প্রকাশিত: ২৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১২:৫০ (বুধবার)
সিলেটে এক যুগেও নির্মিত হয়নি সেতু, ঝুঁকি নিয়ে পারাপার হাজারো মানুষ

লালটেকি সেতু।

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়নের পশ্চিম হাদারপার এলাকার লালটেকি সেতু নির্মিত না হওয়ায় চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন আশপাশের প্রায় ১০টি গ্রামের হাজারো মানুষ। দীর্ঘ প্রায় এক যুগ ধরে নদীর ওপর সেতু না থাকায় জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ভেলায় করে নদী পারাপার হতে হচ্ছে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে। এতে প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কার পাশাপাশি ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক যাতায়াতব্যবস্থা।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, লালটেকি এলাকায় সেতু না থাকায় প্রতিদিনই চরম ভোগান্তির মুখে পড়ছেন সাধারণ মানুষ। বিকল্প সড়ক ব্যবহার করে গন্তব্যে পৌঁছাতে প্রায় দুই কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ ঘুরতে হয়। এতে সময় ও অর্থের অপচয় হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি পেলে ভেলায় পারাপার আরও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।

এলাকাবাসীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়ছেন কোমলমতি শিক্ষার্থী, নারী, শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিরা। প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে। পাশাপাশি কৃষিপণ্য পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও দৈনন্দিন যোগাযোগেও সৃষ্টি হচ্ছে নানা প্রতিবন্ধকতা। জরুরি রোগী ও প্রসূতিদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়ার ক্ষেত্রেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। নিরাপদ পারাপারের ব্যবস্থা না থাকায় যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত স্থায়ী কোনো সমাধান হয়নি। তাদের মতে, একটি সেতুর অভাবে প্রায় ১০টি গ্রামের মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। তাই বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই লালটেকি এলাকায় স্থায়ী সেতু নির্মাণে দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।

চলতি বছরেই নির্মাণকাজ শুরুর আশাবাদ
লালটেকি সেতু নির্মাণের বিষয়ে ১ নম্বর রুস্তমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহাবুদ্দিন শিহাব জানান, সেতু নির্মাণের বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন মহলের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ সেতু এলাকা পরিদর্শন করেছেন। চলতি বছরেই সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ইমাম উদ্দিন বলেন, “বর্ষা মৌসুমে হাজারো মানুষ ও কোমলমতি শিক্ষার্থী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন। বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটার আগেই জনস্বার্থে এখানে সেতু নির্মাণ করা জরুরি।” তিনি দ্রুত সেতু নির্মাণে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে
গোয়াইনঘাট উপজেলা প্রকৌশলী (এলজিইডি) হাসিব আহামেদ জানান, লালটেকি এলাকায় নদীর ওপর সেতু না থাকার বিষয়টি কর্তৃপক্ষের নজরে এসেছে। জনসাধারণের দুর্ভোগ বিবেচনায় সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় প্রস্তাবনা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলে সেতু নির্মাণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দীর্ঘদিনের যোগাযোগ সংকট থেকে মুক্তি চান লালটেকি এলাকার বাসিন্দারা। তাদের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রয়োজনীয় বরাদ্দ নিশ্চিত করে সেতু নির্মাণকাজ শুরু করা হবে। সেতুটি নির্মিত হলে শিক্ষার্থী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের যাতায়াত সহজ হবে। একই সঙ্গে জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণ ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

এখন এলাকাবাসীর একটাই দাবি—প্রতিশ্রুতি ও প্রস্তাবনার গণ্ডি পেরিয়ে দ্রুত বাস্তবায়ন হোক লালটেকি সেতু নির্মাণের উদ্যোগ, বন্ধ হোক জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নদী পারাপারের দুর্ভোগ।