরো, ‘সত্যি বলতে, আমি জার্সিটা তুলে রাখতাম। আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এএফএ) কার্যালয়ে একটা ম্যুরাল তৈরি করে দিতাম, ব্যস। তাহলে কাউকে এই দায়িত্ব নিতে হতো না। কিন্তু সেটা তো করা সম্ভব নয়। আর পছন্দের বিচারে আমি এটা হুলিয়ানকে (আলভারেজ) দিতাম। এরপর অবশ্য সবারই নিজস্ব পছন্দ থাকতে পারে।’
অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদের এই আলবিসেলেস্তে ফরোয়ার্ডের প্রশংসায় তার বর্তমান ক্লাব সতীর্থ বলেন, ‘ওর মধ্যে বিনয়, পরিবারকেন্দ্রিক মানসিকতা ও ভালো মানুষের বৈশিষ্ট্য দেখি। পাশাপাশি ওর প্রয়োজনীয় গুণাবলিও আছে। আমার মনে হয়, ও-ই এই জার্সির যোগ্য। এ ছাড়াও আমাদের দলে অনেক গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় আছে। ওকে (আলভারেজকে পছন্দের কথা) অনেকবার বলেছি। তবে ও নিজের মতো করেই এগিয়ে যেতে চায়।’
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.