ছবি: সংগৃহীত
মানুষের চোখে সাধারণ মনে হলেও আল্লাহর কাছে মূল্যবান হতে পারে ছোট ছোট কিছু নেক আমল। হাসিমুখে কথা বলা, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া কিংবা গোপনে কারও জন্য দোয়া করার মতো কাজও হতে পারে সওয়াব অর্জনের মাধ্যম।
ইসলামে কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ মনে করতে নিষেধ করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ মনে করো না, এমনকি তোমার ভাইয়ের সঙ্গে হাসিমুখে সাক্ষাৎ করাও।’ (সহিহ মুসলিম)
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, নিয়মিত করা যায় এমন ছোট ছোট সাতটি নেক আমল তুলে ধরা হলো-
১. হাসিমুখে কথা বলা
অন্যের সঙ্গে হাসিমুখে কথা বলা ও আন্তরিক আচরণ করাও সদকা হিসেবে গণ্য হয়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘তোমার ভাইয়ের সামনে তোমার হাসিমুখ তোমার জন্য সদকা।’ (জামে তিরমিজি: ১৯৫৬)
একটু হাসি কিংবা আন্তরিক আচরণ অন্যের মন ভালো করে দিতে পারে। এর জন্য অর্থ ব্যয় করতে হয় না, অথচ এর মাধ্যমে নেকি অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
২. রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরানো
রাস্তায় পড়ে থাকা কাঁটা, পাথর বা অন্য কোনো বিপজ্জনক বস্তু সরিয়ে মানুষের চলাচল নিরাপদ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ নেক আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ঈমানের সত্তরেরও বেশি শাখা রয়েছে। এর সর্বনিম্ন শাখা হলো রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া। (সহিহ মুসলিম: ৩৫)
কাজটি হয়তো কেউ দেখবে না, কেউ প্রশংসাও করবে না। কিন্তু মানুষের উপকারে আসে এমন কাজও ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।
৩. তৃষ্ণার্ত প্রাণীকে পানি পান করানো
প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানোও নেক আমলের অন্তর্ভুক্ত। সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এসেছে, এক ব্যক্তি তৃষ্ণার্ত কুকুরকে পানি পান করিয়েছিলেন। আল্লাহ তার এ কাজের প্রতিদান দেন এবং তাকে ক্ষমা করেন। (সহিহ বুখারি: ২৩৬৩)
এ ঘটনা থেকে শিক্ষা পাওয়া যায়, আল্লাহর সৃষ্টির প্রতি দয়া দেখানো কখনোই তুচ্ছ কাজ নয়। তৃষ্ণার্ত কোনো প্রাণীকে সামান্য পানি পান করানোও সওয়াব অর্জনের কারণ হতে পারে।
৪. নিজের হাত ও জবান থেকে অন্যকে নিরাপদ রাখা
ইসলামে ইবাদত শুধু নামাজ, রোজা ও নফল আমলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। অন্যকে কষ্ট না দেওয়া এবং নিজের কথা ও কাজের মাধ্যমে মানুষের ক্ষতি করা থেকে বিরত থাকাও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুসলিম সে, যার জবান ও হাত থেকে অন্য মুসলিম নিরাপদ।’ (সহিহ বুখারি: ১০)
অন্যায় কথা বলা, অপমান করা কিংবা কারও ক্ষতি করা থেকে নিজেকে বিরত রাখা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। বিশেষ করে আল্লাহর ভয়ে অন্যায় থেকে বিরত থাকাও নেক আমল।
৫. পিতা-মাতার ছোট ছোট প্রয়োজন পূরণ করা
পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা। তাঁদের জন্য দোয়া করা, সম্মানের সঙ্গে কথা বলা, প্রয়োজনের সময় পানি এগিয়ে দেওয়া কিংবা দৈনন্দিন কাজে সহযোগিতা করার মতো ছোট কাজও নেক আমল।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ বলেন, ‘তোমার প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন, তোমরা তিনি ছাড়া অন্য কারও ইবাদত করবে না এবং পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহার করবে।’ (সুরা বনি ইসরাইল: ২৩)
বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পিতা-মাতার ছোট ছোট প্রয়োজনও তাঁদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। তাই তাঁদের সেবা ও যত্নকে সামান্য মনে না করে আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা উচিত।
৬. অন্যের জন্য গোপনে দোয়া করা
অন্যের অনুপস্থিতিতে তার জন্য আন্তরিকভাবে দোয়া করাও ফজিলতপূর্ণ আমল। এতে প্রশংসা পাওয়ার কোনো প্রত্যাশা থাকে না; বরং অন্যের কল্যাণ কামনাই মুখ্য।
রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কোনো মুসলিম তার ভাইয়ের অনুপস্থিতিতে তার জন্য দোয়া করলে নিযুক্ত ফেরেশতা বলেন, ‘তোমার জন্যও অনুরূপ।’ (সহিহ মুসলিম: ২৭৩২)
অসুস্থ ব্যক্তি, বিপদগ্রস্ত মানুষ কিংবা প্রিয়জনের জন্য নীরবে দোয়া করা যায়। এ ধরনের আমলের প্রতিদান মানুষের চোখে দৃশ্যমান না হলেও ইসলামে এর বিশেষ মর্যাদা রয়েছে।
৭. গোপনে দান করা
দান করার ক্ষেত্রে লোকদেখানো মনোভাব থেকে দূরে থাকা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টিকে প্রাধান্য দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। গোপনে দান করলে মানুষের প্রশংসা পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকে নিজেকে দূরে রাখা সহজ হতে পারে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) কেয়ামতের দিন আল্লাহর ছায়া লাভকারী সাত শ্রেণির মানুষের কথা বলেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন এমন ব্যক্তি, যিনি এত গোপনে দান করেন যে তাঁর বাম হাতও জানতে পারে না তাঁর ডান হাত কী দান করেছে। (সহিহ বুখারি: ৬৬০; সহিহ মুসলিম: ১০৩১)
দান অল্প হোক বা বেশি, আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে তা করা একজন মুমিনের জন্য সওয়াব অর্জনের সুযোগ।
ছোট আমলও হতে পারে নাজাতের মাধ্যম
ইসলামের শিক্ষা হলো, কোনো ভালো কাজকেই তুচ্ছ মনে করা উচিত নয়। হাসিমুখে কথা বলা, মানুষের উপকার করা, প্রাণীর প্রতি দয়া দেখানো, পিতা-মাতার সেবা কিংবা গোপনে দান ও দোয়া করার মতো কাজ নিয়মিত চর্চা করা যায়।
কোন আমল আল্লাহর কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নির্ভর করে তার ইচ্ছা, বান্দার নিয়ত ও আমলের ওপর। তাই বড় আমলের পাশাপাশি ছোট ছোট নেক কাজও আন্তরিকতার সঙ্গে করে যাওয়া উচিত। মানুষের চোখে সামান্য মনে হওয়া কোনো ভালো কাজও আল্লাহর রহমত লাভের মাধ্যম হতে পারে।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.