সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় দুর্বৃত্তদের হামলায় বদরুল আলম (৪০) নামে এক যুবদল নেতা নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তার সহযোগী ছাদেক আহমদ (৩৫) গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টার দিকে উপজেলার গুরাগ্রাম এলাকার দীঘি সংলগ্ন স্থানে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
নিহত বদরুল আলম গোয়াইনঘাট উপজেলার রুস্তুমপুর ইউনিয়নের হাদারপার গ্রামের মাওলানা তজমুল ইসলামের ছেলে। আহত ছাদেক আহমদ একই ইউনিয়নের লামাহাদার গ্রামের মৃত আব্দুল মনাফের ছেলে।
নিহত বদরুল আলমের ভাই মাওলানা আখলাকুল আম্বিয়া ও আহত ছাদেক আহমদের বরাত দিয়ে জানা যায়, শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে মোটরসাইকেলযোগে পশ্চিম জাফলং ইউনিয়নের মনরতল বাজারে যান বদরুল ও ছাদেক। তাদের সঙ্গে নগদ ৩০ লাখ টাকা ছিল। ব্যবসায়িক কাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে গুরাগ্রামের দীঘি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছালে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ১৫-১৬ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, রুস্তুমপুর ইউনিয়নের গুরাগ্রাম গ্রামের ময়বুর রহমানের ছেলে শাহীন আহমদ ও মামুন মিয়া এবং উপর গ্রামের আব্দুস শহিদ আহমদের ছেলে নোমান আহমদের নেতৃত্বে হামলাটি চালানো হয়। এ সময় হামলাকারীরা তাদের কাছ থেকে নগদ ৩০ লাখ টাকা ও ২৯টি গরু ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা।
হামলায় ধারালো রামদা ও ছোরার আঘাতে বদরুল আলম ও ছাদেক আহমদ গুরুতর আহত হন। হামলাকারীরা তাদের মৃত ভেবে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে বলে স্বজনদের দাবি।
রোববার (১১ অক্টোবর) ভোরে পথচারীদের মাধ্যমে স্বজনরা তাদের আহত হওয়ার খবর পান। পরে তাদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক বদরুল আলমকে মৃত ঘোষণা করেন। অপরদিকে, গুরুতর আহত ছাদেক আহমদ সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন গোয়াইনঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওমর ফারুক। তিনি জানান, দুর্বৃত্তদের হামলায় বদরুল আলম নিহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যে গুরাগ্রামের ময়বুর রহমানের ছেলে শাহীন ও তুহিনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারে গোয়াইনঘাট থানা পুলিশ কাজ করছে।
উল্লেখ্য, নিহত বদরুল আলম দীর্ঘদিন ধরে গোয়াইনঘাট উপজেলা যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
আইটি ল্যাব সলিউশন্স লি.