প্রকাশিত: ১৮ অক্টোবর, ২০২৬ ১৬:৪৬ (সোমবার)
বিরোধীদলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা সরকারের নেই: জামায়াত আমির

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আমরা সরকারের পতন চায়নি, চেয়েছিলাম সফলতা। কারণ সরকারের সফলতা মানে দেশের সফলতা।

কিন্তু সরকার বিরোধীদলের সহযোগিতা নেওয়ার যোগ্যতা দেখাতে পারেনি।
ডা. শফিকুর বলেন, বিএনপি জুলাই সনদ ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে গেছে।

একই দিনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট হলেও সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নেয়নি তারা। এর মধ্য দিয়ে জাতির সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হয়েছে।

বিএনপিই বিরোধীদলকে আন্দোলনের পথে ঠেলে দিয়েছে।

রোববার (১৮ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই সনদের এক বছর, প্রতিশ্রুতি ও প্রত্যাশার সালতামাম’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

তিনি অভিযোগ করেন, গত সাত মাসে রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে। আগের স্বৈরাচার যে পথে হেঁটেছিল, সরকারও একই পথে হাঁটছে। এমন পরিস্থিতিতে বিরোধীদল চুপ করে বসে থাকতে পারে না।

জামায়াত আমির বলেন, তারা সরকারের পতন নয়, দেশের সফলতা চেয়েছিলেন। সিন্ডিকেটের হাতে দেশকে তুলে দেওয়া হবে না। তরুণরা জেগে উঠেছে, পূর্ণ মুক্তি না আসা পর্যন্ত তারা থামবে না। ২০২৪ সালের আন্দোলন থেকে শিক্ষা নিয়ে নব্য ফ্যাসিবাদেরও পতন ঘটানো হবে।

তিনি আরও বলেন, শত কারচুপির পরও জনগণ জামায়াতকে যে আসন দিয়েছে, সেই ৮৯ জন সংসদ সদস্য ১৮ কোটি মানুষের পাহারাদার হিসেবে কাজ করবেন। বিএনপি অবস্থান বদলালেও জামায়াত তাদের অবস্থান বদলাবে না। জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় আদায় করেই ছাড়বেন তারা।

এ সময় এলডিপির সভাপতি কর্নেল অলি আহমদ (বীর বিক্রম) বলেন, সরকার পরিচালনায় জনগণের চাহিদাকে গুরুত্ব দিতে হবে এবং সংস্কার সনদ বাস্তবায়নের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। 

তিনি বলেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, তাই ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও দলীয় স্বার্থের পরিবর্তে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে হবে। নির্বাচনের আগে সরকারি সুবিধা বিতরণ করে ভোটকে প্রভাবিত করা যাবে না। একইসঙ্গে রাজনৈতিক বক্তব্যে দায়িত্বশীলতা বজায় রাখতে হবে, অদক্ষ ও অযোগ্য ব্যক্তিদের নির্বাচিত করার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। 

তিনি আরও বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রে আমূল পরিবর্তন আনতে হলে সবার আগে নিজেদের মন-মানসিকতা পরিবর্তন করতে হবে এবং যোগ্য, সৎ ও জনকল্যাণে নিবেদিত ব্যক্তিদের নির্বাচিত করতে হবে।

সভাপতির বক্তব্যে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকার জুলাই সনদ অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে, যা গণতন্ত্রের জন্য শুভ লক্ষণ নয়, জুলাই সনদে ৮৪ সংস্কার প্রস্তাব ও সাত দফা অঙ্গীকার ছিল। প্রথম অধিবেশন শুরুর ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে সনদ বাস্তবায়ন এবং ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সংবিধান সংস্কার ও দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ গঠনের অঙ্গীকারও ছিল। কিন্তু সরকার এসব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে পিছিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, বিএনপিকে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আহ্বান জানান।

অন্যথায় সরকারকে প্রতিটি পদক্ষেপে জনগণের ঘৃণা ও প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

আলোচনা সভায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।