প্রকাশিত: ০৯ অক্টোবর, ২০২৬ ১৭:৪৩ (শুক্রবার)
চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বাড়াতে চুক্তি করা হয়েছে: বাণিজ্যমন্ত্রী

শুক্রবার সিলেট সিটি করপোরেশনে শারদীয় দুর্গাপূজা মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

চট্টগ্রাম বন্দরের সক্ষমতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই চুক্তি করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির উদ্দেশ্য নিয়ে (চট্টগ্রামের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনালের সক্ষমতা বৃদ্ধি) এই চুক্তিটি করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে বড় ও নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব দুবাইভিত্তিক বৈশ্বিক টার্মিনাল অপারেটর 'ডিপি ওয়ার্ল্ড’কে প্রদান করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে ১৫ বছর মেয়াদি এই কনসেশন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) । যদিও অনেকে এই চুক্তির সমালোচনা করছেন।

 

শুক্রবার (০৯ অক্টোবর) দুপুরে সিলেট সিটি করপোরেশনে শারদীয় দুর্গাপূজা মতবিনিময় ও অনুদান বিতরণ শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।

 

বিনিয়োগকারীদের নতুন বিনিয়োগকে আকৃষ্ট করতে হলে পণ্যের উৎপাদন খরচ এবং রপ্তানি খরচ পৃথিবীর অন্যান্য জায়গার তুলনায় প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে আসতে হবে। বাংলাদেশকে যদি সরকার বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার স্থানে নিয়ে যেতে না পারে, কীভাবে বিনিয়োগ আকৃষ্ট করবে, প্রশ্ন রাখেন মন্ত্রী।

তিনি বলেন, যারা বন্দরে কাজ করছে, তাদের কারও কর্মচ্যুতি ঘটবে না সরকার নিশ্চিত হয়েছে। বরং যে বেতনে কাজ পাচ্ছেন, আগামী দিনে এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধির কারণে বেনিফিটটা বাড়বে। মানে আজকে যে পারিশ্রমিক পান সেটির পরিমাণও বৃদ্ধি পাবে।

 

বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি পোশাক খাতে বাংলাদেশের অবস্থান অবনমন।  চীন বরাবরই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা ইউরোপিয়ান ইউনিয়নে প্রধানতম পোশাক রপ্তানিকারী। চীন তাদেরর অবস্থান ধরে রেখেছে। কিন্তু ভিয়েতনামের সাথে বাণিজ্য ফ্রি থাকায় ভিয়েতনাম আগেও হয়েছে কখনো কখনো পোশাক রপ্তানিতে কখনো বাংলাদেশকে ছেড়ে গিয়েছে আবার বাংলাদেশ সেই স্থান দখল করেছে। সরকার বিশ্বাস করে, আগামী দিনে পোশাক রপ্তানি কারকরা তাদের সেই অবস্থানটা আবার ফেরত নিয়ে আসবে।

 

এরআগে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সভাকক্ষে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত মতবিনিময় সভা ও অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ধর্মীয় সম্প্রীতির  অনন্য সম্পদ। পৃথিবীর অনেক বড় গণতান্ত্রিক দেশেও এ ধরনের সম্প্রীতির নজির দেখা যায় না। সব ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহাবস্থানের এই ঐতিহ্য অক্ষুণ্ন রাখতে হবে।

তিনি বলেন, সব ধর্মের মানুষ যাতে নির্বিঘ্নে নিজ নিজ ধর্মীয় উৎসব পালন করতে পারেন, সে বিষয়ে সরকার সচেষ্ট। সিলেটের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার আগে ও পরে তিনি মসজিদ, মন্দিরসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাসনালয় পরিদর্শন করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত সমস্যা সমাধানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক কাজ করছেন। সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর উন্নয়ন করা হবে।

 

দুর্গাপূজা উপলক্ষ্যে মণ্ডপগুলোতে আর্থিক অনুদান দেওয়ায় তিনি সিটি কর্পোরেশন কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানিয়ে সিলেটের উন্নয়ন পরিকল্পনা তুলে ধরেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

 

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনের ৪২টি ওয়ার্ডে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার সড়কের সাড়ে ৫০০ কিলোমিটারের উন্নয়ন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বাকিগুলোর দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। সওজের আওতাধীন সড়কগুলোরও উন্নয়নকাজ শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ও নগরের বাইরের অনেক সড়ক নির্মাণ ও সংস্কারের টেন্ডার হয়েছে, সেগুলো এই শীত থেকে কাজ হবে।

 

ক্বিনব্রিজের পাশে সুরমা নদীর ওপর আরেকটি নতুন সেতু নির্মাণ, হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের আবাসন ব্যবস্থা এবং নগরবাসীর বিশুদ্ধ পানির সংকট নিরসনে চেঙ্গেরখালের পানি শোধন করে সরবরাহের জন্য বড় প্রকল্প গ্রহণ করার কথাও জানান মন্ত্রী।

 

মন্ত্রী বলেন, চা বাগানগুলোতে স্কুল নাই । সেখানে যেন সরকারিভাবে স্কুলের নির্মাণ করা হয়। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এক নির্বাচনী আসনের মধ্যেই ১২টা চা বাগান আছে । সেজন্য আমরা একটা উদ্যোগ নিতে যাচ্ছি।

 

অনুষ্ঠানে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে উদযাপনে সিটি কর্পোরেশন, জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করছে। এ বিষয়ে যেকোনো প্রয়োজনে পূজামণ্ডপ ও মন্দির কমিটির প্রতিনিধিদের সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে যোগাযোগের আহ্বান জানান তিনি।

 

সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন। বক্তব্য দেন সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বিপিএম, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন সিস্টেম লিমিটেডের পরিচালক বদরুজ্জামান সেলিম, রামকৃষ্ণ মিশন ও আশ্রমের অধ্যক্ষ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজ, হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ট্রাস্টি সুদীপ রঞ্জন সেন বাপ্পু এবং বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সহ সভাপতি মৃত্যুঞ্জয় ধর ভোলা প্রমুখ।

 

অনুষ্ঠানে সিলেট নগরীর ৮৫টি দুর্গাপূজা মণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে ৪০ হাজার টাকা করে মোট ৩৪ লাখ টাকার অনুদান তুলে দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।