প্রকাশিত: ১১ অক্টোবর, ২০২৬ ১৫:৪৭ (সোমবার)
বাতের ব্যথার জন্য দায়ী খাওয়াদাওয়া, কী বলছে গবেষণা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতীয় চিকিৎসা গবেষণা পরিষদ (আইসিএমআর) এবং হায়দরাবাদের ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন (এনআইএন)-এর যৌথ উদ্যোগে সম্প্রতি রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিস বা বাতের ব্যথা নিয়ে একটি চাঞ্চল্যকর গবেষণা চালানো হয়েছে। 

‘ডেকান ক্রনিকল’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সি ৬১৫ জন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর এই গবেষণা চালানো হয়, যার মধ্যে ৩০১ জন নতুন বাতের রোগী এবং ৩১৪ জন সুস্থ ব্যক্তি অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। 

আইসিএমআর হলো বায়োমেডিকেল ও স্বাস্থ্য গবেষণার প্রণয়ন, সমন্বয় এবং প্রসারের জন্য ভারতের সর্বোচ্চ সংস্থা। 

গবেষণাটি বলছে, বাতের ব্যথা ধীরে ধীরে বিকশিত হয়। এটি খুব কমই তীব্র জয়েন্টের ব্যথা বা চলাচলে অসুবিধার মধ্য দিয়ে শুরু হয়; বরং মাঝে মধ্যে সামান্য ব্যথার মধ্য দিয়ে এর সূত্রপাত হয়, যা অনেকেই শরীরের স্বাভাবিক ক্ষয় বা ধকল বলে এড়িয়ে যান। 

তবে এই লক্ষণগুলো বারবার ফিরে এলে তা অবহেলা না করে প্রাথমিক সতর্কবার্তা হিসেবে চিনে রাখা জরুরি। 

গবেষণায় দেখা গেছে, যারা বাতের ব্যথায় আক্রান্ত, তাদের খাদ্যাভ্যাস সুস্থ ব্যক্তিদের তুলনায় অনেক কম বৈচিত্র্যময় এবং সেখানে পুষ্টি উপাদানের (মাইক্রোনিউট্রিয়েন্ট) পর্যাপ্ততার অভাব রয়েছে। 

সবচেয়ে বড় কথা হলো, তাদের খাদ্যতালিকার প্রদাহ বা ইনফ্লেমেশন বাড়িয়ে তোলার ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। 

এই গবেষণায় মূলত ‘ডায়েটারি ইনফ্লেমেটরি ইনডেক্স’ (ডিআইআই) ব্যবহার করা হয়, যা মানুষের খাবারের প্রদাহজনিত ক্ষমতা পরিমাপ করে। এতে দেখা গেছে, বাতের ব্যথায় আক্রান্তদের মাঝারি ডিআইআই স্কোর ছিল ২.১৮, যেখানে সুস্থ ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে ছিল মাত্র ০.৩৭। 

মেয়ো ক্লিনিকের মতে, এটি একটি দীর্ঘস্থায়ী ও সিস্টেমিক অটোইমিউন রোগ, যেখানে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ভুলবশত জোড়ের আস্তরণ বা সাইনোভিয়াম আক্রমণ করে। এর ফলে সেখানে বেদনাদায়ক প্রদাহ, ফোলাভাব এবং আড়ষ্টতা সৃষ্টি হয়। 

প্রাথমিক সতর্কতা লক্ষণসমূহ 

নয়াদিল্লির মনিপাল হসপিটালের বোন অ্যান্ড জয়েন্টস ইনস্টিটিউটের চেয়ারম্যান ড. রাজীব ভার্মা বাতের ব্যথার কিছু প্রাথমিক লক্ষণ চেনার ওপর জোর দিয়েছেন, যা সময়মতো শনাক্ত করলে দৈনন্দিন চলাফেরা ও জীবনযাত্রার মান সুরক্ষিত রাখা সম্ভব। 

সকালে জোড়ে আড়ষ্টতা: 

ঘুম থেকে ওঠার পর মনে হয়, জয়েন্টগুলো যেন শক্ত বা আটকে আছে। শরীর স্বাভাবিক হতে সাধারণত ৩০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা সময় লাগে। তবে প্রতিদিন সকালে এটি ঘটলে অর্থোপেডিক বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। 

নড়াচড়ার সময় দীর্ঘস্থায়ী জয়েন্টে ব্যথা: 

সিঁড়ি দিয়ে ওঠা, কোনো কিছু আঁকড়ে ধরা বা নিচু হওয়ার সময় অস্বস্তি হতে পারে। প্রথমে বিশ্রামে ব্যথা কমলেও সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা স্থায়ী হতে শুরু করে। 

জয়েন্টের চারপাশে ফোলাভাব: 

প্রদাহের কারণে জয়েন্টের ভেতরে তরল জমে হালকা ফোলাভাব দেখা দেয়। জায়গাটি ফোলা বা স্পর্শ করলে উষ্ণ মনে হতে পারে।

চলাফেরার ক্ষমতা কমে যাওয়া: 

অতীতে যে জয়েন্ট সহজে নড়াচড়া করত, তা শক্ত বা সীমিত মনে হতে পারে। হাত ওপরে তোলা বা হাঁটু পুরোপুরি সোজা করার মতো কাজগুলো কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। 

ঘর্ষণ বা শব্দ হওয়া: 

নড়াচড়ার সময় খসখসে ভাব বা ঘর্ষণের অনুভূতি হতে পারে। ব্যথাহীন বিক্ষিপ্ত শব্দ চিন্তার বিষয় না হলেও, ব্যথ বা ফোলাভাবের সঙ্গে এমন ঘর্ষণ তরুণাস্থি নষ্ট হওয়ার জোরালো লক্ষণ।