প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১৪:৫৬ (রবিবার)
তারুণ্য ধরে রাখতে খাদ্যতালিকায় রাখুন এই ৬ খাবার

ছবি: সংগৃহীত

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ত্বকের স্বাভাবিক গঠন ও চেহারায় পরিবর্তন আসে। ত্বক ধীরে ধীরে শুষ্ক হয়ে যেতে পারে, কমতে পারে আগের মতো টানটান ভাব, দেখা দিতে পারে সূক্ষ্ম বলিরেখা ও অসম রং। যদিও বয়স বাড়ার এই প্রক্রিয়া পুরোপুরি থামানো সম্ভব নয়, তবে পুষ্টিকর খাবার ও নিয়মিত যত্ন ত্বকের সুস্থতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। 

তবে মনে রাখতে হবে কোনো একটি খাবার বলিরেখা দূর করতে বা ত্বককে চিরতরুণ রাখতে পারে না। বরং নিয়মিত খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের পুষ্টিকর খাবার রাখাই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর।

ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল

পেয়ারা, কমলা, আমলকী, লেবু ও অন্যান্য ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ ফল ত্বকের যত্নে বিশেষভাবে উপকারী। ভিটামিন সি কোলাজেন তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় এবং অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসেবে কোষকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে।

বিশেষ করে পেয়ারা ও আমলকী সহজলভ্য হওয়ায় প্রতিদিনের খাবারে এগুলো রাখা যেতে পারে। ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে জুসের পরিবর্তে গোটা ফল বেছে নেওয়া ভালো। কারণ এতে আঁশও পাওয়া যায়। তবে ভিটামিন সি বেশি খেলেই ত্বকের বলিরেখা দূর হয়ে যাবে, এমন ধারণার বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।

রঙিন শাকসবজি

গাজর, মিষ্টিকুমড়া, টমেটো, পালংশাক ও লাল ক্যাপসিকামের মতো খাবারে বিভিন্ন ধরনের ক্যারোটিনয়েড ও অন্যান্য অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট থাকে। গাজর ও মিষ্টিকুমড়ার বিটা-ক্যারোটিন শরীরে ভিটামিন এ তৈরিতে ভূমিকা রাখে। এই ভিটামিন ত্বকের কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে, টমেটোতে থাকা লাইকোপিন নিয়ে ত্বক ও সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মির প্রভাব সম্পর্কিত গবেষণা হয়েছে। তবে এসব খাবার সানস্ক্রিনের বিকল্প নয়। প্রতিদিনের খাবারে বিভিন্ন রঙের সবজি রাখলে একাধিক পুষ্টি উপাদান পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

বাদাম ও বিভিন্ন ধরনের বীজ

কাঠবাদাম, চিনাবাদাম, আখরোট, কুমড়ার বীজ ও সূর্যমুখীর বীজে রয়েছে স্বাস্থ্যকর চর্বি, ভিটামিন ই এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান। ভিটামিন ই কোষের ঝিল্লিকে অক্সিডেটিভ ক্ষতি থেকে রক্ষায় সহায়তা করে। স্বাস্থ্যকর চর্বি ত্বকের স্বাভাবিক সুরক্ষাব্যবস্থা বজায় রাখতেও ভূমিকা রাখে।

বাইরের পরিবেশের প্রভাব থেকে ত্বককে রক্ষা করতে এর সুরক্ষামূলক স্তর গুরুত্বপূর্ণ। এই স্তর ঠিকভাবে কাজ করলে ত্বক থেকে অতিরিক্ত আর্দ্রতা হারানোর ঝুঁকি কমে। তাই খাদ্যতালিকায় পরিমিত পরিমাণ বাদাম ও বীজ রাখা ভালো। তবে এগুলোতে ক্যালরি বেশি থাকায় অতিরিক্ত না খাওয়াই শ্রেয়।

তৈলাক্ত মাছ ও ওমেগা-৩

ইলিশ, সার্ডিন, স্যামন ও ম্যাকেরেলের মতো তৈলাক্ত মাছে ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড পাওয়া যায়। এসব চর্বি শরীরের স্বাভাবিক প্রদাহ নিয়ন্ত্রণসহ বিভিন্ন জৈবিক কাজে ভূমিকা রাখে। মাছ থেকে প্রোটিনও পাওয়া যায়, যা শরীরের টিস্যু গঠন ও মেরামতের জন্য প্রয়োজনীয়।

বাংলাদেশের খাদ্যাভ্যাসে ইলিশসহ বিভিন্ন মাছ সহজেই অন্তর্ভুক্ত করা যায়। তবে মাছ খেলেই ত্বকের প্রদাহ বা বলিরেখা কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। সামগ্রিকভাবে সুষম খাদ্যের অংশ হিসেবে মাছ খাওয়াই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

ডিম, ডাল ও প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার

ত্বকের গঠন বজায় রাখা এবং ক্ষতিগ্রস্ত টিস্যু মেরামতের জন্য প্রোটিন প্রয়োজন। ডিম, মাছ, মুরগি, দুধ, ডাল, ছোলা ও সয়াবিন থেকে শরীর প্রয়োজনীয় অ্যামিনো অ্যাসিড পায়। কোলাজেন তৈরিতেও অ্যামিনো অ্যাসিডের ভূমিকা রয়েছে।

খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে শরীরের স্বাভাবিক মেরামত প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। তাই শুধু ফলমূল বা সবজির ওপর নির্ভর না করে প্রোটিনের উৎসও নিয়মিত খাওয়া উচিত। 

দই ও আঁশসমৃদ্ধ খাবার

দই, ওটস, ডাল, শাকসবজি, ফল ও পূর্ণ শস্য অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী খাদ্যাভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে। আঁশ অন্ত্রের উপকারী অণুজীবের পুষ্টি জোগায়। অন্যদিকে, জীবিত উপকারী অণুজীবযুক্ত কিছু দই অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে।

খাবারের পাশাপাশি ত্বকের যত্নে যে অভ্যাসগুলো জরুরি

* সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন;

* ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখুন; 

* পর্যাপ্ত ঘুমান;

*ধূমপান এড়িয়ে চলুন;

* অতিরিক্ত চিনি ও অস্বাস্থ্যকর খাবার সীমিত করুন। 

বয়স বাড়ার সঙ্গে ত্বকে পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। তবে, উচিত ত্বকের স্বাভাবিক স্বাস্থ্য, আর্দ্রতা ও সুরক্ষাব্যবস্থা যতটা সম্ভব ভালো রাখার চেষ্টা করা। ধারাবাহিক স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই এ ক্ষেত্রে সবচেয়ে বাস্তবসম্মত পথ।