প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ২২:২৭ (বুধবার)
বিছনাকান্দি সীমান্তে ৪৮ বিজিবির জনসচেতনতা মূলক সভা

সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার বিছনাকান্দি সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার ও চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সভা করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)।

রোববার (২৫ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৭টার দিকে বিছনাকান্দি সীমান্ত ফাঁড়ি-সংলগ্ন বগাইয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ৪৮ বিজিবির আয়োজনে সভায় স্থানীয় বাসিন্দাসহ প্রায় চার শতাধিক মানুষ অংশ নেন।

সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট ব্যাটালিয়ন (৪৮ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুর উদ্দিন আহমেদ। এ সময় ব্যাটালিয়নের সহকারী পরিচালক আবদুল আল মূয়ীদসহ বিজিবির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।

সভায় সীমান্ত এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ, মাদক পাচার, চোরাচালানসহ বিভিন্ন অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় বাসিন্দাদের সচেতন ও সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষা এবং অপরাধ দমনে বিজিবিকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করার আহ্বান জানানো হয়।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে লেফটেন্যান্ট কর্নেল নুর উদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্ত এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখা, চোরাচালান ও সীমান্তকেন্দ্রিক অপরাধ দমন এবং সাধারণ মানুষের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সীমান্ত সুরক্ষার পাশাপাশি মাদক ও অবৈধ পণ্য পাচারসহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, সীমান্তে সংঘটিত অপরাধ দমনে শুধু বিজিবির একার পক্ষে সবকিছু করা সম্ভব নয়। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, শিক্ষক, ধর্মীয় নেতা, যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সীমান্ত এলাকায় অপরিচিত ব্যক্তির সন্দেহজনক চলাফেরা, চোরাচালান কিংবা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য পাওয়া গেলে দ্রুত বিজিবিকে জানাতে হবে।

স্থানীয় জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সবাইকে আইন মেনে চলতে হবে, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড থেকে দূরে থাকতে হবে এবং সীমান্তের নিরাপত্তা রক্ষায় বিজিবিকে সহযোগিতা করতে হবে। জনগণের সচেতনতা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে একটি নিরাপদ, শান্তিপূর্ণ ও অপরাধমুক্ত এলাকা গড়ে তোলা সম্ভব।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, স্থানীয় জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রেখে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবির কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও সীমান্তের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বদা সজাগ ও দায়িত্বশীল রয়েছে।

সভায় বিজিবির সদস্য, স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ প্রায় চার শতাধিক মানুষ অংশ নেন। সংশ্লিষ্টরা আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম সীমান্ত এলাকায় অপরাধ প্রতিরোধে স্থানীয় জনগণের সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বিজিবি ও সাধারণ মানুষের মধ্যে সহযোগিতাপূর্ণ সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।