প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৮ (মঙ্গলবার)
মহাসড়কে পাঁচ গাড়ির সংঘর্ষে অন্তঃসত্ত্বা নারী নিহত 

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে পাঁচটি যানবাহনের সংঘর্ষে ৩২ বছর বয়সী এক অন্তঃসত্ত্বা নারী ও তার অনাগত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) সন্ধ্যায় ফ্রস্টপ্রুফ শহরের একটি সড়ক intersection-এ দুটি বড় ট্রাকসহ পাঁচটি যানবাহন দুর্ঘটনায় জড়ায়। পোল্ক কাউন্টি শেরিফের কার্যালয়ের বরাতে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স ১৩ টাম্পা বে রোববার এ তথ্য জানিয়েছে।

শেরিফের কার্যালয় জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল সাড়ে ৫টার কিছু পর ইউএস ২৭ ও ইউএস ৯৮ মহাসড়কের সংযোগস্থলে দুর্ঘটনাটি ঘটে। সে সময় ইউএস ২৭-এর উত্তরমুখী লেনে লাল সংকেতে তিনটি যানবাহন দাঁড়িয়ে ছিল। এর পেছন দিয়ে আসা ট্রেলারবাহী ২০২২ সালের একটি লাল রঙের ইন্টারন্যাশনাল ট্রাক চলন্ত অবস্থায় সামনে থাকা টয়োটা হাইল্যান্ডার গাড়িটির পেছনে সজোরে ধাক্কা দেয়। কেন ট্রাকটির চালক থামতে পারেননি, তা এখনো জানা যায়নি।

ধাক্কায় টয়োটা হাইল্যান্ডারটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ায়। এরপর এসইউভিটি সংযোগস্থল অতিক্রম করে উত্তর-পূর্ব কোণে গিয়ে থামে। দুর্ঘটনায় গাড়িটির পেছনের অংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং পেছনের যাত্রীদের বসার জায়গাও চাপে পড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। গাড়িটির পেছনের আসনে থাকা অ্যাভন পার্কের ৩২ বছর বয়সী অন্তঃসত্ত্বা নারীকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ও তার গর্ভের সন্তান মারা যান বলে জানিয়েছে শেরিফের কার্যালয়।

হাইল্যান্ডারকে ধাক্কা দেওয়ার পর ট্রাকটি সামনে থাকা একটি টয়োটা করোলার পেছনেও আঘাত করে। এতে করোলাটি সামনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি হোন্ডা সিভিকের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে ট্রাকটি উত্তর-পূর্ব দিকে মোড় নিয়ে সংযোগস্থল পার হয়ে প্রায় ৪০০ ফুট খোলা মাঠের মধ্য দিয়ে যায়। এরপর একটি ছোট সড়কে উঠে বেড়ায় ধাক্কা দেয় এবং সামনের অংশ অগভীর খাদে পড়ে থেমে যায়।

দুর্ঘটনায় জড়িত পাঁচটি যানবাহনের আরোহীদের সবার সিটবেল্ট বাঁধা ছিল বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন তদন্তকারীরা। দুর্ঘটনায় সবচেয়ে গুরুতর আহতদের একজন ছিলেন টয়োটা করোলার চালক, অ্যাভন পার্কের ৩৭ বছর বয়সী এক নারী। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। অন্যদিকে, ট্রাকটির ৫৩ বছর বয়সী চালক মিশিগানের বাসিন্দা। তিনি গুরুতর আহত হননি। তাকে স্থানীয় হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।

দুর্ঘটনায় আহত অন্য ব্যক্তিদের কেউ হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন, আবার কাউকে চিকিৎসা শেষে ছেড়ে দেওয়া হয়েছিল। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের সবার সুস্থ হয়ে ওঠার আশা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার তদন্ত, ক্ষতিগ্রস্ত যানবাহন সরানো এবং সড়ক পরিষ্কারের জন্য ইউএস ২৭ মহাসড়ক প্রায় ছয় ঘণ্টা বন্ধ রাখা হয়।

এ ঘটনায় নিহত নারী, তার অনাগত সন্তান এবং ট্রাকচালকের পরিচয় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি শেরিফের কার্যালয়। ট্রাকচালক কেন সামনে থাকা যানবাহনগুলোর জন্য থামেননি, তা নির্ধারণে তদন্ত চলছে। দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ সম্পর্কে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি।