প্রকাশিত: ১০ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:৪৮ (সোমবার)
বিএনপি ইতিহাসে গাদ্দার হিসেবে চিহ্নিত হবে: হবিগঞ্জে মামুনুল হক

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, বিএনপি জাতির সঙ্গে বেইমানি করতে ছয় মিনিটও সময় নেয় না। সংবিধান সংস্কারের অঙ্গীকার বাস্তবায়ন না করলে বিএনপি ইতিহাসে গাদ্দার হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে।

শনিবার (১০ অক্টোবর) দুপুরে হবিগঞ্জ শহরের নিউ ফিল্ড মাঠে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হবিগঞ্জ জেলা শাখা আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, তেল-গ্যাস-বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির প্রতিবাদে এ সমাবেশের আয়োজন করা হয়।

মামুনুল হক বলেন, “আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলছি, সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করুন। জাতীয় ঐকমত্য কমিশনে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে করা অঙ্গীকারের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার করুন। বাংলাদেশ থেকে বৈষম্য ও ফ্যাসিবাদের পথ বন্ধ করুন। তাহলে পাঁচ বছর পর্যন্ত আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে কোনো আন্দোলন করব না।”

তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বৈষম্য, ফ্যাসিবাদ ও চাঁদাবাজি বন্ধ না হলে আন্দোলন থামবে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সারের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাত বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে দেশ ধ্বংসের ষড়যন্ত্র বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় আন্দোলন ধীরে ধীরে আরও তীব্র হবে।

গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার সমালোচনা করে খেলাফত মজলিসের আমির বলেন, সরকার সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছে, কিন্তু গণভোটের রায় বাস্তবায়নের বিষয়ে শপথ নেয়নি। তাঁর দাবি, সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে, একই নির্বাচন কমিশনের অধীনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এবং একই সময়ে ফলাফল ঘোষণা করা হয়েছে। সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৫০ শতাংশ ভোট পেয়েছে, আর গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট পড়েছে ৭০ শতাংশ। অথচ ক্ষমতায় যাওয়ার পর সরকারের পক্ষ থেকে গণভোটের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে।

তিনি বলেন, জুলাই বিপ্লবের উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে তাঁরা অব্যাহতভাবে কাজ করছেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে দীর্ঘ নয় মাসে ৩৩টি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের ৮৩টি অধিবেশনে তাঁদের প্রতিনিধিরা অংশ নিয়েছেন। এসব আলোচনার ভিত্তিতেই জুলাই জাতীয় সনদ প্রণয়ন করা হয়েছিল।

জুলাই অভ্যুত্থানের লক্ষ্য তুলে ধরে মামুনুল হক বলেন, এর অন্যতম উদ্দেশ্য ছিল বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ে তোলা, যেখানে মেধার ভিত্তিতে তরুণেরা সরকারি চাকরি ও সুযোগ-সুবিধা পাবে। কোটা, দলীয় তোষামোদ কিংবা রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে চাকরি পাওয়ার সুযোগ থাকবে না। পাশাপাশি নিরপেক্ষ বিচারব্যবস্থার মাধ্যমে ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের আরেকটি প্রধান লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশ থেকে ফ্যাসিবাদের বিলুপ্তি ঘটানো, যাতে ভবিষ্যতে নতুন করে কোনো ফ্যাসিবাদের জন্ম না হয়। বৈষম্য সৃষ্টির পথ বন্ধ এবং ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই জুলাই জাতীয় সনদ তৈরি করা হয়েছে।

সরকারকে সময় দেওয়ার প্রসঙ্গে মামুনুল হক বলেন, তাঁরা সরকারকে এক বছর নয়, পাঁচ বছর সময় দিতে প্রস্তুত। সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন করার কোনো আগ্রহ তাঁদের ছিল না। দীর্ঘ ১৫ বছর শেখ হাসিনার শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রাম, কারাবাস ও নির্যাতনের মধ্য দিয়ে তাঁরা দিন কাটিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, নতুন পরিস্থিতিতে কিছুদিন বিশ্রামের সুযোগ পাবেন।

তিনি বলেন, এত রক্ত, জীবন, কান্না ও আত্মত্যাগ কোনো ফ্যাসিবাদী সরকারকে বিদায় করে নতুন আরেকটি ফ্যাসিবাদের জন্ম দেওয়ার জন্য হয়নি। শহীদ শরীফ ওসমান হাদিসহ জুলাইয়ের যোদ্ধারা এ উদ্দেশ্যে জীবন দেননি। শহীদ হাদির হত্যার বিচার দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন করতে হচ্ছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্রব্যবস্থা ও সংবিধানে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে হবে।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস হবিগঞ্জ জেলা শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুল্লাহ আকিলপুরী। সঞ্চালনা করেন জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাওলানা নোমান আহমদ সাদিক।

বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আতাউল্লাহ আমিন ও মাওলানা আব্দুল আজিজ, সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা মুহসিনুল হাসান, সংসদ সদস্য মুফতি মোহাম্মদ উল্লাহ, প্রচার সম্পাদক মাওলানা হাসান জুনাঈদ এবং কেন্দ্রীয় শুরা সদস্য মুফতি হাবিবুর রহমানসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।