প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৮:০৩ (শুক্রবার)
সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল, গ্যাস-বিদ্যুতের সহনীয় মূল্য নির্ধারণের দাবি

গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সহনীয় মূল্য নির্ধারণ, ফ্যাসিবাদ নির্মূল এবং সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবিতে সিলেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ সিলেট মহানগর শাখা।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) বাদ জুমা কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে নগরের বন্দরবাজার জামে মসজিদ প্রাঙ্গণ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি বের হয়। মিছিলটি নগরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও পয়েন্ট প্রদক্ষিণ করে কোর্ট পয়েন্টে গিয়ে সমাবেশে মিলিত হয়।

মহানগর জমিয়তের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাওলানা নিজামুদ্দিনের সভাপতিত্বে সমাবেশে প্রধান বক্তব্য দেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা আব্দুল মালেক চৌধুরী।

এ সময় বক্তব্য দেন জমিয়তের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা খলিলুর রহমান, মহানগর শাখার সহসভাপতি প্রিন্সিপাল মাওলানা মাহমুদুল হাসান ও মাওলানা মুখতার আহমদ, দক্ষিণ জেলা শাখার সহসভাপতি মাওলানা আব্দুল মুসাব্বির যামডরী, মহানগর শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা সদরুল ও হাফিজ আহমদ সগির আমকোনী।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন জালালাবাদ ইমাম সমিতির সাধারণ সম্পাদক মাওলানা হোসাইন আহমদ, সহসম্পাদক মাওলানা মুফতি মতিউর রহমান চৌধুরী, সৈয়দ সালিম কাসেমী, উত্তর জেলা জমিয়তের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান গোলাম আম্বিয়া কয়েস, শ্রমিক জমিয়তের কেন্দ্রীয় নেতা হাফিজ মাহমুদুল হাসানসহ সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দীর্ঘ লড়াই-সংগ্রামের পর দেশে নির্বাচিত সংসদ প্রতিষ্ঠিত হলেও সরকারের গণবিরোধী কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে সংসদে কার্যকর ভূমিকা দৃশ্যমান নয়। জনগণের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষায় সংসদকে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে।

তাঁরা বলেন, জনগণের ক্ষোভ ও আকাঙ্ক্ষাকে গুরুত্ব দিয়ে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম সহনীয় পর্যায়ে নির্ধারণ করতে হবে। অন্যথায় জনঅসন্তোষ আরও বাড়বে বলে হুঁশিয়ারি দেন তাঁরা।

সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়ে বক্তারা বলেন, এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারলে উন্নয়নের সব উদ্যোগ ব্যর্থ হবে। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি এবং সন্ত্রাসী ও চাঁদাবাজদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

ফ্যাসিবাদ নির্মূলের বিষয়ে তাঁরা বলেন, দেশে দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠিত ফ্যাসিবাদী ব্যবস্থার শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। ফ্যাসিবাদের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে। ফ্যাসিবাদের দোসররা এখনো বিভিন্ন স্থানে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে উল্লেখ করে তাঁদের তৎপরতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান বক্তারা।

বক্তারা আরও বলেন, পাড়া-মহল্লা ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও চাঁদাবাজি বন্ধে প্রশাসনকে কঠোর ও আপসহীন ভূমিকা পালন করতে হবে। জনগণের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের প্রধান দায়িত্ব। এ দায়িত্ব পালনে সরকারকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।