প্রকাশিত: ২১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫২ (বৃহস্পতিবার)
নজরকাড়া কাট্টলীর পূজামণ্ডপে পূজা চেরি, দিলেন বিশেষ বার্তা

ছবি: সংগৃহীত

ব্যতিক্রমী সাজসজ্জা আর ভিন্নধর্মী ভাবনায় দর্শনার্থীদের নজর কেড়েছে চট্টগ্রামের উত্তর কাট্টলীর তালুকদারবাড়ি বাণীমন্দিরের পূজামণ্ডপ। ‘রিপু রজনী’ থিমে সাজানো এই মণ্ডপ দেখতে প্রতিদিনই ভিড় করেছেন দর্শনার্থীরা।

এবার সেই মণ্ডপে হাজির হলেন ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পূজা চেরি।
মহানবমীতে মণ্ডপটি দর্শনের পাশাপাশি দেবী আরাধনায় অংশ নেন তিনি।

এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ করে নবমীর তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ বার্তাও দিয়েছেন অভিনেত্রী।
মণ্ডপে পূজা চেরির পরনে ছিল কালো রঙের শাড়ি।

জরি ও সুতার নান্দনিক নকশায় সাজানো শাড়িতে তাকে দেখা যায় স্নিগ্ধ ও আভিজাত্যপূর্ণ সাজে। মণ্ডপে প্রণাম করার মুহূর্তের পাশাপাশি অন্য একটি মণ্ডপে দেবী দুর্গার আরাধনার ছবিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করেন তিনি।
ছবিগুলোর সঙ্গে নবমীর তাৎপর্য তুলে ধরে পূজা চেরি লেখেন, ‘নবমী আমাদের মনে করিয়ে দেয়, দেবীকে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা সহজ, কিন্তু নিজের চেতনায় প্রতিষ্ঠা করা কঠিন। যতদিন অন্যায়ের সামনে নীরবতা, নারীর অসম্মানে উদাসীনতা আর দুর্বলের কান্নায় নির্বিকারতা থাকবে, ততদিন দেবী আরাধনা পূর্ণতা পাবে না। সত্যিকারের পূজা তখনই, যখন অসুরবধ কেবল পৌরাণিক কাহিনি হয়ে থাকে না, বরং আমাদের বিবেকের প্রতিদিনের সংকল্প হয়ে ওঠে।’

অভিনেত্রীর এই বার্তায় উঠে এসেছে অন্যায়ের প্রতিবাদ, নারীর প্রতি সম্মান এবং দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান। তার মতে, দেবী দুর্গার আরাধনা কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ন্যায় ও মানবিকতার চর্চা করাই জরুরি।

জানা গেছে, উত্তর কাট্টলীর তালুকদারবাড়ি বাণীমন্দিরে এবার ৫৮তম দুর্গাপূজার আয়োজন করা হয়েছে। সেবাখোলা ও বৈকুণ্ঠধাম পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে মণ্ডপটির থিম রাখা হয়েছে ‘রিপু রজনী’। মানুষের ছয়টি রিপু- কাম, ক্রোধ, লোভ, মোহ, মদ ও মাৎসর্যের বিরুদ্ধে আধ্যাত্মিক সংগ্রামই এই থিমের মূল ভাবনা।

মণ্ডপটির অন্যতম বিশেষত্ব হলো, প্রতিমা তৈরিতে প্রচলিত মাটির পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে মেটাল। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, এই ভাবনার পেছনে রয়েছেন অপটিমিস্টিক দে। দেবীর প্রতিমায় কারুকাজ করেছেন শিল্পী কার্তিক পাল।

এ ছাড়া ‘কৈলাশ লাইটিং’-এর ব্যবস্থাপনায় কৃত্রিম কুয়াশা ও নীল লেজার আলোর ব্যবহার মণ্ডপে তৈরি করেছে ভিন্নধর্মী আবহ। ব্যতিক্রমী প্রতিমা, আলোকসজ্জা ও আধ্যাত্মিক ভাবনার সমন্বয়ে মণ্ডপটি দর্শনার্থীদের কাছে বাড়তি আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।