প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৩:২০ (মঙ্গলবার)
ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ীর ভোটে এগিয়ে রোনালদো

ছবি: সংগৃহীত

ফুটবল বিশ্বের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি ও ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর লড়াই এবার নতুন মাত্রা পেয়েছে ব্যালন ডি’অরের বিশেষ এক ভোটাভুটিতে। ইতিহাসের সেরা ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম নির্বাচনে এখন পর্যন্ত বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন পর্তুগিজ তারকা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

তার ২০০৮ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ৬২ শতাংশ। অন্যদিকে, আর্জেন্টাইন মহাতারকা লিওনেল মেসির ২০১২ সালের ঐতিহাসিক মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ ভোট। খবর আর্জেন্টাইন সংবাদমাধ্যম টিওয়াইসি স্পোর্টসের।

ব্যালন ডি’অরের আনুষ্ঠানিক প্ল্যাটফর্মে আয়োজিত এই ভোটাভুটিতে ফুটবল ইতিহাসের ১০ কিংবদন্তির ব্যালন ডি’অরজয়ী বিভিন্ন মৌসুমের মধ্যে সেরাটিকে বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন সমর্থকেরা।

২০০৮ সালে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হয়ে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রথমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন রোনালদো। সেটিই ছিল তার ক্যারিয়ারে জেতা পাঁচটি ব্যালন ডি’অরের প্রথমটি। ভোটের ফলাফলে তার সেই মৌসুমই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে জনপ্রিয়।

অন্যদিকে, ২০১২ সালে ফুটবল ইতিহাসে অনন্য এক রেকর্ড গড়েছিলেন মেসি। ওই ক্যালেন্ডার বছরে ৬৯ ম্যাচে ৯১ গোল করে বিশ্বজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টি করেন তিনি। সেই অসাধারণ কীর্তির স্বীকৃতিস্বরূপ টানা চতুর্থবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড। তবে ভোটাভুটিতে তার সেই ঐতিহাসিক মৌসুম পেয়েছে ১৩ শতাংশ সমর্থন।

মেসির আটটি ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুমের মধ্যে ভোট ভাগ হয়ে যাওয়াও তার পিছিয়ে থাকার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। তালিকায় তার ২০২৩ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম রয়েছে পরের অবস্থানে। কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন করার পর ওই বছর অষ্টমবারের মতো ব্যালন ডি’অর জেতেন তিনি। সে সময় প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) হয়ে ফরাসি লিগ ও ফরাসি সুপার কাপও জিতেছিলেন মেসি। সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৪১ ম্যাচে ২১ গোলের পাশাপাশি করেছিলেন ২০টি অ্যাসিস্ট। এই মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ৯ শতাংশ।

রোনালদোর ২০১৭ সালের ব্যালন ডি’অরজয়ী মৌসুম পেয়েছে ৭ শতাংশ ভোট। তার ২০১৬ সালের পুরস্কারজয়ী মৌসুমের পক্ষে ভোট পড়েছে ২ শতাংশ। মেসি ও রোনালদোর অন্য মৌসুমগুলোর সমর্থন ১ শতাংশের আশপাশে বা তার নিচে রয়েছে।

এই ভোটাভুটিতে মেসি ও রোনালদোর পাশাপাশি জায়গা পেয়েছেন ফুটবল ইতিহাসের আরও আট কিংবদন্তি—রোনালদো নাজারিও, মার্কো ফন বাস্তেন, মিশেল প্লাতিনি, কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে, কেভিন কিগান, ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার, ইয়োহান ক্রুইফ ও আলফ্রেডো দি স্তেফানো।

তাদের মধ্যে রোনালদো নাজারিও ১৯৯৭ ও ২০০২ সালে ব্যালন ডি’অর জেতেন। ফন বাস্তেন পুরস্কারটি জেতেন ১৯৮৮, ১৯৮৯ ও ১৯৯২ সালে। প্লাতিনি ও ক্রুইফও তিনবার করে এই সম্মান অর্জন করেছেন।

এই ভোটাভুটিতে অংশ নিতে প্রতিটি ভোটের জন্য এক ইউরো খরচ করতে হচ্ছে সমর্থকদের। ভোটদাতারা ব্যালন ডি’অরের চলতি বছরের অনুষ্ঠানের দুটি টিকিট জেতার লটারিতেও অংশ নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। পাশাপাশি ঐতিহাসিক ব্যালন ডি’অর ট্রফির ছবি কেনা ও ডাউনলোড করার সুবিধাও রয়েছে।

সমর্থকেরা একাধিকবার ভোট দিতে পারবেন। এমনকি একই খেলোয়াড় বা মৌসুমের পক্ষেও বারবার ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। ভোটের ফলাফলে প্রতিটি প্রার্থীর সমর্থনের শতকরা হারও দেখা যাচ্ছে।

আয়োজকদের ঘোষণা অনুযায়ী, অক্টোবরের শুরুতে শুরু হওয়া এই ভোটগ্রহণ চলবে ২৭ অক্টোবর প্যারিস সময় মধ্যরাত পর্যন্ত। ফলে ভোটের শেষ দিকে রোনালদোর এগিয়ে থাকার ব্যবধান কমে কি না, নাকি মেসির কোনো মৌসুম ঘুরে দাঁড়ায় সেদিকেই নজর থাকবে ফুটবলপ্রেমীদের।