প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর, ২০২৬ ১১:১৯ (রবিবার)
মৌলভীবাজারে নিখোঁজের একদিন পর মৃত্যু মাদরাসার শিক্ষকের

ছবি: সংগৃহীত

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান জামেয়া লুৎফিয়া আনোয়ারুল উলুম হামিদ নগর বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা শাহ মনিরুজ্জামান জসিম তালুকদার নিখোঁজের একদিন পর মারা গেছেন। 

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) থেকে নিখোঁজ থাকার পর শনিবার (২৪ অক্টোবর) ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচের একটি নির্জন এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।

শনিবার(২৪ অক্টোবর) রাত ১০টার দিকে তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার।

নিহত মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার কালাপুর ইউনিয়নের ভৈরবগঞ্জবাজারের মাজদিহী এলাকার আব্দুল ওয়াহিদের ছেলে। তিনি চার কন্যাসন্তানের জনক এবং দীর্ঘদিন ধরে বরুণা মাদরাসায় শিক্ষকতা করে আসছিলেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, মাওলানা জসিম শ্রীমঙ্গল উপজেলার ভৈরব বাজার এলাকায় বসবাস করতেন। শুক্রবার বিকেল থেকে তাঁর কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ধারণা করেছিলেন, তিনি হয়তো মাদরাসায় রয়েছেন।

পরে ভৈরব-আশুগঞ্জ সেতুর নিচের নির্জন এলাকা থেকে তাঁকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করেন স্থানীয় কয়েকজন যুবক। তাঁরা দ্রুত তাঁকে ভৈরবের একটি হাসপাতালে ভর্তি করেন। তাঁর শরীরে দৃশ্যমান রক্তাক্ত ক্ষত বা শারীরিক নির্যাতনের চিহ্ন পাওয়া যায়নি বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দুর্বৃত্তরা তাঁকে কোনো চেতনানাশক পদার্থ খাওয়ানো বা স্প্রে করার মাধ্যমে অচেতন করে সেতুর নিচে ফেলে রেখে যেতে পারে। তবে এ অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

স্থানীয় বিএনপি নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী এবাদুর রহমান মোশাহিদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মাওলানা জসিমের একটি ভিডিও ফেসবুকে প্রকাশ করেন। ভিডিওটি দেখে পরিবারের সদস্যরা তাঁর অবস্থান সম্পর্কে জানতে পারেন এবং উদ্ধারকারী যুবকের সঙ্গে যোগাযোগ করে ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা করেন।

খবর পেয়ে বরুণা মাদরাসার শিক্ষক মাওলানা আহমদ জুবায়ের জুয়েলসহ পরিবারের সদস্য ও স্বজনরা দ্রুত ভৈরবের উদ্দেশে রওনা হন। এ সময় তাঁর সন্ধান ও পরিচয় নিশ্চিত করতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করা হয়।

পরিবারের সদস্যরা হাসপাতালে পৌঁছানোর পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে অন্য একটি হাসপাতালে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়। তবে স্থানান্তরের পথে গাড়িতেই তাঁর মৃত্যু হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

নিহতের ভাতিজা মুস্তাকিম আল মুনতাজ তালুকদার জানান, শুক্রবার থেকে তাঁর চাচা নিখোঁজ ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন, তিনি মাদরাসায় রয়েছেন। পরে শনিবার দুপুরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর অচেতন অবস্থার ভিডিও দেখে তাঁরা বিষয়টি জানতে পারেন।

তিনি আরও জানান, ভৈরবের একটি হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাঁর চাচা মারা যান।

মাওলানা জসিমের এমন আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও পরিচিতজনদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

তাঁর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ, কীভাবে তিনি অচেতন হয়েছিলেন এবং এ ঘটনায় কারও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত হতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও চিকিৎসাসংক্রান্ত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।