প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৫২ (মঙ্গলবার)
সিলেটে দ্বিতীয়বার কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত

সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জৈনপুরে শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠে শারদীয় দুর্গাপূজার মহাষ্টমীতে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে এ পূজায় অংশ নিতে ভোর থেকেই মন্দিরে ভিড় করেন ভক্তরা। দূরদূরান্ত থেকেও অনেকে আসেন। সিলেটে এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো কুমারী পূজার আয়োজন করা হলো।

সকাল আটটায় ঢাক, ঢোল, কাঁসর, শঙ্খ ও ঘণ্টার ধ্বনি এবং মন্ত্রপাঠের মধ্য দিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। পরে সকাল ১০টায় কুমারী দেবীর অধিষ্ঠান আচারের মধ্য দিয়ে পূজা সম্পন্ন হয়। পূজা শুরু হওয়ার আগেই ভক্তদের উপস্থিতিতে মন্দির প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে।

সনাতন ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, প্রতিটি নারীর মধ্যে দেবী মহামায়ার শক্তির প্রকাশ রয়েছে। এই বিশ্বাস থেকেই কুমারী কন্যার মধ্যে দেবীর রূপ কল্পনা করে পূজা করা হয়। দেবী দুর্গার প্রতিরূপ হিসেবে কুমারীকে আরাধনার মধ্য দিয়ে নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানানোর তাৎপর্য তুলে ধরা হয়।

মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠের পুরোহিত বলেন, মহাষ্টমীর পূজার্চনার অংশ হিসেবে কুমারীকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে আরাধনা করা হয়। এর মধ্য দিয়ে নারীর মধ্যে নিহিত দেবীশক্তি ও মাতৃশক্তির বন্দনা করা হয়। পাশাপাশি নারীশক্তির প্রতি শ্রদ্ধা, সম্মান ও মর্যাদার বার্তা দেওয়া হয়।

পূজায় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিলেট-৩ আসনের সংসদ সদস্যের স্ত্রী দিনারা মালিক। তিনি বলেন, ‘এখানে আমার প্রথম আসা। জীবনে প্রথমবার এসে খুব ভালো লাগছে। আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। এটি আমার জন্য নতুন একটি অভিজ্ঞতা।’

ভারতের সহকারী হাইকমিশনার অনিরুদ্ধ দাস বলেন, ‘আমি আগেও এই শক্তিপীঠে এসেছি। তবে এবার কুমারী পূজা উপলক্ষে আমন্ত্রিত হয়ে অংশ নিতে পেরে খুব ভালো লাগছে।’

শ্রীশ্রী মহালক্ষ্মী গ্রীবা মহাপীঠ মন্দিরের সভাপতি শিবব্রত ভৌমিক বলেন, এবারের পূজা আয়োজনেও পুলিশ প্রশাসন থেকে শুরু করে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের কাছ থেকে আন্তরিক সহযোগিতা পাওয়া গেছে। পূজার সব আনুষ্ঠানিকতা সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

আয়োজকরা বলেন, এ আয়োজন অব্যাহত রাখলে নতুন প্রজন্মের কাছে সনাতন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের তাৎপর্য এবং নারীশক্তির মাতৃরূপের মাহাত্ম্য তুলে ধরা সম্ভব হবে।